২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কট কাটানোর চেষ্টায় জাপান

বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে জাপানের অর্থনীতি মন্দার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য নিত্যনতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সরকার। কিন্তু মন্দার হাওয়া থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না। তারপরেও চেষ্টার কমতি নেই আবের সরকারের। থেমে থাকা অর্থনীতিকে সচল করতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো, ন্যূনতম মজুরি তিন শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা।

গত অর্থবছরে দেশটির ন্যূনতম গড় মজুরি ছিল ঘণ্টা প্রতি ছয় দশমিক তেত্রিশ ডলার। জাপানে ন্যূনতম মজুরি কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। তবে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এমনকি তিন শতাংশ মজুরি বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃদ্ধিও সন্তুষ্ট করতে পারেনি শ্রমিক সংগঠনগুলোকে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার এবং বিগত পনেরো বছরের সঙ্কোচন থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলার জন্য মজুরি আরও বৃদ্ধি করতে ভোক্তা ব্যয়কে উৎসাহিত করা জরুরী কিন্তু এই হারে মজুরি বৃদ্ধি সেই লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে আবের সরকার ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাদের ব্যয়কে উৎসাহিত করতে অবসর ভাতার পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়ারও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তাছাড়া সরকার ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করতে নিয়মনীতি শিথিল করারও পরিকল্পনা নিয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্পোরেট করের হার ত্রিশ শতাংশের নিচে নামানোরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব পরিকল্পনা সাময়িক সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করেন ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জাপানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ মার্চেল থিলিয়াঁ। তিনি বলেন, ‘সরকারের নেয়া এসব পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদী প্রণোদনা। কিন্তু এখন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের চেয়েও কাঠামোগত সংস্কার বেশি জরুরী। এই পরিকল্পনা দিয়ে আগামী দু-এক বছরের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে তেমন শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যাবে না।’ মার্চেল থিলিয়াঁর মতো বেশিরভাগ বিশ্লেষকই আবে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার সাফল্য নিয়ে বেশিরভাগ সন্দিহান। ইতোমধ্যে অর্থনীতিকে টেনে তোলার সামর্থ্য প্রমাণের চাপে পড়েছে শিনজো আবের সরকার।