২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঋণ নয় ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্যারিস সম্মেলনে যান

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পরিবেশবাদীদের আহ্বান ॥ ঢাকায় গণপদযাত্রা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ পরিবেশ দূষণ রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি শুধু একদিনের প্রতিবাদ নয়, এ প্রতিবাদ প্রতিদিনের। আমাদের কেউ বাঁচিয়ে দেবে না, আমাদের বাঁচা আমাদের নিজেদের হাতে রয়েছে। তাই বাঁচতে হলে কাজ করতে হবে, সবার মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই বৈশ্বিক উষ্ণতার সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ হয়ত রক্ষা পেতে পারে। আমাদের দায়িত্ব একসঙ্গে কাজ করা, প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবেলার জন্যও সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈশ্বিক জলবায়ু গণপদযাত্রা কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে সমাজের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যারিস সম্মেলন (কপ-২১) শুরুর আগে শনিবার বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। গণপদযাত্রা উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। পদযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর, শিক্ষা অধিকার চত্বর (হাইকোর্ট মোড়), মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এদিন ঢাকাসহ সারাদেশের ৩০ অঞ্চলে প্রায় দুই শতাধিক সংগঠন এ পদযাত্রায় সংহতি জানিয়ে কর্মসূচী পালন করেছে।

এ সময় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাপার সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধুরী, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাবি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারপার্সন মাহবুবা নাসরিন, গণপদযাত্রার সমন্বয়ক শরীফ জামিল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, বেন অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান, নটরডেম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক জ্যোতি এফ গোমেজ প্রমুখ।

কর্মসূচীর প্রথম পর্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের প্রভাব বিষয়ে বক্তৃতা করেন নটরডেম কলেজের ছাত্র অদ্রি ইসলাম ও ভিকারুননিসা স্কুল এ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মেহেরুন নাহার মৌরী। এরপর উদীচী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পদযাত্রা শুরুর আগে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় কপ-১৭ তে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ’১৫ সালে ফ্রান্সে কপ-২১ এ আইনী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ও সকলের মেনে চলার জন্য একটি কাক্সিক্ষত চুক্তি হবে, যা ‘প্যারিস প্রটোকল’ নামে অভিহিত হবে। এ জন্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় ঋণ নয়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে এবং পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, শত্রু শত্রুর কাছে জয়ী হওয়ার জন্য যেভাবে লড়াই করে, মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে জয়ী হওয়ার জন্য সেরূপ লড়াই করেছে, প্রকৃতির কাছ থেকে সর্বোচ্চটি আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করেছে। রবীন্দ্রনাথের একটি সুন্দর কথা আছে। যন্ত্র সভ্যতার একটি বিষদাঁত আছে আর এ বিষদাঁতের নাম লোভ। এই লোভে উন্মত্ত মানুষ ক্রমাগতভাবে পরিবেশ দূষণ করে, গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে পৃথিবীকে উষ্ণ করে চলেছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাপার সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমরা যে যেখানে যে অবস্থানে আছি, সবাই যদি সেই অবস্থান থেকে কাজ করি তাহলে পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব।