১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাল্টে গেছে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের দৃশ্যপট

  • রাস্তার ওপর ট্রাক রাখার বিরুদ্ধে ডিএনসিসির কঠোর অবস্থান

মশিউর রহমান খান ॥ রাস্তার উপর ট্রাক রাখার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র আনিসুল হক বলেন, রাস্তার উপর ট্রাক না রাখতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। এমন অরাজকতা মেনে নেয়া যায় না। রবিবার অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের পর পাল্টে গেছে এলাকার চেহারা। গোটা রাস্তা খালি। যানবাহন চলাচল করছে অবাধে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নজর রাখছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

রাজধানীর কাওরানবাজার সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রায় ৩৯ একর জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অবৈধ তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড। সরকারের কোন প্রকার অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে এ স্ট্যান্ডটি। এর ভেতরে ও আশপাশে রয়েছে ট্রাক মালিক ও ড্রাইভার্স এ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সংগঠনের অফিস। এক সময় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ভেতরের নির্ধারিত স্থানে রাখা হলেও পরবর্তীতে তা রাস্তাসহ দখল হয়ে যায়। বর্তমানে ওই স্থান ছাড়িয়ে ট্রাকস্ট্যান্ডটি সাতরাস্তা থেকে কাওরানবাজারে যাওয়ার রাস্তায় গিয়ে ঠেকেছে। এ স্ট্যান্ডটিতে যেতে পাঁচটি সংযোগ সড়ক রয়েছে। দখলের হাত থেকে বাদ যায়নি এ সড়কগুলোও। ফলে কোন বড় ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান ভেতরে রাখা তো দূরের কথা স্ট্যান্ডের ভেতরেই প্রবেশ করতে কষ্ট হয়। ফলে বাধ্য হয়েই রাস্তার উপর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখা হয়। সন্ধ্যার পর কিংবা কখনও কখনও দিনের বেলায় এ রাস্তাটিতে বড় যানবাহন তো দূরের কথা একটি সাইকেল কিংবা একা হেঁটে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে, যা নিয়মিত রূপধারণ করেছে। তবে এক-এগারোর সময় রাস্তাটি প্রথমবারের মতো চলাচলের জন্য খালি করা হলেও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডটি সরাতে কোন প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়নি, যা এই প্রথমবারের মতো করা সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মূলত এ স্ট্যান্ড ঘিরে রয়েছে কয়েক হাজার লোকের বৈধ-অবৈধ দৈনন্দিন আয়ের উৎস। যে দলই ক্ষমতায় আসে সে দলেরই এ স্ট্যান্ডের কর্তৃত্ব বজায় থাকে। একটি গ্রুপ রয়েছে যারা সব সরকারের সময়েরই নেতাকর্মী বলে পরিচিত হন। রবিবারের উচ্ছেদ অভিযানে বিশৃঙ্খলাকারী হিসেবে সেসব লোকদের অনুগতদেরই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শুধুমাত্র ঘরভাড়া আর দৈনিক চাঁদা বাবদ মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হয় এ অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডটি থেকে। এছাড়া পরিবহনের কিছু সুবিধাভোগী নেতা নিয়মিত বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেন। মাদক বিক্রি, পরিবহন ও গ্রহণ করা, অস্ত্রভা-ার হিসেবে ব্যবহার করা, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ছিনতাই করে টাকা ভাগাভাগি সবই হয় এ অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডের ভেতরে। মূলত অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা ছোট ছোট দোকান আর ঘরের মালিক দাবিদাররাই এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হন। এসব কর্মকা- অনায়াসে সম্পাদন করার পেছনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ইন্ধন রয়েছে।

সিএসডির কয়েকটি গোডাউনসহ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনের জন্য এ ট্রাকস্ট্যান্ডের নাম বেশ পরিচিত। এছাড়া রাজধানীর তথা সারাদেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার হিসেবে খ্যাত কাওরানবাজারের সংলগ্ন স্থানে এটি থাকায় সকল মালামাল পরিবহনের জন্য এ ট্রাকস্ট্যান্ড বিশাল ভূমিকা পালন করে। যুগের পর যুগ ধরে এ স্ট্যান্ডে অবৈধভাবে ট্রাক রাখছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত এ ট্রাকস্ট্যান্ডটির বৈধতা না থাকায় যে যার মতো করে দখল করে রেখেছেন। নব্বইয়ের দশক থেকেই এ ট্রাকস্ট্যান্ডটি সরাতে বিভিন্ন সরকার চেষ্টা করলেও অজ্ঞাত কারণে তা সরাতে পারেননি। মূলত রাজনৈতিক আশ্রয় আর প্রতিদিনই মোটা অংকের টাকা আয়ের উৎসস্থল হওয়ায় এ ট্রাকস্ট্যান্ডে বর্তমানে একপ্রকার বৈধতায় রূপ নিয়েছে।

সরকারী জমিতে বিশাল আয়তনের ওপর এ ট্রাকস্ট্যান্ডটি গড়ে উঠলেও সর্বশেষ অবস্থায় দেখা গেছে এর অর্ধেকের বেশি অংশজুড়েই কয়েক শত ছোট ছোট দোকান, টংঘর। পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে শত শত ট্রাক আর নষ্ট ভাঙ্গাচোরা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেলে রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই এ স্ট্যান্ডের ভেতর ট্রাক, ভ্যান মেরামত, রং করা, রিপেয়ারিংয়ের কাজ চলে। এ যেন একটি বৃহৎ ওয়ার্কশপে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তা চলমান রয়েছে। দীর্ঘ বছরের ইতিহাসে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কোন মেয়র বা রেলমন্ত্রী কিংবা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী তাদের স্থানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ স্ট্যান্ডটি সরাতে তেমন উদ্যোগ নিতে দেখেনি এ এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে বসবাসকারী লোকজন। ফলে বৈধতায় রূপ নেয় এ ট্রাকস্ট্যান্ডটি। এলাকাটিতে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের লোকদের বসবাস বেশি হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে কাওরানবাজারের কুলি, দৈনিক শ্রমিক, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। যার প্রভাব রবিবারের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দেখা যায়। শুধুমাত্র রাস্তা দখল করে রাখা যানবাহনের জন্য উক্ত রাস্তাটি ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। নিয়মিত এ স্থান দিয়ে পায়ে হেঁটে কিংবা রিক্সার যাত্রীরা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সন্ধ্যার পর যে কোন ব্যক্তি কয়েকজন ছাড়া এ রাস্তা দিয়ে একা চলতে পারে না। ছিনতাই রোধে স্থানীয় থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালালেও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আখড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় তা কোনক্রমেই রোধ করতে পারছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডটি সরাতে বিএনপি আমলের মন্ত্রী নাজমুল হুদা ৪ বার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ট্রাকস্ট্যান্ড সরানো তো দূরের কথা দখলদারদের শক্ত অবস্থান রাস্তার উপর থেকে একবারের জন্য একটি ট্রাক বা ভ্যানও সরাতে পারেননি। এছাড়া ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা দুইবার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। জানা গেছে, বিএনপি আমলে এ ট্রাকস্ট্যান্ডটি ও রাস্তার উপর রাখা ট্রাক না সরাতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান নিষেধ করেন। ফলে বাধ্য হয়েই বন্ধ হয়ে যায় স্ট্যান্ড সরানোর কার্যক্রম। পরে ওয়ান-ইলেভেনের সময় কিছুদিন রাস্তার উপর ট্রাক-ভ্যান রাখা বন্ধ থাকে। পরে আবার তা দখলে চলে যায়। সর্বশেষ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নে এক হওয়ায় এ উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারই প্রথমবারের মতো ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হকের বিশেষ উদ্যোগে বারবার ওই স্ট্যান্ড পরিদর্শন করা, মালিক শ্রমিক, ড্রাইভারদের সঙ্গে আলোচনা করা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করা নিয়ে কয়েকবার আলোচনা করা হয়েছে। এর আগে কোন মেয়র নিজে উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানে যেতে দেখা যায়নি। তিন দফা সময় দেয়ার পর মেয়র সর্বশেষ ২৭ নবেম্বরের মধ্যে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দেন। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর, নেতাকর্মী, মালিক শ্রমিক নেতারা মিলে রাস্তার উপর থেকে গাড়ি সরানোসহ ট্রাকস্ট্যান্ডটির ভেতরের অবৈধ স্থাপনা সরাতে বিশেষ উদ্যোগ হাতে নেয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা মূলত রাস্তার ওপর কোন প্রকার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান না রেখে তাদের দখলকৃত স্ট্যান্ডের ভেতরের স্থানে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়। তবে ভেতরের স্থান আগে থেকেই দখলে থাকায় তা দখলমুক্ত করতেই সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা চান। মূলত প্রাথমিকভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড পুরোপুরি উচ্ছেদ নয়, রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে ও স্ট্যান্ডের ভেতরের দখলকৃত স্থাপনা সরাতেই রবিবার তেজগাঁওয়ে যান মেয়রসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ডিএনসিসি সূত্র জানায়, দখলকৃত স্থানটি তাদের না হওয়ায় শুধু রাস্তার উপর রাখা গাড়ি ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরাতেই তারা সেখানে যান। তবে এর আগে কোন মেয়র এ রাস্তাটি খালি করতে পারেননি বিধায় একে স্থানীয় লোকজন ও রাস্তাটিতে নিয়মিত চলাচলকারী ছাড়াও ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা একে বিশাল সফলতা হিসেবে দেখছেন, যা মেয়রের পরবর্তীতে সকল অবৈধ স্থাপনা সরাতে এক বিশাল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা। তবে সুবিধাভোগী দখলবাজদের ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত আসায় তারা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।

সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডের নেতাকর্মীদের মতে, এ স্ট্যান্ডটিকে পুরোপুরি অবৈধ বলা যাবে না। তারা এই ৩৯ একর জমি সরকার কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণের জন্য উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। তবে রেজিস্ট্রেশন কিংবা সরকারী জমি ব্যবহারে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কে তারা কিছু বলতে নারাজ। আর এভাবেই এ ট্রাক স্ট্যান্ডটি বৈধতা পাচ্ছে।

মেয়রের সংবাদ সম্মেলন ॥ তেজগাঁও থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ নয় বর্তমানের স্ট্যান্ডটির ভেতরে বছরের পর বছর ধরে দখলকৃত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতেই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সেখানে গিয়েছিল। এ অভিযান চলাকালে আমরা অবরুদ্ধ হইনি, উচ্ছেদ কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন করতেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলাম। ওই রাস্তার উপর ট্রাক না রাখতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। এছাড়া জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকগণের পাশাপাশি মিডিয়াও আমাদের সঙ্গে রয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ও তাদের খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গ্রেফতারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক আয়োজিত ‘জনদুর্ভোগ নিরসনে উচ্ছেদ কার্যক্রম’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আনিসুল হক এসব কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, তেজগাঁওয়ের অভিযান পরিচালনায় যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যিনি ওই এলাকার এমপি, নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এমপি, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপিসহ স্থানীয় সকলেই সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশসহ কর্পোরেশনের লোকজন তো রয়েছেনই। তাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা অবরুদ্ধ হওয়ার কথাই আসে না। এর আগে আমি ওই স্থান ৮ বার পরিদর্শন করেছি। ট্রাক শ্রমিক মালিকসহ স্থানীয় লোকদের সঙ্গে আমি নিজে ১০ বার মিটিং করেছি।

মূলত তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের আশপাশে কিছু প্রভাবশালী নেতাদের কারণে রবিবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যারা ওখানকার দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ঢিল ছুড়েছে। এদের অনেকেই আগে একদল করতেন, বর্তমানে আরেক দল করছেন। কিছু লোক এই স্থান থেকে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করতেন, যা বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মূল উস্কানিদাতা সহযোগী ও বিশৃঙ্খলাকারীসহ ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি, ওদের খুঁজে বের করতে। এ নিয়ে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, রেলওয়ের জমিতে বর্তমানে তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। আমরা স্থায়ীভাবে একটি বড় ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করতে ও বাসস্ট্যান্ড তৈরি করতে জায়গা খুঁজছি। আশা করি খুব শীঘ্রই তা পাওয়া যাবে। আমরা ঢাকার ভেতরের যানজট কমাতে বাসস্ট্যান্ড ও ট্রাকস্ট্যান্ডকে ঢাকার বাইরে নেয়ার চিন্তা করছি। এছাড়া উচ্ছেদকৃত স্থানে কোন ট্রাক মালিক ট্রাক রাখবেন না বলে আমাদের কাছে ওয়াদা করেছেন। রবিবারের সহিংসতায় সিটি কর্পোরেশনের ভাংচুর হওয়া গাড়ির পরিসংখ্যান সাংবাদিকদের বিতরণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের সাতটি গাড়ির বিভিন্ন অংশের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কর্পোরেশনের চালক, হেলপার ও উচ্ছেদকর্মীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, কোথায় ট্রাক থাকবে সেটা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়। এটা ট্রাক মালিকরা দেখবেন। এ এলাকার রাস্তায় এখন কোন ট্রাক নেই। আশা করি ভবিষ্যতেও এখানে আর ট্রাক রাখতে দেয়া হবে না। নাগরিক দুর্ভোগ লাগবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই করবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। রবিবারের উচ্ছেদ নিয়ে তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে আমরা মূলত অবরুদ্ধ ছিলাম না। আমাদের কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। আমরা আমাদের অভিযান সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রায় ৫ শতাধিক স্থাপনা এই কয়েক দিনে সরিয়েছি। এখনও ৮ থেকে ১০টি স্থাপনা রয়েছে। ওই স্থাপনার লোকজন আমাদের কাছে রবিবারই কিছু কাগজ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তারা বলতে চেয়েছেন যে, এসব স্থান বৈধ। এ সম্পত্তি বাংলাদেশ রেলওয়ের। তারা সেখান থেকে লিজ নিয়েছেন। আমরা এসব কাগজ যাচাই করে তার সত্যতা পেলে ভাল না হলে সেগুলোও ভেঙ্গে দেয়া হবে। এ জন্য উক্ত স্থাপনার মালিকদের ১০ দিন সময় দেয়া হয়েছে।

আন্দোলনরতদের সঙ্গে কোন প্রকার সমঝোতা হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, কার সঙ্গে নেগোসিয়েশন হবে? কারও সঙ্গে হয়নি। আমরা একটা মডার্ন ট্রাকস্ট্যান্ড করব। সেজন্য ঢাকার বাইরে জমি খুঁজছি। রবিবারের ঘটনায় শ্রমিকদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। এটা ট্রাক মালিক ও সিটি কর্পোরেশনের বিষয়। শ্রমিকদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করাচ্ছে মালিকরা। আমাদের অনেক ফোর্স ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমাকে বলেছেন, মুহূর্তের মধ্যে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে। কিন্তু এরপরও আমি শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দিইনি। কারণ আমি এদের ভোটে নির্বাচিত মেয়র। আমি অবরুদ্ধ হলে তাদের সরিয়ে দিতাম।

মেয়র বলেন, আমরা এরই মধ্যে ডিএনসিসি এলাকা থেকে ২০ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করেছি। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে গুলশান বনানী বারিধারায় আরও এক হাজার সিসি ক্যামেরা বসবে। এরপর অন্যান্য এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসবে। এছাড়া আগামী ২ বছরের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকার সকল এলাকা ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। তখন একটি সুচ পড়লেও তা বের করতে সক্ষম হব।

আনিসুল হক বলেন, বর্তমান যানজট নিরসনে আমি রাজধানীর পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বসেছি। তারা আমাকে কমিটমেন্ট দিয়েছেন, তিন শ’ কোম্পানির মধ্য থেকে ৫-৭টি কোম্পানিতে নামিয়ে আনবেন। এদের মাধ্যমে আমরা কর্পোরেশনের সহায়তায় ৩ হাজার নতুন গাড়ি নামাব। কাওরানবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে এদের জন্য একটি মার্কেট তৈরি করেছি। এদের সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে। ফলে এ এলাকায় আর কোন যানজট থাকবে না। আমরা মাত্র ৪৮ ভাগ কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাজ করছি। তাই সব কাজ আশা করি নতুন প্রস্তাবকৃত অগ্রানোগ্রামটি পাশ হলেই করা সহজ হবে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাক মালিক ও ড্রাইভার্স এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসি এলাকার প্রায় সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণসহ কর্পোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।