২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হোটেল ম্যানেজমেন্ট পেশা এখন জনপ্রিয়...

  • সালেহীন কবির শোভন

এইচএসসি শেষ করেই বিলেতের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়া, জন্মদিনটিও পালন করলাম যাত্রাপথে সব চেনা মুখ হতে হাজার হাজার মাইল পথ দূরে তাও আবার আকাশে সুন্দরী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে। আজও মনে পড়ে যে, তারা কত ঋৎরবহফষু ইরৎঃযফধু রিংয ধহফ ফৎধসধ করেছিল। আজ আমিও শিখছি এটা কিভাবে সম্ভব।

পড়াশোনার পাশাপাশি জব ট্রাকটা কনফার্ম করার আগেই এসেছিল যাচাই করে নেয়ার সুযোগ। প্রথমবারের মতো যাত্রাপথের বন্ধুত্বের কানেকশনে লন্ডনে ঈড়সঢ়ঁং এৎড়ঁঢ়-এর ফুড চেইনগুলোতে কাজ শুরু করি। পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করা এবং সহজে সময়-সুযোগ মেলানো যাবে।

বেশ ভালই ছিল যখন সপ্তাহ পেরোলেই ইধহশ অপপড়ঁহঃ-এ পাউন্ডের ডিজিটগুলো বেড়ে যেত। আরও ভাল লাগত ইউঞ-তে কনভার্ট করতে।

কাজ, ঘোরাঘুরি, দেশে এসে বেড়ানো, পড়াশোনা... দেখতে দেখতে ইঁংরহবংং ংঃঁফরবং শেষ হয়ে গেল এবং ঝঃড়ৎব ঝঁঢ়বৎারংড়ৎব হয়ে গেলাম। কাজের মাঝেই বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং থাকত। এছাড়া শুধু ট্রেনিংও থাকত, সেটা বেশি ঊহলড়ু করতাম টিমের সবাই। নিজের ভেতরে কথায়, আচরণে নিজস্ব জীবনধারায় অনেক পরিবর্তন নাকি সবাই দেখতে পাচ্ছে। সময়ের কাজ সময়ে, সহজেই বন্ধু বনে যাওয়া এক কথায় (সোশ্যাল এ্যানিমেল)। হ্যাঁ আমিও একমত যে, ঐড়ংঢ়রঃধষরঃু রহফঁংঃরবং-এ কাজ করে নিজের এই পরিবর্তনগুলো হবেই : শুধু চোখের ভাষা, হাসি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়েই শুভেচ্ছা কুশালাদি আদান-প্রদান করা শিখে নিয়েছি। আমরা জানি, কাউকে কিভাবে আপন করে নিতে হয়। সহমর্ম ও সহব্যথিত কিভাবে হতে হয়। আনন্দ ভাগাভাগিও করতে ওস্তাদ আমরা। কাজের মাঝে ও অনুশীলনের মাঝে কবে কিভাবে এসব আয়ত্ত হয়ে গেছে বুঝতেও পারিনি। ঈড়সঢ়ঁং এৎড়ঁঢ়-এ কাজ করতে হয়েছে এৎধন ফ এড়, ঊহমষরংয ৎবংঃধঁৎধহঃ, ইঁৎমবৎ শরহম, টঢ়ঢ়বৎপৎবধংঃ, গধৎশং ৪ ঝঢ়বহংবৎ বঃপ. এ তো গেল পড়াশোনার পাশাপাশিÑ দেশে ফেরা হলো ২০০৬, ফেরা হলো তবে যার কথা না বলেই নয়; নাওয়াদে আমার ঈড়ঁংরহ. ওর ঋৎরবহফষু রহারঃধঃরড়হ-এ ঝরহমধঢ়ড়ৎব-এ যাওয়া এবং ঝরহমধঢ়ড়ৎব-এর সেরাদের মাঝের ঐড়ংঢ়রঃধষরঃু ঝপড়ড়ষ, ঘধহুধহম এ বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করি এবং ঈড়হভরৎস হলাম যে, আমি এসব ট্রাকে ঝঃধৎঃ করছি এবং টার্গেট ফিক্স করি। আমার অদম্য ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা সেরা অতিথিবৎসল হয়ে গড়ে ওঠার। পাশাপাশি বিলেতের কাজের পারদর্শিতা আমাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে রেখেছিল। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও কিন্তু আমার প্রফেশন এবং কারিগরি বিদ্যার সঙ্গে সমানভাবে কাজে লেগেছে।

সিঙ্গাপুরেও পড়াশনার পাশাপাশি বিভিন্ন নামী তারকা হোটেলে কাজ করেছি ইধহয়ঁপঃ ডিপার্টমেন্টে। সবচেয়ে বেশি কাজ করা হতো গ্র্যান্ড হায়াত, হলিডে ইন, মেরওট, সাংগরিলা ও টেডার্স-এ। হায়াতের মেজানাইনেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম ছাত্রাবস্থায়। এরপর ওহফরংঃৎরধষ অঃঃধফবহঃ-এ কাজ করেছি। ঝযধহমর:- ষধ ঐড়ঃবষ-এ আমি শিখেছি নিয়ম-কানুন কিভাবে ভদ্রতার সাথে ঝঙচ (স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিওর) মেনে অতিথিকে সঠিক সেবাটি প্রদান করতে হয়। ভীষণ ভাল লাগত যখন বিলেতের কাজের অভিজ্ঞতা পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায় স্মৃতির মতো ভেসে ভেসে আসত থিওরির সঙ্গে সঙ্গে।

সিঙ্গাাপুরের পড়াশোনা শেষ হলো। দেশে ফিরলাম আর ঞযব ডবংঃ উযধষধ এগ ঝধহ অসড়ফধহ ঈগ মাঝে ইন্টারভিড এবং চাকরিতে ঔড়রহ. দেশে এসে প্রথম ঔড়ন তাই খুব এক্সাইটেড ছিলাম। তিন মাসের মধ্যে প্রথম এবং ছয় মাসে দ্বিতীয়, ১২ মাসে বাংলাদেশের মাঝে সিলেক্টেড দু’জনের একজন হয়ে বেশ গর্ববোধই করেছিলাম এবং বিশ্বাস করলাম যে, নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা ধরা দিতে বাধ্য। টার্গেট উঁচুতেই থাকতে হবে। একের পর এক রেস্টুরেন্ট ওপেনিং টিমে কাজ করতে এবং করাতে করাতে সবাই মাস্টার অব ওপেনিং গেম (গঙএ) মোওগ হিসেবেই পরিচিত করিয়ে দিল। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই সকল খবধফবৎ-এর প্রতি যাদের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে আমার এখনকার পথচলা। ভাবতে বেশ ভাল লাগত দেশের মাটিতে এসেও স্বদেশীদের পাশাপাশি নাম করা যায়, বড় বড় ব্যক্তিত্ব ভিনদেশীর সঙ্গে একি টেবিলে/ছাদের নিচে কাজ করছি।

জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাগিদে অনেক প্ল্যাটফরম ধরেই এগোতে এগোতে অন্যদের জন্য সে সকল প্ল্যাটফর্মগুলো সঠিকভাবে তৈরি করে যাওয়টাই আমি আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। নতুনরা যেন এই ঐড়ংঢ়ঃধষরঃু -তে তাদের পথচলা নিরাপদ ও প্রগতিশীল করতে পারে সে জন্য সাধ্যের পাশাপাশি কাজ করছি। আমাদের দেশে প্রচুর সুযোগ রয়েছে এবং আরও সুযোগ আসবে। তবে এর আগে তৈরি হতে হবে। মালয়েশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রচুর জনশক্তি সিঙ্গাপুরে কাজ করতে আশে আবার রাতে ফিরে যায়। আমাদের দেশে এমন হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না যদি না নতুনরা তৈরি হয় ভবিষ্যতের জন্য। এখন এই ওহফঁংঃৎরবং-এর বিপ্লবের সময়। এককথায় বলা যায়, হোটেল ম্যানেজমেন্ট পেশায় বর্তমানে বেশ চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সিনিয়র ম্যানেজার, ওয়াটারক্রিস

অনুলিখন : পান্থ আফজাল