২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সীতাকুণ্ডে ছাত্র সাগর হত্যায় খুনীদের ফাঁসি দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সীতাকু-, চট্টগ্রাম, ২৮ নবেম্বর ॥ খুলনার রাকিব, সিলেটের রাজন হত্যার বিচার যেভাবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হয়েছে। সেরূপ সাগর হত্যাকারীদের বিচার ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবিতে মানববন্ধন করেছে মাদামবিবির হাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা। গত শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদামবিবির হাটে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন তারা অংশ নেয়।

জানা যায়, উপজেলার মাদামবিবির হাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল মোতালেব ওরফে সাগর ভাটিয়ারী এলাকার পূর্ব হাসনাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ আকবরের ছেলে। ২৫ নবেম্বর ২০১৩ সালের পরীক্ষার শেষ বাড়ি ফিরে পার্শ্ববর্তী রেল স্টেশন এলাকায় খেলতে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় ফিরে না আসায় তার বাবা সীতাকু- থানায় ১টি নিখোঁজ ডায়েরি করে। ২৫/১১/২০১৩। রাতে জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি মামলার ১নং আসামি হোসাইন মোবাইলে সাগরের মায়ের কাছে বিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ফের ৩ ডিসেম্বর পুনরায় মোবাইল করে ১ লাখ টাকা নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে মুরাদপুরে আসার জন্য সাগরের বাবাকে বলে। সাগরের মা-বাবা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশের পরামর্শ মোতাবেক পুলিশসহ টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে অপহরণকরীরা সাগরের মা-বাবা থেকে এক লাখ টাকা কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সাগরের আত্মীয় জনৈকা রাশেদা নিজের পরিচয় গোপন করে মূল অপহরণকারী হোসাইনের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের অভিনয় করে সম্পর্ক গড়ে তুলে। একপর্যায়ে সন্দ¦ীপের রাশেদার সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য ভাটিয়ারী ছোঁয়াখালী ঘাটে আসে মূল অপহরণকারী। রাশেদা বোট হতে নেমে হোসাইনের সঙ্গে সাক্ষাত করার সময় আগে থেকেই অপেক্ষারত সাগরের আত্মীয়স্বজনরা মূল অপহরণকারী হোসাইন ও তার সহযোগী হারুনকে হাতে নাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। অপহরণকারীরা সহযোগী হিসেবে ভাটিয়ারী এলাকার নাছিরের ছেলে রাজু, দুলালের ছেলে নাজমুল জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ রাজুসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনিছ আল মাহমুদ আসামিদের রিমান্ডে নিয়েও কোন তথ্য বের করতে সক্ষম না হওয়ায় বাদীর আবেদনে মামলাটি সীতাকু- থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মঞ্জুর আলম বলেন, জবানবন্দীতে আকিব উল্লেখ করেন ১নং আসামি নবী তাকে জানান, ভাটিয়ারী থেকে শিপ কোম্পানির একটি ছেলেকে অপহরণ করলে ২০ লাখ টাকার মুক্তিপণ আদায় করা যাবে। সে মোতাবেক সাগরকে নবীসহ এজাহাভুক্ত ৫ আসামি অপহরণ করে নিয়ে যায় চন্দনাইশে আকিবের কাছে। আকিব সাগরকে জিজ্ঞাসা করলে সাগর তার প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার বাবা রাজমিস্ত্রি। এই কথা শুনে আকিব নবীকে বলেন সাগরকে তার বাবার কাছে ফেরত দিয়ে আসতে। উত্তরে নবী বলে, সাগরকে ফিরিয়ে দিলে আমাদের পরবর্তী অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। পরে রাতে সাগরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

নির্বাচিত সংবাদ