১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস মুক্ত সিরীয় শহরে মুক্তির আনন্দ

  • জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলহোল শহর থেকে জঙ্গী গ্রুপ আইএসকে হটিয়ে দেয়ার পর শহরের বাসিন্দারা এখন মুক্তির আস্বাদ নিচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় কুর্দি ও আরব যোদ্ধারা ১২ নবেম্বর শহরটি থেকে আইএসকে উচ্ছেদ করে। এরপর সেখানে জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। খবর এএফপির।

আলহোল শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। সিরিয়া ও ইরাকের আরও সেসব জায়গা আইএস নিজেদের দখলে রেখেছে তার মধ্যে যোগাযোগ রুটের ধারে এই শহরের অবস্থান। শহরে বসবাসকারী হামদান আহমেদ নামে একব্যক্তি জানাচ্ছেন, তার মেয়ে এখন সাজগোজ করতে এবং মেকআপ নিতে পারছে। আইএস থাকলে এটি সম্ভব ছিল না। কারণ আইএস ইসলামের যে কঠোর ব্যাখ্যা সবাইকে মানতে বাধ্য করত তাতে অনেক কিছুই নিষিদ্ধ ছিল। ৩৯ বছর বয়সী আহমেদ বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ এখন আমরা আর তাদের (আইএস) দেখতে পাচ্ছি না। আইএস নারীদের সারা শরীর ঢেকে রাখতে এবং পুরুষদের দাড়ি রাখতে বাধ্য করেছিল। সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশ জারি করেছিল। অন্যথায় তাদের চাবুক দিয়ে পেটানো হতো। প্রায় দুটি বছর তাদের এমন অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।

আহমেদ যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তার মাটির তৈরি বাড়ির আঙ্গিনায় মেষগুলোকে তখন খাবার দিচ্ছিলেন তার স্ত্রী মরিয়াম (৪২)। মরিয়াম বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমরা বাড়িঘর ফেলে রেখে গিয়েছিলাম। মেষগুলোকে খাওয়ানোর মতো এখন আর তেমন কিছুই নেই। যে ডাল ও আটা আমরা ফেলে রেখে গিয়েছিলাম সেগুলো এখন আর খাওয়ার উপযুক্ত নেই।’

যদিও লড়াই করে আইএসকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে কিন্তু মরিয়ামের আশঙ্কা তারা আবার ফিরে আসতে পারে। আগন্তুক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় মাথা ও মুখ ঢেকে রাখার নির্দেশ ফের জারি হতে পারে। মরিয়াম অবশ্য লম্বা রঙিন জামা পরেছেন যেটি রক্ষণশীল প্রভাবিত ওই অঞ্চলটির জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু আইএস সেখানে অনেক বেশি কঠোরতা আরোপ করেছিল। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনের ওপরই নির্ভরশীল। আইএস চলে যাওয়ার পর লোকজন নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে শুরু করেছে। তারা আবার আগেকার জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। হামিদ নাসের নামে ৪৪ বছর বয়সী আরেকজন বলছেন, ‘গত দুই বছর আমি নিজের জমিতে চাষ করার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারিনি। আমার জমিজমা দায়েশের (আইএসের আরবি সংক্ষিপ্ত নাম) দখলে চলে গিয়েছিল। নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম আমরা।’ আলহোল শহর ও এর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশনস ইউনিটসের এবং আরব ও খ্রীস্টান বাহিনীগুলোর জন্য প্রথম বড় ধরনের সাফল্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আকাশ থেকে অস্ত্র ফেলে ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন বাহিনী তাদের সহায়তা করেছে। আরও ২শ’ শহর ও গ্রাম আইএস মুক্ত করা এখন তাদের লক্ষ্য।