১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোচ মারুফের লক্ষ্য সাফ শিরোপা

  • বাফুফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য প্রতিটি কোচেরই একটা লক্ষ্য-স্বপ্ন থাকে। আর সে যদি স্বদেশী হয় তাহলে আমি মনে করি এটা তার একটা পবিত্র দায়িত্ব। আমাকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যে দায়িত্ব দিয়েছে এটাকে হেফাজত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমার নিজের। এজন্য আমি বাফুফেকে ধন্যবাদ জানাই এই জন্য যে, ওনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি আমার ক্ষুদ্র কোচিং জ্ঞান এবং আমার যে অভিজ্ঞতা আছে পুরোটা দিয়ে চেষ্টা করব যেন সাফে আমাদের রেজাল্ট ভাল হয়।’ শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কনফারেন্স রুমে বসে কথাগুলো বলেন মারুফুল হক। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো দেশীয় কোচ মারুফুল হকের। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচকে পরিচয় করিয়ে দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই সঙ্গে ঘোষণা করা হয় ২৮ সদস্যের সাফের প্রাথমিক দল। মারুফুলকে আপাতত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাফের পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করার সুযোগ থাকছে। শনিবার বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের দুই কোচকে পরিচয় করিয়ে দেন ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের সব থেকে বেশি আশাআকাক্সক্ষা থাকে সাফ নিয়ে। গত কয়েকটি আসরে আশাহত হয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা এটি যেন কাটিয়ে উঠতে পারি। সেজন্যই মারুফুল হককে দায়িত্ব দেয়া।’

ফ্যাবিও লোপেজকে বরখাস্ত করার পর তার স্থলে মারুফুলকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মাঠে গড়াতে বাকি একমাসেরও কম সময়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সাফ জয়ের স্বপ্নটাকে মারুফুল নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তার সঙ্গে কোচ হিসেবে থাকছেন গঞ্জালো সানচেজ মোরেনো এবং সহকারী হিসেবে স্থানীয় কোচ জুলফিকার আলি মিন্টু। লোপেজকে বাদ দিলেও তার সঙ্গের দুই সহকারী ইতালিয়ানকে রাখতে চেয়েছিল বাফুফে। কিন্তু তারা থাকতে রাজি হননি। তাই ফিটনেস কোচের অভাবে কোন সমস্যায় পড়তে হবে কিনা মারুফুলকে? মারুফুল জানান, ‘আমার এএফসি ফিটনেস ট্রেনিংয়ের কোচিং করা আছে তাই কোন সমস্যা হবে না।’ তার মানে বাফুফে মারুফুলের ভেতর ‘একের ভেতর দুই পেয়ে গেল!’

সাফে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। বিগত কয়েক আসরে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সাফল্য নেই। তাই গত কয়েকদিন এই দুইদলকে নিয়ে হোমওয়ার্ক করেছেন মারুফুল, ‘তাদের ম্যাচ ভিডিওগুলো দেখেছি। সেখানে দেখেছি তাদের সঙ্গে আমাদের খুব একটা পার্থক্য নেই। তবে পার্থক্য আছে মানসিকতায়। হাতে আছে ২১ দিন। এই দিনগুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারলে এবং তাদের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাতে পারলে তাহলে এই পার্থক্যটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’ জাহিদ এবং জুয়েল প্রসঙ্গে মারুফুল বলেন, ‘জাহিদ চট্টগ্রামে শেখ কামাল টুর্নামেন্টে খেলার সময় চোট পেয়েছিল। সেটা সে রিকভারি করে মাঠে ফিরেছে এবং জিম করছে। আর জুয়েল রানা গত দু’দিন আমার সঙ্গে বুয়েট মাঠে ট্রেনিং করেছে। আশাকরি তাদের আমি পাব, যদি শেষ পর্যন্ত ওরা ফিট থাকে। আশাকরি ভাল একটা কম্বিনেশন তৈরি করতে পারব।’

নিজের কোচিং দর্শন এবং লোপেজের কোচিং স্টাইল প্রসঙ্গে মারুফুল বলেন, ‘একেক কোচের দর্শন একেক রকম থাকে, আমার আগে যিনি ছিলেন ওনার দর্শন কি ছিল তা সবাই দেখেছে এবং প্লেয়াররাও তা বুঝতে পেরেছে। আসলে আমাদের খেলোয়াড়রা ওইভাবে বড় হয়নি। একটা নির্দিষ্ট গ-ির ভেতরে থেকেই বড় হয়েছে। তাদের টেকটিক্যাল ইন্টেলেজিসি এবং যে রকম টেকনিক থাকার দরকার ছিল সে পরিমাণ নেই। সেক্ষেত্রে হয়তো দেখা যায় পজিশন চেঞ্জ করার পরে ওই প্লেয়ারটার মোটিভেশন একবারে জিরো লেভেলে চলে যায় এবং আবার যখন ওই প্লেয়ারটাকে তার আগের পজিশনে ফেরানো হয় তখন দেখা যায় তার মোটিভেশনটা হান্ড্রেডের থেকে বেশি হয়। আর খেলোয়াড়দের যে মানসিক সমস্যা আছে আমি যেদিন থেকে কাজ শুরু করব সেদিন থেকে ফিজিক্যাল স্কিলের সঙ্গে সঙ্গে যদি মেন্টাল স্কিলও শুরু করি আশাকরি তা ওভারকাম করা সম্ভব।’ স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো এতদিন কাজ করেছেন বাফুফের ইয়ুথ লেভেলের কোচ হিসেবে। জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত জাতীয় দলে কাজ করতে পেরে। আশা করছি একসঙ্গে কাজ করে সাফে ভাল করতে পারবো।’

২০০৩ সালে জর্জ কোটানের কোচিংয়ে সাফে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, মারুফুলের হাত ধরে এক যুগের অধরা স্বপ্ন সাফের শিরোপা আবারও ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারে কিনা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।