১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আপীলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় নিজামীর মামলা ॥ কাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের আমির আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর আপীল এবং ট্রাইব্যুনালে নেত্রকোনার মুসলীম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননি ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের মামলাটি প্রায় শেষের দিকে। মৃত্যুদ- থেকে খালাস চেয়ে জামায়াত নেতা নিজামীর করা আপীল আবেদনের ওপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল ৩০ নবেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে ২ ডিসেম্বর থেকে ননী ও তাহেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষী শুরু হবে। যদি সাফাই সাক্ষী না হয় তা হলে প্রসিকিউশন পক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করতে পারেন। এদিকে আপীল বিভাগে নিজামীসহ আরও ১০টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১৭টি মামলা রয়েছে।

নিজামীর করা আপীল আবেদনের ওপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩০ নবেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপীল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এই আপীল শুনানি চলছে। নিজামীর পক্ষে তিনদিন যুক্তিতর্ক

উপস্থাপনের সময় পাবেন তার আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে আদালত ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থানের দিন ধার্য করে দেন। ৩০ নবেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনদিন আসামিপক্ষ ও ৭ ডিসেম্বর একদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ৮ ডিসেম্বর উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। যুক্তি খ-ন শেষে মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হবে।

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশ ত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আদালত সম্মত হয়েছে যে, তিনি যে মাত্রায় হত্যা, গণহত্যা ঘটিয়েছেন, তাতে সর্বোচ্চ সাজা না দিলে তা হবে ন্যায় বিচারের ব্যর্থতা।’

পরে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আপীল করা হয়। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেশ করে তাতে ১৬৮টি কারণ উল্লেখ করে দ- থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপীলটি দাখিল করেন। ১২১ পৃষ্ঠায় মূল আপীল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। মূল আপীলে ১৬৮টি গ্রাউন্ড পেশ করে দ- থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া ৫, ৯, ১০ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি (খালাস) দেয়া হয়।

ননী-তাহের ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার মুসলীম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননি ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সর্বশেষ ২৩তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজাহান কবিরের জবানবন্দী ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দিন যদি সাফাই সাক্ষী হয় তা হলে প্রসিকিউশন পক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করতে পারেন।

নেত্রকোনার এ দুই আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। ১২ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এ দুই আসামিকে গ্রেফতারের পরদিন ১৩ আগস্ট তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৫ নবেম্বর একটি মামলার আসামি ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের মোট ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার ৪টি অভিযোগ থেকে প্রসিকিউশন যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ৬টি অভিযোগ দাখিল করেন।

নির্বাচিত সংবাদ