১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হয়রানির অভিযোগ করেছে ৩ হাজার ৯৩০ গ্রাহক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গ্রাহকরা আর্থিক অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হয়ে ৩ হাজার ৯৩০টি অভিযোগ করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৫ প্রকাশকালে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী- ব্যাংকিং খাতে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গ্রাহকরা আর্থিক অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হয়ে মোট ৩ হাজার ৯৩০টি অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগগুলো শতভাগ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের গ্রাহকরা ৪ হাজার ৪৭৬টি অভিযোগ করেছিল। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪ হাজার ২৯১টি। অথ্যাৎ নিষ্পত্তির হার ছিলো ৯৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় অভিযোগ কমেছে। এর পাশাপাশি নিষ্পত্তি হয়েছে শতভাগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী- সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে। যা মোট অভিযোগের ৫৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। রাষ্ট্রয়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিশেষায়িত ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। প্রতিবেদন সূত্র্রে জানা আরও গেছে, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৯২০টি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাহকের হয়রানি ও ঝামেলামুক্ত সেবা প্রদান ব্যাংকিং খাতের একটি অঙ্গীকার হওয়া উচিত। আর এ অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বদ্ধপরিকর। গভর্নর বলেন, গ্রাহকদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকগুলোও প্রতিযোগিতামূলক উন্নত সেবাদানের মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জন ও গ্রাহক ভিত্তি প্রশস্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতি তিন মাস পরপর একটি গ্রাহক সমাবেশ করার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, যাতে করে ব্যাংকার ও গ্রাহক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। অদৃশ্য চার্জ (হিডেন চার্জ) সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে গ্রাহককে না জানিয়ে কোনো ব্যাংক কোনো প্রকার চার্জ কর্তন করতে পারবে না।