২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাখিদের বিপুল ওড়াউড়ি, দেখে মনে হয় না ঢাকার আকাশ

পাখিদের বিপুল ওড়াউড়ি, দেখে মনে হয় না ঢাকার আকাশ
  • শীতের আগেই প্রাণচঞ্চল মিরপুর বেড়িবাঁধ

মোরসালিন মিজান

শীতের আলাদা সৌন্দর্য। আর এ সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় অতিথি পাখি। সারাবছর যাদের বাংলায় বাস, সে পাখিরাও শীতটা দারুণ উদ্যাপন করে। প্রাণচাঞ্চল্য কেমন যেন বেড়ে যায়। পাখি দেখার বিশেষ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয় শীত। না, এবারের শীত শুরু হয়নি এখনও। তাতে কী? পাখিরা এরই মাঝে দখলে নিয়েছে আকাশ। দল বেঁধে দারুণ উড়ছে। অনেকেরই হয়ত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের কথা মনে পড়ে যাবে। গাছের পাতা অতো হয় না, যত পাখি সেখানে! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসও অতিথি পাখির জন্য বিখ্যাত। অনেকেই শীতে সেখানে বেড়াতে যান। তবে, তারও আগে মিরপুর বেড়িবাঁধ। নিশ্চিত করেই বলা যায়, সেদিকে তেমন পা বাড়ান না পাখিপ্রেমীরা। অথচ শীতে এখানে পাখি উৎসব হয়। রাজধানী শহরে এমনকি কাক দেখা যায় না। অথচ বেড়িবাঁধ এলাকায় পাখি আর পাখি। কত কত নাম। জাত পাত। দল বেঁধে উড়ছে। দেখে নিজের নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যায়।

যে এলাকাটির কথা বলা হচ্ছে তা ঢাকার বাইরে নয়। শেষ সীমানা বলা যায়। মিরপুর মাজার রোড ধরে হেঁটে এগুলেই হলো। বেড়িবাঁধে পৌঁছে যাওয়া যায়। এখান থেকে বাঁদিকে তাকালে নিচু জমি। জলাশয়। আর ওপরে তাকালে কেবল পাখি। মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে। একটু দূরে হওয়ায় পাখির নাম ধাম চট করে অনুমান করা যায় না। ডানা ঝাঁপটানোর শব্দ হয়। খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বিচিত্র কিচির-মিচির কানে আসে। এ যেন স্বাগত সঙ্গীত! বেড়িবাঁধ থেকে উত্তরার দিকে যাওয়ার পুরোটা রাস্তা সঙ্গীত শুনতে শুনতে অতিক্রম করা যায়। সকাল ও সন্ধ্যায় পাখিদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে। পাখি দেখার জন্য গেলে এ দুটি সময় বেছে নেয়া উত্তম।

বহু জাতের পাখি এখানে। সংখ্যায় এগিয়ে সরালি। হাঁসের মতো দেখতে। জলমগ্ন ধানক্ষেত ও জলাশয়ের আশপাশে দলবদ্ধ হয়ে বিচরণ করে। সতর্ক পায়ে হাঁটে। উড়তে পারে প্রচুর। তখন আর বড় মনে হয় না। যেন আর সব পাখির মতোই। ছোট। পানকৌড়ির দল উড়াল দিলে আকাশের নীল কিছুটা যেন ঢেকে যায়। ডানার কালো রঙে নতুন ছবি এঁকে দেয় ছোট্ট পাখি। জলেও লম্বা সময় ডুব দিয়ে থাকতে পারে পানকৌড়ি। দুর্দান্ত সাতারু পাখি। যখন দৃশ্যমান হয় ঠোঁটে ধরা থাকে মাছ। সঙ্গত কারণেই ডানায় পানি জমে থাকে। পানি শুকোতে সূর্যের উল্টো দিকে ডানা মেলে বসে থাকতেও দেখা যায়। দৃশ্যটা সত্যি উপভোগ্য। আর বকের কথা তো না বললেই নয়, এত দেখা। তবু সুন্দর। তবু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। নীল আকাশে দল বেঁধে ওড়ার সময় মনে হয় শিল্পী হাসেম খানের আঁকা কোন বিখ্যাত চিত্রকর্ম! কখনও এরা নিচু জমির সীমানা নির্ধারণকারী পিলারের ওপরে বসে থাকে। কখনও শুকনো মরা বাঁশ বা কঞ্চির ওপর বসে নিচের জলের দিকে তীক্ষè দৃষ্টি দেয়। হ্যাঁ, এই তপস্যা মাছ শিকারের জন্য। দেখে সেই ছড়ার কথা মনে পড়ে যায়- পুঁটি মাছ পাই না/ একটা যদি পাই/ অমনি ধরে গাপ্পুস গুপ্পুস খাই।

আরও নানা নামের পাখি আছে। দেশী জাত আছে। বিদেশ থেকে এসেছে অতিথি পাখি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি শীতেই এলাকাটি পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। শীতের আগে থেকেই এরা আসতে শুরু করে। শীত বাড়লে আরও নতুন নতুন পাখির আগমন ঘটবে বলে জানান তাঁরা। পাখি যেখানে, পাখি শিকারও সেখানে। বেড়িবাঁধ এলাকাতেও কিছু শিকারির দেখা মেলে। এদের নিভৃত করার দাবি জানিয়েছেন পাখি প্রেমীরা। পাখিদের প্রতি ভালবাসা দেখানোর যতœবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আর তাহলে পাখিদের উৎসব আরও বেশি দিন স্থায়ী হবে। বিস্তৃত হবে। প্রাণহীন শহরে পাখিরা যেন প্রাণের উৎসব। এই উৎসব টিকে থাকুক।