১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুবলীগ সভাপতি জালাল হত্যা ॥ ১১ বিএনপি নেতাকর্মীর ফাঁসি

যুবলীগ সভাপতি জালাল হত্যা ॥ ১১ বিএনপি নেতাকর্মীর ফাঁসি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর॥ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় থানা যুবলীগের সভাপতি জালাল হত্যা মামলায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ১১ নেতাকর্মীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের রায় দিয়েছেন আদালত। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী ভূইয়া এ রায় দেন। রায়ে একই সঙ্গে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে গাজীপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

এসময় মামলার প্রধান আসামীসহ ৬ আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলো, কাপাসিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুবদলের থানা সদস্য জজ মিয়া, থানা ছাত্রদলের সদস্য আল-আমিন, বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন বেল্টু, থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হালিম ফকির, কাপাসিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল, থানা যুবদলের সদস্য মাহবুবুর রহমান রিপন, থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি আঃ আলীম, বিএনপি নেতা আতাউর (সাংবাদিক), ফরহাদ ও জয়নাল। এদের মধ্যে আলামিন, জজ মিয়া, জুয়েল, হালিম ও রিপন পলাতক রয়েছে।

প্রায় ১২বছর আগে ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট থানা যুবলীগ সভাপতি জালাল সরকার হত্যা করা হয়।

গাজীপুরের জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ ও অতিরিক্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একই উদ্দেশ্যে আসামিগণ প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুঁপিয়ে ও পিটিয়ে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন সরকারকে হত্যা করে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৪৯/৩০২/১০৯/ ৩৪ ধারায় ১১ জনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণা কালে ফারুক হোসেন, বেলায়েত হোসেন বেল্টু, আঃ আলীম, আতাউর, ফরহাদ ও জয়নাল আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি ৫ জন পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত জালালের মা হালিমা খাতুন জালালের একমাত্র কন্যা হৃদি, জালালের ভাই মামলার বাদী মিলন সরকার, বাবা আমজাত হোসেন, ভাই বাদল সরকার ও আত্মীয় স্বজন। মৃত্যুকালে জালালের স্ত্রী ছয় মাস বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান শাহরিয়ার জালাল হৃদি এখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এছাড়া আসামি ও বাদি পক্ষের বিপুল সংখ্যক লোক আদাত প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা রায়ের খবর সংগ্রহের জন্য আদালত চত্ত্বরে অপেক্ষা করতে থাকেন। কাপাসয়িা থেকেও বাদি এবং আসামি পক্ষের বিপুল সংখ্যক লোক আদালত গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গনে এসে অবস্থান নেন তারাও বিচারকের রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা আড়াইটার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী ভূঁইয়া বহু প্রতিক্ষিত এর চাঞ্চল্যকর রায় প্রদান করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত জালাল সরকারের বাবা আমজাত হোসেন ও মা হালিমা খাতুন, বাদী ভাই মিলন সরকার ও আত্মীয় স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রায় দ্রুত কার্যকরের দাবী জানান। জালালের মৃত্যুকালে রেখে যাওয়া দেড় বছরের একমাত্র মেয়ে গাজীপুর ক্যাডেট একাডেমির অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী শাহরিয়ার জালাল হৃদি বাবার কথা মনে করতে পারছেনা। তবে সে পিতার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় খুশি।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ড. শহীদউজ্জামান জানান, রায়ে আসামী পক্ষ সন্তুষ্ট নয়। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে বলে জানান।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৭ আগষ্ট তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা (আসামীরা) কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামের বলখেলা বাজারের পাশে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে কাপাসিয়া থানা যুবলীগ সভাপতি জালাল সরকার ওরফে জালালকে হত্যা করে। এঘটনার একদিন পর জালালের ভাই মিলন সরকার বাদি হয়ে কাপাসিয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল লতিফ ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আদালত তার রায়ের পর্যালোচনায় বলেন, আসামিরা প্রত্যেকে ভিকটিম জালালকে হত্যার উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজসে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তিনজন আসামি ফারুক, জজ মিয়া ও আল-আমিন মোটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অন্য আসামি বেলায়েত হোসেন বেল্টু, হালিম ফকির, জুয়েল, মাহবুবুর রহমান রিপন, আব্দুল আলীম, আতাউর রহমান, জয়নাল উল্লাস করতে করতে অস্ত্র উচু করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। বর্তমান সভ্য সমাজে এরূপ পৈচাশিক আচরণ অমানবিক তো বটেই এবং অন্যান্য অপরাধীগণকে অপরাধ প্রবনতায় প্ররোচিত করবে। কাজেই অত্র মামলায় কোন আসামিই মানবিক ও আইনগত অনুকম্পা পেতে অধিকারী নয়। রাস্ট্রপক্ষ এ মামলা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করতে সামর্থ্য হয়েছে।