১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে গুপ্তচর বিনিময়

অনলাইন ডেস্ক ॥ তাইওয়ান ও চীন নিজেদের মধ্যে কারাদণ্ডে দণ্ডিত গুপ্তচর বিনিময় করেছে। বৈরী এই দুইপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতার নিদর্শন হিসেবেই এই পদক্ষেপ।

তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার বলা হয়েছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে তাইওয়ান ও চীনের সর্বোচ্চ দুই নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকের পরই বন্দি বিনিময়ের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

চীন তাইওয়ান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্নেল ঝু গংজুয়ান এবং কর্নেল জু চেঙ্গাওকে মুক্তি দিয়েছে। ২০০৬ সালে তাইওয়ানের এই দুই সামরিক কর্মকর্তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। দীর্ঘ নয়বছর পর তারা মুক্তি পেলেন।

অপরদিকে তাইওয়ান চীনের গুপ্তচর লি জিহাওকে আগাম প্যারোলে মুক্তি দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র চার্লস চেন বলেন, “মা-জি এই দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যে ইতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেই সুনামের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।”

তবে এ প্রসঙ্গে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এরআগে চীনের ক্ষমতা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ও কমিউনিস্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের ৬৬ বছর পর একই দেশের দুটি স্বতন্ত্র অংশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় চলতি মাসের প্রথম দিকে।

১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধে পরাজিত চীনা জাতীয়তাবাদী সরকার (কুওমিনটাং বা কেএমটি) তৎকালীন চীনা দ্বীপ তাইওয়ানে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে অবস্থান করে সরকারি পরিচালনা অব্যাহত রাখে তারা।

কিন্তু মূল ভূখণ্ডে কমিউনিস্টরা মাও সেতুং-এর নেতৃত্বে আলাদা সরকার গঠন করে।

তারপর থেকে বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট সরকার ও তাইপেতে কুওমিনটাং সরকার দেশটি শাসন করতে থাকে। কিন্তু মূলভূখণ্ড কমিউনিস্টদের অধিকারে থাকায় জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

দুটি পক্ষই চীনা উত্তরাধিকারের দাবি নিয়ে আলাদাভাবে শাসিত হয়ে আসলেও চীনের উত্তরাধিকার হিসেবে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বাধীন চীনই স্বীকৃতি পায়। কিন্তু তাইওয়ানও স্বতন্ত্রভাবেই শাসিত হতে থাকে।

গৃহযুদ্ধ বন্ধ হলেও দুপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি।

তাইওয়ানকে নিজেদের একটি ‘দলছুট’ প্রদেশ বলে মনে করে কমিউনিস্ট চীন। প্রদেশটি একসময় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগ দেবে বলে মনে করে বেইজিং। তবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা করলে শক্তি প্রয়োগে তাইওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করে চীনের অখণ্ডতা বজায় রাখার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে বেইজিং।

কুওমিনটাং দলীয় মা ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো তার অন্যতম প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়ায়।

দুপক্ষের রাজনৈতিক বিভক্তি নিরসনে কোনো অগ্রগতি না হলেও এ সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।