১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন সৌদি নারী প্রার্থীরা

সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে রবিবার দেশটির নারী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। আাগামী মাস থেকে সৌদি নারীরা সরকারী অফিস পরিচালনা করবেন। রক্ষণশীল দেশটির মন্থর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। এর মাধ্যমে দেশটির নারীরা কিছুটা হলেও মুক্তির স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। খবর এএফপির।

সৌদি আরবে ১২ ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় নয়শ’ নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর এই প্রথমবারের মতো তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। লোহিত সাগর তীরবর্তী জেদ্দা শহরের এক মানবাধিকার কর্মী সাহার হাসান নাসিফ বলেন, এটা নারী অধিকারের প্রথম পদক্ষেপ। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। নাসিফের অনেক বন্ধু এই নির্বাচনে লড়বেন। এই নিয়ে পুরুষরা তৃতীয়বারের মতো পৌর-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে সৌদি আরবে ২০০৫ ও ২০১১ সালে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কড়াকড়িভাবে ইসলামী আইন প্রয়োগকারী রাজতন্ত্রী দেশটির মন্ত্রিসভায় কোন নারী সদস্য নেই এবং বিশ্বে একমাত্র সৌদি আরবেই নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। রক্ষণশীল এই দেশটির নারীরা আপাদমস্তক কালো বোরখায় ঢেকে বাড়ির বাইরে বের হন এবং পরিবারের কোন পুরুষ সদস্য ছাড়া তারা ঘরের বাইরে বের হতে, কোথাও বেড়াতে বা কর্মস্থলে যেতে পারেন না। এমনকি বিয়ের ক্ষেত্রেও তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার নেই। প্রয়াত বাদশাহ্ আব্দুল্লাহর শাসনকালে ধীরগতিতে হলেও সৌদি আরবে নারী অধিকারের বিস্তৃতি ঘটে। তিনি ২০০৫ সালে পৌর নির্বাচন শুরু করেন এবং এই নির্বাচনে ভবিষ্যতে নারীরা অংশ নিতে পারবেন বলে ঘোষণা দেন। ২০১৩ সালে বাদশাহ্ আব্দুল্লাহ্ নারীদের শূরা কাউন্সিলের সদস্য করেন। শূরা কাউন্সিল মন্ত্রিপরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাদশাহ আব্দুল্লাহ্ মারা যাওয়ার পর বাদশাহ্ সালমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এগিয়ে নেন। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোতে কয়েক বছর ধরেই নারীদের ভোটাধিকার রয়েছে। সৌদি নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮৪টি পরিষদ আসনের জন্য প্রায় সাত হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।