২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুতের লোকদের শীঘ্র ফেরি করে বিদ্যুত বিক্রি করতে হবে

  • লৌহজংয়ে সোলার হ্যাজাক বিতরণ অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ‘চুড়ি নেবো গো চুড়ি’ আমাদের দেশের এক শ্রেণীর লোক বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এভাবেই চুরি বিক্রি করতেন। এখন সময় এসেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের লোকজন বলবে বিদ্যুত লাগবে, বিদ্যুত। ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে চলে যাবার সময় ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রেখে গিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সাথে ক্ষমতায় এসে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পেয়েছি। গত ৭ বছরে আমরা সেই বিদ্যুত ১৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নতি করেছি। আরও বিদ্যুত আসছে ভুটান, নেপাল ও ভারত থেকে। একই সঙ্গে আমরাও দেশে পারমাণবিক ও কয়লাভিত্তিক বিদু্যুত কেন্দ্রসহ বড় বড় বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি করছি। তাই খুব শীঘ্রই ফেরি ওয়ালার মতো বিদ্যুতের লোকদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরি করে বিদ্যুত বিক্রি করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা মাঠে বিদ্যুতবিহীন বাড়িতে সোলার হ্যাজাক লাইট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এভাবেই আশার কথা শোনালেন।

মন্ত্রী বলেন, যারা আজ দেশে হত্যা, বোমাবাজি জঙ্গীবাদের পক্ষে কাজ করছে, তারা চায় বঙ্গবন্ধুর মতো তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যাতে দেশটাকে সাজাতে না পারে। দেশে জঙ্গীবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা চেয়েছিল খালেদার ছেলে দেশে ফিরে আসুক। আবার লুটতরাজ শুরু করুক। দেশটা জাহান্নামে যাক। তাঁর ছেলে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাক। আল্লাহ জালিমের দোয়া কবুল করেন না, মজলুমের দোয়া কবুল করেন। বেগম জিয়া আপনার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

জঙ্গীদের নেত্রী হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। ৯২ দিন দেশটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করার সময় রেখে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, কিছু একটু ক্ষতি তো স্বীকার করতে হয়। ওনার জান পাথরের মতো শক্ত। ছেলের লাশ দেখতে তিনি ২০ মিনিট পরে ওপর থেকে নিচে নামলেন। লাশের এক পাশে উনি অন্য পাশে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু। ছেলের মৃত্যুর তিন দিন পরও তিনি কবর জিয়ারত করতে গেলেন না। এমন কি স্বামী যে জিয়াউর রহমানের তাবিজ বিক্রি করে উনি চলেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতেও তিনি জিয়ারত করতে কবরে যাননি। তিনি প্রতীক্ষা করেছিলেন শেখ হাসিনা পতন ঘটিয়েই ঘরে ফিরবেন। উনি ঘরে ঠিকই ফিরেছেন, তবে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে পারেননি।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার আমলে জ্ঞানের আলো পেয়েছে। জানুয়ারির ১ তারিখে আমরা ছেলেমেয়েদের হাতে বই পৌঁছে দিচ্ছি। তাও তাদের ভাল লাগেনি। বিজি প্রেসে আগুন দেয়া হয়েছিল। তার পরেও আমরা বই পৌঁছে দিয়েছি। যোগাযোগ খাতে প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। কৃষি কাজে আসছে ব্যাপক সফলতা। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, মুন্সীগঞ্জে আর কৃষি কাজ থাকবে না। মুন্সীগঞ্জের এ অঞ্চল হয়ে যাবে শহর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন এ অঞ্চলকে হংকংয়ের মতো শহরে পরিণত করবেন। ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার সময় দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণকালে দেশে খাদ্য ঘাটতি আমরা পাই। গত ৭ বছরে আবার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে এখন বিদেশেও চাল রফতানি করছি। আমরা জাতিসংঘের পুরস্কার পেয়েছি। জাতিসংঘের পুরস্কার পয়সা দিয়ে কেনা যায় না। পর পর তিন বছর খাদ্য স্বয়ম্ভরতার জন্যই এ পুরস্কার আমরা পেয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা যেতে পারতাম না। সেখানে কোন তৃতীয় দেশের সহযোগিতা না নিয়ে আমরা শান্তি চুক্তি করেছি। সেখানে আজ আম ও মালটা উৎপন্ন হচ্ছে। এক সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম কাওরানবাজার দখল করে রেখেছিল। আর আজ সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের আম জায়গা করে নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ মালটা এখন ঢাকায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে সহজেই শাকসবজি ও ফলমূল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে চলে আসছে। শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষও কয়েক ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত শাকসবজি ও কৃষি পণ্যাদিও সহজেই ঢাকায় চলে আসবে পদ্মা সেতু গুণে। কিন্তু এ সকল উন্নয়ন ওনাদের ভাল লাগছে না বলেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে চায়।

মন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে বলেন, এ দেশে একটা পাপ ছিল। আমাদের ওয়াদা ছিল এই পাপীদের বিচার করা। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নিলেও বঙ্গুবন্ধুর বিচারসহ নানা কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন তা আমরা করছি।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক হুইপ ও স্থানীয় এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল, পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ফকির আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রশিদ সিকদার, লৌহজংয়ের ইউএনও মোঃ খালেকুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজনিন আক্তার স্বর্ণা।