১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রশ্নবিদ্ধ মাদ্রাসা শিক্ষা

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান অভিযোগ উঠলেও তার সুরাহা হচ্ছে না। মাদ্রাসায় ধর্মশিক্ষা দিতে গিয়ে বড় ধরনের ভ্রান্তি কেন ঘটছে সেটা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। বলাবাহুল্য, খ-িত শিক্ষা অশিক্ষা ও কুশিক্ষারই নামান্তর। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন প্রসঙ্গত যে অভিযোগ করেন তা গুরুতর। তিনি বলেন, ‘সরকারী মাদ্রাসায় পড়ানো হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র নেতা মওদুদী, একমাত্র প্রতিষ্ঠান জামায়াতে ইসলামী। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাজার কোটি টাকা খরচ করে এ বিষয় পড়াচ্ছে।’ দু’মাস আগে জাতীয় সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষায় ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন সংসদ সদস্য বলেছিলেন, কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ে ‘বাংলাদেশের জন্ম’ প্রবন্ধে স্বাধীনতা দিবসের কোন তথ্য নেই।

বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সরকারী সংস্থার প্রণীত শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে অনুমোদিত মাদ্রাসা সরকারী অনুদান পেয়ে থাকে। সরকারী অনুদানপুষ্ট অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই এখন সীমিতভাবে হলেও বাংলা, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান শিক্ষা প্রচলিত আছে। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষে অনুমোদিত ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত স্নাতকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তির সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। অস্বীকারের উপায় নেই যে, কওমী মাদ্রাসা নিয়ে কিছু কিছু বিতর্ক তৈরি হয়ে গেছে। বিগত এক দশকে রেজিস্টার্ড কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পনেরো হাজারেরও ওপরে। কিছুটা অস্বাভাবিক এ বৃদ্ধি।

গত বছরের ৯ এপ্রিল জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসার যেসব পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম অথবা ইতিহাস বিকৃত করে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশসহ জানাবেন। সে অনুযায়ী আলিয়া মাদ্রাসার বেশিরভাগ পাঠ্যপুস্তক ও গাইড বই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এক মাসের মধ্যে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, জামায়াত-শিবিরের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা ১০টি প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত বইগুলো প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে মাদ্রাসা শিক্ষায় ধর্মান্ধতা ও উগ্রবাদের বীজ বপনের চিত্র ফুটে ওঠে। দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে বিশেষ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে শোনা যায়নি, যা অনভিপ্রেত।

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কিছুটা সমস্যা ও বিভ্রান্তি সমাজে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সমস্যাকে ডালপালা বিস্তার করতে না দিয়ে তার সমাধানের মাধ্যমে সুশিক্ষাকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার সময় এসেছে। মাদ্রাসা ছাত্রদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সংযুক্ত ও সমন্বিত করে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকেই। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে আসার পথ খুঁজে বের করতে হবে। মাদ্রাসা জঙ্গীবাদ উস্কে দিক, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটুকÑ এমনটা কারও কাম্য নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাই আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।