১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫ মামলায় ফাঁসি ২৪ জনের

৫ মামলায় ফাঁসি ২৪ জনের
  • গাজীপুরে যুবলীগ নেতা, সিলেট-না’গঞ্জে তিন শিশু, চট্টগ্রামে অটোচালক ও কুষ্টিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার রায়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পাঁচটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পৃথক রায়ে সোমবার মোট ২৪ জন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। দ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যুবলীগ নেতা জালাল হত্যার দায়ে ১১ জন, সিলেটে শিশু সাঈদ অপহরণ ও হত্যার দায়ে ৩ জন, নারায়ণগঞ্জে দুই শিশু শিক্ষার্থী হত্যায় ৫ জন, চট্টগ্রামে অটোচালক হত্যায় ৪ জন এবং কুষ্টিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার ।

গাজীপুর ॥ কাপাসিয়ায় থানা যুবলীগের সভাপতি জালাল হত্যা মামলায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ১১ নেতাকর্মীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-াদেশ কার্যকরের রায় দিয়েছে আদালত। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী ভূঁইয়া সোমবার এ রায় দেন। রায়ে একই সঙ্গে দ-প্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গাজীপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট থানা যুবলীগ সভাপতি জালাল সরকার হত্যার প্রায় ১২ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণাকালে মামলার প্রধান আসামিসহ ৬ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

দ-প্রাপ্তরা হলো- কাপাসিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুবদলের থানা সদস্য জজ মিয়া, থানা ছাত্রদলের সদস্য আল-আমিন, বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন বেল্টু, থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হালিম ফকির, কাপাসিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল, থানা যুবদলের সদস্য মাহবুবুর রহমান রিপন, থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি আঃ আলীম, বিএনপি নেতা আতাউর (সাংবাদিক), ফরহাদ ও জয়নাল। এদের মধ্যে আলামিন, জজ মিয়া, জুয়েল, হালিম ও রিপন পলাতক রয়েছে।

গাজীপুরের জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ ও অতিরিক্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একই উদ্দেশ্যে আসামিগণ প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন সরকারকে হত্যা করে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ১৪৯/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় ১১ জনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছে। রায় ঘোষণাকালে ফারুক হোসেন, বেলায়েত হোসেন বেল্টু, আঃ আলীম, আতাউর, ফরহাদ ও জয়নাল আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি ৫ জন পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত জালালের মা হালিমা খাতুন, জালালের একমাত্র কন্যা হৃদি, জালালের ভাই মামলার বাদী মিলন সরকার, বাবা আমজাত হোসেন, ভাই বাদল সরকার ও আত্মীয়স্বজন। মৃত্যুকালে ছয় মাস বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তান শাহরিয়ার জালাল হৃদি এখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এছাড়া আসামি ও বাদীপক্ষের বিপুলসংখ্যক লোক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত জালাল সরকারের বাবা আমজাত হোসেন, মা হালিমা খাতুন, বাদী ভাই মিলন সরকার ও আত্মীয়স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। জালালের মৃত্যুকালে রেখে যাওয়া একমাত্র মেয়ে গাজীপুর ক্যাডেট একাডেমির অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী শাহরিয়ার জালাল হৃদি বাবার কথা মনে করতে পারছে না। তবে সে পিতার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় খুশি। মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ড. শহীদউজ্জামান জানান, রায়ে আসামি পক্ষ সন্তুষ্ট নয়। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে বলে জানান।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা (আসামিরা) কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামের বলখেলা বাজারের পাশে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে কাপাসিয়া থানা যুবলীগ সভাপতি জালাল সরকার ওরফে জালালকে হত্যা করে। এ ঘটনার একদিন পর জালালের ভাই মিলন সরকার বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল লতিফ ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

সিলেট ॥ সিলেটের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র আবু সাঈদ অপহরণ ও হত্যা মামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনকে মৃত্যুদ- ও একজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। সোমবার বিকেল পৌনে ৪টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্তরা হচ্ছেনÑ নগরীর বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল (বরখাস্তকৃত) এবাদুর রহমান পুতুল, র‌্যাবের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা ও সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম রাকিব। উপরোক্ত আসামিদের প্রথমে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির জন্য দ-বিধির ৭ ও ৮ ধারায় মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। অন্যদিকে সাঈদকে অপহরণ করে হত্যার জন্য দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায়ও তাদের মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর আসামি জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মাহিব হোসেন মাসুমকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছে আদালত। শিশু আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে সকাল থেকে সাঈদের স্বজন আর উৎসুক জনতার ভিড় জমতে থাকে। ছুটে আসেন শিশু আবু সাঈদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তার সহপাঠীরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় নির্মম এ হত্যাকা-ে জড়িত সকলের ফাঁসি চাই। বিকেল সোয়া তিনটায় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের বিমর্ষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পিনপতন নীরবতার মধ্যে বিচারক রায়ের মূল অংশ পাঠ করে শোনান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ॥ শিশু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক আদালতের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ সর্ম্পকে বলেন, এটি সিলেটের আরেকটি চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ হত্যা ও মামলা। এ মামলার রায়ে তিনজন আসামি এবায়দুর রহমান, আতাউর রহমান গেদা ও রাকিব সাক্ষ্যপ্রমাণে এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে দোষী প্রমাণিত হয়। অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির জন্য একটি ধারায় পরে খুন করার অপরাধে আরেকটি, দুটি ধারায়ই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও প্রদান করেছে আদালত। অপর আসামি মাসুম আহমদকে দোষ স্বীকার না করায় ও প্রসিকিউশন যথাযথ প্রমাণাধি প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, এ রায়ের মাধ্যমে সমাজের অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং অন্যান্য দোষীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না। রায় ঘোষণার সময় বিচারক এটা তার কর্মজীবনের সর্বশেষ রায় বলে উল্লেখ করেন। পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। আশা করছি দ্রুত এদের বিচার কার্যকর করা হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ॥ আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ আশরাফুল আলম জানান, মামলায় দুর্বল সাক্ষীসহ বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। রায়ের কপি পাওয়ার পর আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

সাঈদের পিতা ॥ শিশু সাঈদের পিতা আব্দুল মতিন বলেন, এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এ রায় দ্রুত কার্যকরের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান।

নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর স্কুলছাত্র রাকিবুল হাসান ইমন (১৩) হত্যা মামলার রায়ে চার আসামিকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিয়াজী শহীদুল ইসলামের আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দ-প্রাপ্ত অপর দুই আসামি পলাতক ছিলেন। এর আগে সম্প্রতি একই আদালত এ মামলার অপর আসামি কিশোর হওয়ায় কিশোর অপরাধ আইনে আল আমিন নামে এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদ- প্রদান করে।

ফাঁসির দ-প্রাপ্তরা হলেনÑ সাইদুর রহমান (২৩), তোফাজ্জল হোসেন (২২), জামান হোসেন (২২) ও শারজাহান আলী ওরফে জীবন (২১)। এর মধ্যে শারজাহান আলী ওরফে জীবন ও জামান পলাতক রয়েছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম জানান, নিহত ইমনের বাবা নুরু মিয়া মরিশাস প্রবাসী। এদিকে নিহত রাকিবুল হাসান ইমনের মা ফেরদৌসি বেগম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

এছাড়া ঢাকার ডেমরার মাতুয়াইলের স্কুলছাত্রী সোনিয়া আক্তার সাজেদাকে (১৪) নারায়ণগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে আসামি দেলোয়ার হোসেনকে ফাঁসির দ- দিয়েছে আদালত। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন রাকিব।

মামলার বাদী নিহত সোনিয়ার মা সাবিনা ইয়াসমিন ময়না জানান, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

চট্টগ্রাম॥ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মোঃ ইউছুপ নামে এক সিএনজি অটোরিক্সা চালককে খুনের দায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদ- এবং ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। সোমবার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় দেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেনÑ আবুল কালাম, রাসেল, কাউসার ও নূরুল আলম। অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত দু’জন হলেন এসএম নঈমউদ্দিন ও আরিফ। এদের মধ্যে কাউসার ও নঈমউদ্দিন কারাগারে আছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে।

কুষ্টিয়া ॥ নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী খাতুনকে হত্যার দায়ে জুয়াড়ি রোকন ম-লকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছে কুষ্টিয়ার একটি আদালত। সোমবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারক রেজা মোঃ আলমগীর হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।

পিপি এ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, ২০১১ সালের ২৬ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার কামালপুরের নাজিরপুর গ্রামের হুলি ম-লের ছেলে ভ্যানচালক রোকন ম-ল জুয়া খেলে টাকা হেরে বাড়িতে ফিরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী খাতুনের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানান, রাত ৯টার পর রোকন স্ত্রী লাইলী খাতুনকে বাড়ির পাশে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ড্রেনে ফেলে দেয়। দুই দিন পর ওই ড্রেন থেকে লাইলীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা লাল চাঁদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

নির্বাচিত সংবাদ