২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে ৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড

সৌদি আরবের সরকার একই দিনে ৫০ জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। সৌদি সংবাদপত্র ওকাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৫ জনকে মৃত্যুদ- দিতে যাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে আল-রিয়াদের প্রতিবেদনে ৫২ জনের মৃত্যুদ- কার্যকরের কথা বলা হলেও পরে তা মুছে ফেলা হয় ইন্টারনেট থেকে। একই সঙ্গে এতজনকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ১৫১ জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালে ৯০ জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করেছিল দেশটি।

এবার যাদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন শিয়া সম্প্রদায়ের এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক। অনেকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে আছে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনাসহ রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ। অনেকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে এ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, ‘অনেকেই ন্যায়বিচার পাননি বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলে সৌদি সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে।’ যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শরিয়া আইন’ ও ‘সুষ্ঠু বিচার’ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তারা দ- কার্যকর করে থাকে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বললে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সৌদি আরবে রাজতন্ত্র চালু থাকায় বিচার ব্যবস্থার খবরাখবর বাইরে তেমন আসে না। সেখানে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদ-ের বিধান কার্যকর করা হয়। বেত্রাঘাত বা দোররা মারার খবরও পাওয়া যায় প্রায়ই। এতকিছু সত্ত্বেও বলতে হয় যে, সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল। তবে সন্ত্রাসী জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদা এবং অনতিপরেই আইএস সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং কয়েকটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে দু’জন ঘৃণ্য স্বাধীনতাবিরোধী মানবতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদ- ফাঁসিতে কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুদ- দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দীর্ঘদিন আপীলের শুনানি ও যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া মেনেই তাদের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দুঃখজনক হলো, এরপরও এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ, তুরস্ক ও পাকিস্তান। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ সরকার এর বিরুদ্ধে তীব্র লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণও তা প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কোন দেশের বিচার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে সে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়াসহ শাসন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে। রাজতন্ত্রে বিচারব্যবস্থা এক রকম; আবার গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোতে এক রকম। অনুরূপ বিধান রয়েছে মৃত্যুদ-ের বিধান এবং পদ্ধতি নিয়েও। ইউরোপের অনেক দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া মৃত্যুদ-ের বিধান রদ করলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে এমন কথা বলা যাবে না। সে সব দেশে ক্রসফায়ারের ঘটনাও ঘটছে অহরহ, যেখানে পুলিশও জড়িত। সুতরাং মৃত্যুদ-ের বিধান একেবারে রদ করা যাবে না।