২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশ অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে, কোন কিনারা করতে পারেনি

  • বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে মুসল্লিদের ওপর দুর্বৃত্তের গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় পুলিশ অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত কোন কিনারা করতে পারেনি। পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে তাদের কাছ থেকেও কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। এদিকে র‌্যাব যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল তাদের মধ্যে দু’জনকে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এই দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের পর আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে। পুরো ঘটনা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে আছে।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত মসজিদের ইমাম শাহীনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পাঠনো হয়েছে। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক শিবগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করার পর গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে আতঙ্কিত না হয়ে আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা করণীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাই করা হবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে চককানু গ্রামের শিয়া মসজিদে প্রতি ওয়াক্তে মুসল্লিরা নামাজ আদায় শুরু করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি বিশেষ পন্থায় তদন্ত করছে। জেলা পুলিশের তদন্তে থানা পুলিশ ডিবি ডিএসবি সিআইডি এবং ছায়া তদন্তে আছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)। আলাদাভাবে র‌্যাব তদন্ত করছে। এর বাইরেও ঢাকা থেকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের দুই সদস্যের টিম এসেছে। র‌্যাবের সূত্র জানায়, শীঘ্রই তারা বড় ধরনের অভিযান চালাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত আয়োজনের পরও গেল ৫ দিনে তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই।

পুলিশের এক সূত্র বলেছে, তারা অনেকটা অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে বেড়াচ্ছে। শিবগঞ্জের শিয়া সম্প্রদারের গোড়াপত্তনকারী মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ম-ল বলেছেন, পুলিশ এখনও কোন কিছু করতে না পাড়ায় তাদের আতঙ্ক কাটছে না, নিরাপত্তা নিয়ে এখনও চিন্তিত। বাংলাদেশ ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন পুলিশের কিনারা করতে না পাড়ায় উদ্বিগ্ন। ঘটনাস্থল এবং আশপাশে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পও স্থাপিত হয়েছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি। পুলিশের আরেক সূত্র গতানুগতিক ধারার কমন কথায় বলেছেন, গ্রেতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তদন্তের স্বার্থে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। আরেক সূত্র বলছে, গ্রেফতারকৃতরা খুবই চতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির। কোন ভাবেই মুখ খুলছে না। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে একজন আনোয়ার হোসেন (৪৮) জেএমবির সাবেক ক্যাডার ও এহসার সদস্য। উগ্রপন্থীদের ভাষার এহসার অর্থ জীবন উৎসর্গকারী। সূত্র পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, জেএমবির ক্যাডাররা ধরা পড়ার পর মনে করে তারা মৃত। এভাবেই তারা প্রশিক্ষণ পায়। কওমী মাদ্রাসায় লেখাপড়ার কারণে এদের প্রগতিশীল ভাবনা নেই। ইহকাল-পরকাল সম্পর্কে যেভাবে মগজ ধোলাই করা হয় আচরণ সে ভাবেই তৈরি করে নেয়। রিমান্ডে নেয়া কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল আলম প্রচণ্ড শিয়া বিদ্বেষী। ওয়াজ মহফিলে তিনি শিয়াদের বিরুদ্ধে এতটাই উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।