১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনলাইন ব্যবসায়ে ধস

  • তানজিনা আক্তার ষ

সবে জমজমাট হয়ে উঠছিল অনলাইন ব্যবসায়। হঠাৎ এক হোঁচটে এলোমেলো হয়ে গেল সব। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সরকার সপ্তাহ কালাধিক সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের মতো আরও অনেক মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু এরই মধ্যে লোকসানের ঘানি টানতে হচ্ছে অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসহ অনলাইননির্ভর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন বেঁচাকেনার সাইটে ভিজিট করেন। কিন্তু এখন ফেসবুক বন্ধ থাকায় বেচাকেনা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম নেমে এসেছে। ফেসবুক ই-কর্মাস সাইটগুলোর বিজ্ঞাপনের বড় এক মাধ্যমে পরিণত হয়েছিল। এখন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে না পারায় বিক্রি কমে গেছে ভীষণ রকমের। এ বিষয়ের ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুক বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা সত্তর থেকে আশি ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ফেসবুকের কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।’

দেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এককোটি সত্তর লাখ। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে প্রচারণার সহজ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুককে ব্যবহার করে যারা ব্যবসায়ে নেমেছিলেন তাদের সবারই ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। বিশেষ করে দেশের উদীয়মান থ্রিজি নেটওয়ার্কের ব্যবসা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চারশ’ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো, তা এখন তিনশরও নিচে নেমে এসেছে। ফেসবুক বন্ধ থাকায় ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রায় ত্রিশ শতাংশ কমে যাওয়ায় ব্যান্ডউইথ ব্যবহারও কমে গেছে।

ফ্রিল্যান্সাররাও বড় বিপাকে পড়ে গেছেন। দেশের প্রায় চার লক্ষাধিক ছেলেমেয়ে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সাধারণত তারা কাজ নিয়ে থাকেন বায়ারের কাছ থেকে। শুধু কাজ নেয়াই নয়, বায়ারদের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগও করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো দিয়ে। কিন্তু এখন এগুলো বন্ধ থাকায় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেকে বিকল্প সাইট ব্যবহার করে ফেসবুকে ঢুকলেও আশানুরূপ কাজ নিতে পারছেন না। বিদেশী অর্ডারের সংখ্যা কমে ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পর্যটন কেন্দ্র, ফ্যাশন হাউস, বুটিক হাউস, গিফট শপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বিপণনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল ফেসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। কিন্তু এখন এগুলো বন্ধ থাকায় এদের বেচাবিক্রি একেবারেই কমে গেছে। মোদ্দা কথা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে যেসব অনলাইন ব্যবসায় গড়ে উঠেছিল, তাদের সবারই ব্যবসায়ে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে এই হঠাৎ করে সরকার কর্তৃক এগুলো বন্ধ করে দেয়ায়। অতি শীঘ্রই এই মাধ্যমগুলো চালু না করলে সম্ভাবনাময় এই খাতটি মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।