১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা থেকে সরে যাচ্ছে প্লাস্টিক কারখানা

  • ১৩৩ কোটি টাকায় হচ্ছে প্লাস্টিক শিল্প নগরী

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ দেশে বিকাশ ঘটছে প্লাস্টিক শিল্পের। ফলে এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক শিল্প নগরী। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ধলেশ্বরী নদীর কাছে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এটির তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ শিল্প নগরীটি গড়ে উঠলে পুরান ঢাকার আশপাশে অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক শিল্প কারখানাগুলোকে পরিবেশসম্মত উপযোগী স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে মানসম্মত প্লাস্টিক দ্রব্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি এবং জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৩ কোটি টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্লাস্টিক শিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এ শিল্পের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ঘটেনি। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে সম্ভাবনাময় এ শিল্পের অবদান বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ হাজার ৩০টি প্লাস্টিক শিল্প কারখানা রয়েছে। যার অধিকাংশই বেসরকারী মালিকানাধীন। এর মধ্যে ৫০টি বড়, ১ হাজার ৪৮০টি মাঝারি এবং প্রায় ৩ হাজার ৩০টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে ৮০ শতাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক এবং ক্ষুদ্র কারখানার ৯০ শতাংশই পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। প্লাস্টিক শিল্পগুলো মূলত বেসরকারী উদ্যোগে বেশিরভাগই অপরিকল্পিত, অপরিসর এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠেছে। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এ কারণে এসব শিল্পকে ঢাকা শহরের নিকটবর্তী কোন পরিবেশসম্মত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিক ও প্লাস্টিক শিল্প সমিতির সমন্বয়ে শিল্প নগরী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে চরগুলগুলিয়া নামক স্থানে শিল্প নগরীটি স্থাপনের জন্য বিসিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে এবং ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়। ওই সভায় ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের যৌক্তিকতা ও এত অধিক জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে পুনঃ পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে নির্দেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং মন্ত্রণালয়ের এডিপি সভায় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য ২৫ একর জমির প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্লাস্টিক শিল্প মালিকরা ১০০ একর জমির ওপর শিল্প নগরীটি স্থাপনের দাবি জানান। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ড্যাপের কারণে ইতোপূর্বে কেরানীগঞ্জের চিহ্নিত স্থানটি স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। এ পর্যায়ে বিসিক নতুনভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার অন্তর্গত বড়বর্তা এলাকায় নতুনভাবে স্থান নির্বাচন করে। সম্ভাব্যতা কমিটি প্রকল্পের আয়তন ৫০ একর করার সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশ ও শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটির আকার ৫০ একর ধরে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। গত ২৫ মে প্রকল্পটির উপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে এটির প্রক্রিয়াকরণ সমাপ্ত করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির আগামী সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি বিভাগের সদস্য এসএম গোলাম ফারুক পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্প নগরীতে ৩৭০টি শিল্প প্লট স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। ৩৭০টি প্লটে কমবেশি ৩৬০টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। এসব শিল্প ইউনিটসমূহে ১৮ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৯ লাখ ২৫ হাজার ১০৩ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৩৭৫ বর্গমিটার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ (তৃতীয় তলা পর্যন্ত), ২ হাজার গ্যালন ভূ-গর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ, ২ হাজার গ্যালন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ৯৩ বর্গমিটার পাম্প ড্রাইভার, ৩৫ হাজার ৬৩৩ বর্গমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩ হাজার ৫০৮ মিটার মেইন ড্রেন নির্মাণ, ৫ হাজার ৬০৬ মিটার সাব ড্রেন নির্মাণ, ৭০০ মিটার আউটলেট ড্রেন, ৫৩টি কার্লভাট তৈরি, ৫ হাজার ২৪৪ মিটার পানি সরবরাহের পাইপলাইন তৈরি, ৫ হাজার ১৭৩ মিটার গ্যাস সরবরাহ লাইন, ২৯ দশমিক ৫ মিলোমিটার দুটি বৈদ্যুতিক লাইন ও সাব স্টেশন স্থাপন এবং ২ হাজার ১৪৯ মিটার শিল্প নগরীর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।