২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জের রাজাকার নাসির শামসুদ্দিনরা আমার স্বামীকে গুলিতে হত্যা করে ॥ যুদ্ধাপরাধী বিচার

  • ১২তম সাক্ষী আক্তার হাফিজা খাতুনের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর এটিএম নাসির আহম্মেদ ও শামসুদ্দিন আহম্মদসহ ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী আক্তার হাফিজা খাতুন ও ১৩তম সাক্ষী বাসনা রানী চৌধুরী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে ১২তম সাক্ষী আক্তার হাফিজা খাতুন (৬৫) বলেছেন, একাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর আসামি হাফিজ উদ্দিন আমার স্বামীকে পিঠে গুলি করে হত্যা করে। ১৩তম সাক্ষী বাসনা রানী চৌধুরী (৫৫) তার জবানবন্দীতে বলেন, একাত্তরের ভাদ্র মাসের শেষের দিকে কতিপয় রাজাকার আমার ভাই পরেশকে গুলি করে। সাক্ষীদের জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী। সাক্ষ্যগ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। পরে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান সাক্ষীদের জেরা শেষ করেন।

প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী বলেন, আমার নাম আক্তার হাফিজা খাতুন। আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। আমার স্বামী কটকটির ব্যবসা করতো। একাত্তরে আসার স্বামী মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতো। তাই রাজাকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, শামছুদ্দিন, নাসির উদ্দিন এবং আসামি মোঃ আজহারুল ইসলাম আমার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। এবং খুদির জঙ্গল ব্রিজের কাছে নিয়ে দাঁড় করায়। পরে আসামি মোঃ হাফিজ উদ্দিন আমার স্বামীকে পিঠে গুলি করে হত্যা করে এবং লাশ ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়।

অন্যদিকে, ১৩তম সাক্ষী বাসনা রানী চৌধুরী তার জবানবন্দীতে বলেন, একাত্তরে আমার বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের রামনগর গ্রামে বসবাস করতাম। তখন আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১০ বছর। আকমল আলীকে কারাগারে প্রেরণ ॥

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মৌলভীবাজারের রাজনগরের আকমল আলী তালুকদারকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রবিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগরের ৪ আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত চার আসামি হলোÑ আকমল আলী তালুকদার, আব্দুর নুর তালুকদার, মোঃ আনিস মিয়া, মোঃ মোছাব্বির মিয়া।