২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘অলিখিত অবরোধের’ প্রতিবাদে নেপালে ভারতীয় টিভি বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক ॥ পণ্য প্রবেশে ‘ভারতের অলিখিত অবরোধের’ প্রতিবাদে নেপালে ৪২টি ভারতীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কেবল টিভি অপারেটররা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিবাদের মধ্যে পণ্যবোঝাই কয়েকশ ট্রাক ভারত-নেপাল সীমান্তে আটকে আছে।

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অবরোধের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে ট্রাক ছাড়া হচ্ছে না।

বিবিসি জানিয়েছে, নেপালে মাওবাদীদের থেকে বেরিয়ে গঠিত নতুন একটি দল ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করার পর ৪২টি চ্যানেল বন্ধের এই ঘটনা ঘটল।

নেপাল কেবল টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সুধীর পারাজুলি বিবিসি নেপালিকে বলেছেন, তাদের এ কর্মসূচি ‘অনির্দিষ্টকাল’ চলবে।

সুধীর ভারতের বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘ভারত নেপালের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করায়’ তারা ভারতীয় চ্যানেল না দেখানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর দুই দিন আগে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি সিনেমা হলে ভারতীয় চলচ্চিত্র দেখানো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে এক কর্মী জানান।

বিবিসি লিখেছে, কাঠমান্ডুসহ নেপালের অন্যান্য শহরে ভারতীয় টেলিভিশনের অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হলেও সেখানে ভারতবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হচ্ছে। নেপালিরা মনে করছেন, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে নেপালে পণ্য ঢুকতে বাধা দিচ্ছে, যা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাতিগত সংখ্যালঘু কয়েকটি পক্ষ সহিংস বিক্ষোভ শুরু করলে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। ওই সহিংসতায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণ যায়। সেই থেকে ওই অঞ্চলে ভারত সীমান্তের প্রধান দুটি প্রবেশপথ কার্যত অবরুদ্ধ।

সীমান্ত এলাকায় কয়েকশ ট্রাক আটকে থাকায় নেপালে চিনি, লবণ ও রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পণ্যের জন্য প্রতিবেশী ভারতের ওপরই নির্ভরশীল নেপাল।

এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে নেপালে ভারতের রাষ্ট্রদূত রণজিৎ রায়েকে তলব করেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা রাজ। বৈঠকে ভারত থেকে আসা নিত্যপণের সরবরাহে ‘প্রতিবন্ধকতার’ বিষয়টি তোলা হয় বলে পিটিআইয়ের খবর।

রণজিৎ রায় বৈঠকে বলেন, পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা নেই। সমস্যার কারণ নেপালের অস্থিরতা, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ।