২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়পুরহাটের মুরগির খামারে বিপ্লব

  • তপন কুমার খাঁ ষ

জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ পাট ও সবজি খ্যাত এলাকা হলেও দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে সরকারী হাঁস-মুরগির খামারের কারণে। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালগঞ্জ হাঁস-মুরগি খামারটি এলাকার আমিষ জাতীয় খাবারের প্রধান সরবরাহকারক। জেলা শহর থেকে বারো কিলোমিটার দক্ষিণে ত্রিশ বিঘার অধিক জমি নিয়ে হাঁস-মুরগির খামারটি বর্তমানে শুধুমাত্র মুরগির খামার হিসাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বার্ড ফ্লুর কারণে একই ক্যাম্পাসে হাঁস-মুরগি রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ১৯৮৩ সাল থেকে হাঁসের খামারটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে মোট বারো শেডে মুরগি রাখা হচ্ছে। জামালগঞ্জ খামারের ডিম ও মুরগির গুণগত মান উন্নত হওয়ায় জয়পুরহাট জেলায় ৩৭টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে গ্রামে গ্রামে আরো অনেক খামার গড়ে ওঠেছে। এসব মুরগি খামার থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মুরগি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

জামালগঞ্জ মুরগির খামারটি এককভাবে জয়পুরহাট জেলায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। জয়পুরহাট এখন পোল্ট্রি জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই খামার থেকে প্রতিমাসে ৭০ হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। জয়পুরহাটে মুরগির খামারের জন্য গড়ে ওঠেছে নয়টি ফিড মিল যা থেকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টন পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। জামালগঞ্জ হাঁস-মুরগি খামারের সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ আলমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জয়পুরহাট জেলায় বর্তমানে মুরগির যে চাহিদা তা পূরণ করছে জয়পুরহাট জেলার মুরগির খামারগুলো। জয়পুরহাটে মুরগির ব্যবসার প্রতি জনগণের বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় চলমান ৩৭টি হ্যাচারির পাশাপাশি আরও ১৫টি নতুন হ্যাচারি চালু হওয়ার পথে। বর্তমানে ৩৭ হ্যাচারি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে। শ্রী ফনিভূষণ ব্যানার্জী থেকে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক পর্যন্ত ২৯ জন কর্মকর্তা ৭৭ বছর ধরে জামালগঞ্জ হাঁস-মুরগি খামারের তত্ত্বাবধান সঠিকভাবে করায় বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা পোল্ট্রি জোন হিসেবে খ্যাত হয়েছে।

এই খামারকে ঘিরে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। একইসঙ্গে জেলায় আমিষের চাহিদা পূরণে মুখ্য ভূমিকা রাখছে এই খামার। ব্যাংক ঋণের সুবিধা নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা যেমন খামার হ্যাচারি গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি গ্রামীণ পরিসরে পারিবারিকভাবেই এসএমই লোনের মাধ্যমে মুরগি পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই খামার থেকে ফাউমি জাতের মুরগির সঙ্গে আরআইআর মোরগের মিলনের মাধ্যমে সোনালি জাতের মুরগি উৎপাদন করায় মুরগির উৎপাদন বেড়ে গেছে বহুগুণ। সরকারীভাবে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেয়া হলে জয়পুরহাটে মুরগির ব্যবসায় একটি মাইলফলক তৈরি করবে বলে মনে করেন খামারিরা। তারা মনে করেন, সরকারী উদ্যোগে ব্যাংক ঋণ আরও সহজলভ্য হলে জয়পুরহাটের মুরগি খামার দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।

চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে দেশের মাছ ও সবজি চাষীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এ সমস্যা নিরসনে দরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজার ব্যবস্থা। এমনটাই বলছেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। তাঁর মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো হলে বড় উদ্যোক্তারা কৃষকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবে। এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হবে।

চাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি

দেশ খাদ্যে স্বয়সম্পূর্ণ। চাল নেপালে রফতানিও করা হচ্ছে। তবু ব্যবসায়ীরা অতি লাভের জন্য চাল আমদানি করে চলছেন। ব্যবসায়ীদের এই প্রবণতা ঠেকাতেই বিশ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এর আগে শুল্ক শূন্য থেকে দশ শতাংশ করা হয়েছিল চাল আমদানি ঠেকাতে। কিন্তু তাতে লাভ না হওয়ায় শুল্ক বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

লেদারটেক ফেয়ার

চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় ট্রেড শো ‘তৃতীয় লেদারটেক বাংলাদেশ-২০১৫’ শেষ হয়েছে গতকাল। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলা আয়োজিত হয় বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। এতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, তুরস্ক, মিসর, শ্রীলংকা, ইতালি, সিংগাপুর, জাপান, তাইওয়ান, হংকংসহ মোট ১৩ দেশের ৩০টি প্যাভিলিয়নসহ ১৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।