২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিমুহূর্তে মোবাইল ফোন

  • রেজাউল করিম খোকন

দ্রুত মোবাইল গ্রাহক বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এরিকসনের মোবিলিটি রিপোর্টে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসেই বাংলাদেশে ২০ লাখ নতুন মোবাইল ফোন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে এবং গ্রাহক বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বছর শেষে গ্রাহক বৃদ্ধির গড় হার আরও বড় সংখ্যায় বাড়তে পারে। ছয়-সাত বছর আগেও বাংলাদেশের অবস্থান ৪০ এর নিচে ছিল। ২০১৫ সালের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন গ্রাহক বেড়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার। এই হিসাবে প্রতি মাসে গড় মোবাইল ফোন গ্রাহক বৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ লাখ। এরিকসনের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক সাইটগুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষত মোবাইল ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোন গ্রাহক বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। মূলত তরুণদের অধিকহারে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকার বিষয়টিও বাংলাদেশে সার্বিকভাবে মোবাইল ফোন গ্রাহক বৃদ্ধির বিষয়ে প্রভাব ফেলছে। এরিকসনের মোবিলিটি রিপোর্টে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়া ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের মোট গ্রাহকের ২৫ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা ৮০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা বর্তমানে বেশি সময় কাটায় বিভিন্ন ধরনের এ্যাপস ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে। দৈনন্দিন নানা কাজে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে এমন ধরনের এ্যাপসের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ কম্পিউটারের চেয়েও অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে স্মার্টফোন। ফলে স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনের প্রধান অনুসঙ্গ। এরিকসনের কনজিউমার ল্যাবের অন্য একটি রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের কাছ থেকে মজার তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ শতাংশ বাবা-মা স্মার্টফোনকে শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ তাদের সন্তানরা দিনের বেশিরভাগ সময়ই অন্যসব বাদ দিয়ে স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকছে। অবশ্য ৪৬ শতাংশ অভিভাবক জানান, তারা তাদের সন্তানদের নির্দিষ্ট কিছু সময়ের বাইরে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দেন না। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশেও স্মার্টফোন ব্যবহারের চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার মতোই হতে পারে।

মোবাইল ফোনের ব্যবহার মানুষের অনেক কষ্ট লাঘব করেছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন ভুবনের দুয়ার খুলে দিয়েছে। এখন খুব দ্রুত অনেকটা ঝামেলাহীনভাবেই একজন আরেকজনের সঙ্গে মন খুলে সব কথা বলতে পারছেন। মোবাইল ফোনে কথা বলার পাশাপাশি আরও বেশকিছু উপায়ে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়েছে। যে কথা মুখে বলা যায় না, সে কথা আগে চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। সময়ের ধাপ ডিঙ্গিয়ে এসএমএস হয়ে উঠেছে চিঠির বিকল্প। কম সময়ে কম খরচে ঝটপট মনের ভাব বিনিময়ের এই অনন্যধারাটি মোবাইল গ্রাহকদের মধ্যে বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও রেডিওর সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসেই আবহাওয়া, খেলাধুলা, নিউজ হেডলাইন, ফ্লাইট ইনফরমেশন, রাশিফল ইত্যাদি জানতে আজকাল অনেকেই এসএমএসের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। বিভিন্ন ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতায় এসএমএস ভোটিংয়ের মাধ্যমে পছন্দের প্রতিযোগিকে জিতিয়ে আনতেও এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। ট্রেনের টিকেট কিনতে কিংবা ক্রিকেট খেলার টিকেটের জন্য এখন এসএমএস ক্রমেই বিপুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে নানা বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও অবহিতকরণের কাজেও এসএমএস কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তথ্য জানতে এসএমএস ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করেছে দেশের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক। নিজের পছন্দমতো রিংটোন ডাউনলোড বা মোবাইলে কোন পছন্দের ওয়ালপেপার কিংবা চাবি ডাউনলোড করতে এখন এসএমএস বহুল ব্যবহৃত। কোন বিরহী মুহূর্তে প্রিয়জনের একটি এসএমএস মনকে রাঙিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। ভয়েস কলের মাধ্যমে একঘেয়েভাবে শুধু কথা চালিয়ে যাওয়া থেকে এই মাধ্যমে সরে এলে অনুভব করা যায় বৈচিত্র্যের কোন অভাব নেই এখানে। বিয়ে, ঈদ, পুজো, জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী, পরীক্ষায় সাফল্য কিংবা কোনো দুঃখময় ঘটনায় সহানুভূতি, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন কথা বলে দায়সারাভাবে প্রকাশ না করে সুন্দরভাবে লিখে সেটা এসএমএসের মাধ্যমে জানানো যেতে পারে।

এবার সেলফির দিকে চোখ ফেরানো যাক। বর্তমান বিশ্বে দারুণ প্রচলিত একটি শব্দ সেলফি। ইংলিশ ডিকশনারিতে আগে সেলফি শব্দটির অস্তিত্ব ছিল না। এখন সবার মুখে মুখে দারুণ চালু একটি শব্দে পরিণত হয়েছে তা। রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু“করে চিত্রতারকা, সঙ্গীত তারকা, ক্রিকেটার, ফুটবলার, টেনিস তারকা, সাধারণ মানুষ, ছাত্র শ্রমিক শিশু কিশোর যুবক যুবতী গৃহবধূ সবাই যেন সেলফি ক্রেজে আচ্ছন্ন। বিশ্বজুড়ে চলছে সেলফি ফিভার।

নির্বাচিত সংবাদ