২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেঙ্গল সঙ্গীত উৎসবে রাতভর সুরের মায়াজাল

১স্টাফ রিপোর্টার ॥ চেনা গানের সুর ভিন্ন এক আলোড়ন তোলে সবার মনে। সুর বিহারে সুরলোকে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে সবার। এমনই এক পরিবেশ তৈরি হয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের তৃতীয় আসরের মধ্যরাতে। মঞ্চে বসে ড. এন রাজম তার বেহালায় বাজাচ্ছেন ‘ব্রজগোপী খেলে হরি’ গানের সুর। বিদ্রোহী কবির এ গানের সঙ্গে পরিচয় নেই এমন মানুষ বাংলাদেশে পাওয়া কঠিন। পুরো আর্মি স্টেডিয়ামজুড়ে রবিবার রাতে ধ্বনিত হচ্ছে এ সুর। শ্রোতারা সে সুরে মুগ্ধ হয়ে কেউ অপলক তাকিয়ে রয়েছেন মঞ্চের দিকে, কেউবা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বন্ধ চোখে স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন সুরের মায়াজাল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ ড. রাজমের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মেয়ে ও দুই নাতনিও। শিল্পীকে বেহালায় সহযোগিতা করেন মেয়ে ড. সঙ্গীতা শঙ্কর এবং নাতনি রাগিনী শঙ্কর ও নন্দিনী শঙ্কর। তবলা বাজিয়ে সহযোগিতা করেন পন্ডিত মুকুন্দ রাজ দেও। ড. এন রাজম রাগ বাগেশ্রী, রাগ খাম্বাজে ঠুমরী এবং মালকোশ রাগের স্বর দিয়ে বেহালার গায়কী অঙ্গ এবং তন্ত্রকারী অঙ্গর পার্থক্য দেখান। এরপর তিনি বেহালায় নজরুলের ‘ব্রজগোপী খেলে হরি’ বাজিয়ে শোনান। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন। সন্ধ্যা ৭টায় এ দিনের উৎসবের শুরুটা হয় ওয়ার্দা রিহাব ও তার দলের মনিপুরী নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে। পরিবেশনা শেষে ওয়ার্দা রিহাবের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন চিত্রশিল্পী রণজিৎ দাস। এরপর ইউসুফ খান সরোদ পরিবেশন করেন। তিনি রাগ কিরওয়ানী বাজিয়ে শোনান। তাকে তবলায় সহযোগিতা করেন ইফতেখার আলম প্রধান ও তানপুরায় তাহিয়া খান। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের শিল্পীর হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন। পরবর্তী পরিবেশনা ছিল ওস্তাদ ওয়াসিফ উদ্দিন ডাগরের। তিনি রাগ বিহাগ, শঙ্করা রাগে ধ্রুপদ ও রাগ সোহিনী পরিবেশন করেন। শিল্পীকে পাখওয়াজে সহযোগিতা করেন মোহন শ্যাম শর্মা, তানপুরায় গোপেশ গওড় ও সন্তোষ কুমার। পরিবেশনা শেষে ওস্তাদ ওয়াসিফ ডাগরের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি। এরপরের পরিবেশনা ছিল ড. এন রাজমের বেহালা বাদন। তারপর বিদুষী শ্রুতি সাদোলিকার খেয়াল পরিবেশন করেন। তিনি রাগ নন্দ/আনন্দি কল্যাণ, কৌশিকানাড়া এবং মাঝ খাম্বাজ রাগে ঠুমরি পরিবেশন করেন। তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন অনীশ প্রধান, হারমোনিয়ামে ছিলেন সুধীর নায়েক এবং তানপুরায় ছিলেন লতিফুন জুলি ও সুপ্রিয়া দাস। বিদুষী শ্রুতি সাদোলিকারকে উৎসব স্মারক তুলে দেন কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ। পরবর্তী পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন গুরু কড়াইকুডি মনি। তিনি লয় বিদ্যাসন পরিবেশন করেন। শিল্পীকে সঙ্গত করেন খঞ্জিরাতে অমৃত এন, ঘটমে সুরেশ বৈদ্যনাথান, মরসিংয়ে ভারাদওয়াজ সাত্থাভালি এবং থালামে নাগাই নারায়াণন। শিল্পীকে উৎসব স্মারক তুলে দেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান। তৃতীয় দিনের উৎসবের শেষ পরিবেশনা ছিল বিদুষী শুভা মুডগালের। তিনি রাগ ভাটিয়ার, রামকেলি, রাগ মালা রাগ ভৈরবিতে ঠুমরী পরিবেশন করেন। শিল্পীকে তবলায় সহযোগিতা করেন অনীশ প্রধান, হারমোনিয়ামে সুধীর নায়েক, তানপুরায় আনা নাসরিন ও সুস্মিতা দেবনাথ। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নীতিন জোশী। শিল্পীর হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।