২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাচ্যকলা প্রদর্শনীর সমাপনী

প্রাচ্যকলা প্রদর্শনীর সমাপনী

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্রাচ্যশিল্পের বিস্তার’ শীর্ষক ৮ দিনব্যাপী প্রাচ্যকলা প্রদর্শনী আজ শেষ হচ্ছে। প্রাচ্যের নিজস্ব ধারায় শিল্পকলার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। বাংলাদেশে প্রাচ্যধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিল্পী শফিকুল আমিন, শিল্পী রশিদ চৌধুরী, শিল্পী আমিনুল ইসলাম, শিল্পী অধ্যাপক মু. আবুল হাশেম খান, শিল্পী তাজুল ইসলাম, শিল্পী অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার, শিল্পী নাসরীন বেগমসহ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নবীন ও প্রবীণ ১২২ জন শিল্পীর দুই শতাধিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সমকালীন প্রাচ্যশিল্পের ধারা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু ও আবদুর রহমান চুঘতাইয়ের আদর্শের সংমিশ্রণ। তবে কোন শিল্পীবিশেষের অনুকরণ নয়, কারণ অনেকেই প্রাচ্যধারার অনুসারী হলেও নিজস্ব ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রাচ্যধারাকে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিম লে পরিচিত এবং প্রসারের লক্ষ্যে ২০০০ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট। তৎকালীন ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্যোগ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের প্রাচ্যকলা গ্রুপের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এর গোড়াপত্তন হয়। যার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়ার্কসপ, আর্ট ক্যাম্প, প্রদর্শনী এবং নানা সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর ব্যাপ্তি ঘটানো।

যেহেতু এখন ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের অন্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাচ্যকলা বিভাগ নেই, তাই এই দুই প্রতিষ্ঠান এবং সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত শিল্পীরা বর্তমানে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশ-বিদেশে এই ধারার যথেষ্ট চাহিদা আছে। প্রাচ্যধারার চাহিদা, মূল্যায়ন ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সত্যিকার প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজে প্রাচ্যধারার শিল্পচর্চার দ্বার উন্মোচন করায় প্রচেষ্টায় রয়েছে সংগঠনটির। কেননা এই ধারা হচ্ছে আমাদের একান্তই নিজস্ব।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২৩ নবেম্বর সোমবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথি ছিলেন বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাসেম খান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিল্প সমালোচক ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহম্মদ আজিজ খান প্রমুখ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্টের সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ড. মিজানুর রহমান ফকির এবং প্রদর্শনী কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা জামিল কঙ্কা।

আজ সোমবার ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনী শেষ হচ্ছে। এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরে আয়োজক কর্তৃপক্ষ অনেকটাই খুশি। বিশেষ করে আটদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ব্যতিক্রমী এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন। দর্শনার্থীদের কাছে এ আয়োজনের ভাল সাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রদশর্নীতে আসা দর্শনার্থীরা।