২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ঘোষণার দাবি সন্তু লারমার

  • পার্বত্য শান্তিচুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শান্তিচুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে অচিরেই সময়সূচীভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা। ১৮ বছরেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি- অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, শান্তি চুক্তিবিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জুম্ম জনগণের প্রতিরোধ আন্দোলন নস্যাত করার জন্য সরকার প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং নিরাপত্তার নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি করে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে আন্দোলন গড়ে তুলতে সমিতির তরফে দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল-সংগঠন ও সমাজের প্রতি আহ্বান জানান সন্তু লারমা।

শনিবার রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এই দাবি ও অভিযোগ জানান তিনি। জনসংহতি সমিতির সভাপতির দাবিগুলোর মধ্যে আছে- আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সকল বিষয় কার্যকর করা, অপারেশন উত্তরণসহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার, জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ, ‘সেটেলার বাঙালীদের’ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ২ ডিসেম্বর বুধবার রাঙামাটি জিমন্যাসিয়াম প্রাঙ্গণে গণসমাবেশ করবে জনসংহতি সমিতি। সমাবেশ থেকে গত বছরের ১ মে থেকে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে সরকারকে সতর্ক করে সন্তু লারমা বলেন, জুম্ম জনগণ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে আত্মবলিদানে ভীত নয়। তারা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বদ্ধপরিকর। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হতে পারে। এজন্য যে কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য সরকার তথা শাসকগোষ্ঠীই দায়ী থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে এই আদিবাসী নেতা বলেন, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফাভাবে ২০১৪ সালে আইন সংশোধন করে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১৫ জনে বৃদ্ধি করেছে। এসব পদে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের নিতেও বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশেই ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যেসব বিষয় বাস্তবায়িত হয়নি তার বিবরণ’ সংবলিত ১৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং সহায়ক দলিল হিসেবে ১৬টি পরিশিষ্ট সংযুক্ত করে গত ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সরকার দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত ৭২টির মধ্যে ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অধিকার, ভূমি ও অর্থনৈতিক অধিকার এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ ১৮ বছরেও নেয়া হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারই যেহেতু ’৯৭-এর শান্তি চুক্তি করেছে; এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেও তারা স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতা দেখাবেন।