২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘরের মাঠে বাড়তি সুবিধা থাকবেই ॥ তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার চট্টগ্রাম থেকে ॥ হিতে না আবার বিপরীত হয়ে যায়। যতই চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলছেন, ‘ঘরের মাঠ, নিজেদের দর্শক, বাড়তি সুবিধা থাকবেই।’ এ সুবিধাই না আবার অসুবিধায় পরিণত হয়। চট্টগ্রামে টানা চারদিনে চারটি ম্যাচ যে খেলতে হবে চিটাগাংকে। তাইতো যতই ঘরের মাঠের সুবিধা থাক, তামিম বাস্তবেই আছেন। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তিনি জানেন ও বোঝেন, তাইতো বলে রেখেছেন, ‘দিনশেষে ভাল খেলেই জিততে হবে।’

ঢাকায় যেটি তাদের জন্য ‘শাপেবর’ হয়েছে। চিটাগাংয়েও না তেমনটি হয়। টানা তিনদিনে তিন ম্যাচ খেলে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছে। দলে এ নিয়ে যে বিধ্বস্ত অবস্থা হয়েছে তা ঢাকায় নিজেদের শেষ ম্যাচেও আর উতরে নিতে পারেনি চিটাগাং। হারই হয়েছে নিয়তি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ২২ নবেম্বর রংপুর রাইডার্সের কাছে ২ উইকেটে হারের পর পরেরদিন সিলেট সুপার স্টারসকে কষ্ট করে ১ রানে হারিয়েছে চিটাগাং। এরপর ২৪ নবেম্বর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ৭ উইকেটে হেরে ঢাকায় নিজেদের শেষ ম্যাচেও ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। এখন পয়েন্ট তালিকায় ৬ দলের মধ্যে ৪ ম্যাচে মাত্র ১ জয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে চিটাগাং। ঘরের মাঠে হারের এ গোলক ধাঁধা থেকে এখন বের হতে চান তামিম।

বরিশাল বুলসের বিপক্ষে আজ খেলা চিটাগাংয়ের। এ ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে রবিবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেন চিটাগাংয়ের ক্রিকেটাররা। তামিমের বাড়ির সামনেই এ স্টেডিয়াম। বাড়ি থেকে তাই হেঁটেই অনুশীলন করতে আসেন তামিম। আজ প্রথম ম্যাচ থেকেই জয়ের ধারায় থাকতে চান তামিমরা। চিটাগাংয়ের অধিনায়কই যেমন বলেছেন, ‘প্রথম পর্ব খুব ভাল কাটেনি আমাদের। খুব ক্লোজ কিছু ম্যাচ হেরেছি। যে ম্যাচগুলো আমাদের জেতা উচিত ছিল, সেগুলোই হেরে গেছি। তবে যেটা চলে গেছে, সেটা অতীত। এখন আমাদের ঘরের মাঠ, নিজেদের দর্শক। একটু বাড়তি সুবিধা থাকবেই। এই চারটা ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগামীকালের (আজকের) ম্যাচ। জয়ে দিয়ে শুরু করতে পারলে ভাল হয়।’

ঘরের মাঠে খেলার সঙ্গে উইকেট সম্পর্কেও নিশ্চয়ই তামিম ভাল জানবেন। কিন্তু নিজেই তা যেন অস্বীকার করতে চাইলেন, ‘উইকেট হয়ত আমি যতটুকু বুঝব, অন্য দলও ততটাই বুঝতে। সেদিক থেকে হয়ত এগিয়ে থাকার সুযোগ নেই। এটা মানসিক ব্যাপার। মানসিকভাবে এগিয়ে থাকা, চাঙ্গা থাকার ব্যাপার। চিটাগাং খেলছে চিটাগাংয়ে, এটা বড় ব্যাপার। আর ঢাকায় যেভাবে ঢাকা দলকে সমর্থন করা হয়েছে, আমাদেরও এখানে সেভাবে সমর্থন জানানো হবে। তবে দিনশেষে ভাল খেলেই জিততে হবে। এখন চাপ আছে। একটা ম্যাচ জিতে গেলে অনুপ্রেরণা হয়ে যাবে।’

চিটাগাংয়ের পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমির দুর্দান্ত বোলিং করছেন। ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন। আমিরকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী তামিম। বলেছেন, ‘আমাদের দলের জন্য আমির দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার দলের এই একজন বোলারই এখন পর্যন্ত সত্যিকারের উইকেট শিকারি। আমাদের অনেকেই কিন্তু আছে নিয়মিত উইকেট নেয়ার মত। আমার মনে হয়, সময় হয়েছে ওদের এখন নিজেদের মেলে ধরার। আমি নিশ্চিত ওরা পারবে। আমির ছাড়াও আমাদের তাসকিন (আহমেদ) আছে, শফিউল (ইসলাম) আছে, বাঁহাতি স্পিনাররা আছে। আমির খুবই স্পেশাল। যেভাবে চারটা ম্যাচে সে বোলিং করেছে, আমার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। বাকিদেরও সময় এখন নিজেদের কাজটা করার।’

ঢাকায় শুরুতে প্রথম ম্যাচে রান হলেও শেষে গিয়ে কোন ম্যাচেই রান হয়নি। চট্টগ্রামে রানের আশা করছেন তামিম, ‘চট্টগ্রামে এমনিতে উইকেট যেমন থাকে, রান উঠবে বলে আশাকরি। ১৮০-১৯০ হবে কিনা বলা মুশকিল, তবে ১৬০-১৭০ হওয়া উচিত নিয়মিতই। প্রথম ম্যাচ খেলার পর বুঝতে পারব উইকেট কেমন।’

খেলার বিষয়ে কথা বলার সঙ্গে ঢাকায় সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে ম্যাচে যে সিলেটের মালিক তামিমকে গালাগাল করেন তা নিয়ে আবারও কথা উঠল। তবে সিলেট মালিককেও নাকি গালাগালি করেছেন তামিম, এমন কথাও উঠছে এখন। তামিম বলেন, ‘আমি যদি পাগল হই, তাহলেই কেবল হুট করে গিয়ে গালাগাল শুরু করব। তার আগের দৃশ্যগুলোর ভিডিও তার কাছে আছে। পরেরগুলোও নিশ্চয়ই আছে সেগুলো দেখলেই সব পরিষ্কার হবে। পাগল না হলে তো কেউ হুট করে কিছু বলবে না। তাকে এমন কিছু বলা হয়েছে বলেই না বলছে। আমি যে কথাগুলো সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, এক পারসেন্ট বেশিও বলিনি, কমও বলিনি। ওখানে অনেকেই ছিল, সাংবাদিক, সিকিউরিটি সবাই ছিল। সবাই বলতে পারবে।’