২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জে রাজাকাররা পরেশকে গুলি করে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;রশিদ ভূঁইয়ার জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর এটিএম নাসির আহম্মদ ও শামসুদ্দিন আহম্মদসহ ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৪তম সাক্ষী মোঃ আব্দুর রশিদ ভুইয়া জবানবন্দীতে বলেছেন, রাজাকাররা পরেশকে গুলি করে হত্যা করেছে। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০ রাজাকারের মধ্যে অন্যতম আসামি ছালামত উল্লাহ খানের জামিন শুনানি করেননি ট্রাইব্যুনাল। আসামির জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২৭ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। পরে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান সাক্ষীদের জেরা শেষ করেন।

প্রসিকিউশনের সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ আব্দুল রশিদ ভুইয়া। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬২ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম রামনগর, থানা কিশোরগঞ্জ, জেলা কিশোরগঞ্জ। একাত্তর সালে আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১৪ বছর। তখন আমি কমিরমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ঐ স্কুলে পরেশ এবং শাহ আলম নামে দুইজন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। তাদের গ্রামের নাম রামনগর, থানা করিমগঞ্জ, জেলা কিশোরগঞ্জ। অন্য একজনকে চিনতাম তার নাম শামসুদ্দিন আহম্মেদ। তিনি ঐ স্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। ঐ শামসুদ্দিন আহম্মেদ আতকাপাড়া গ্রামে তৈয়ব উদ্দিনের বাড়িতে লজিং থেকে পড়ালেখা করত। তার নিজের বাড়ি করিমগঞ্জ ডুলি পাড়ায়। বর্তমানে শিল্প পাড়া।

একাত্তরের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে নয়টার সময় পরেশের বাড়ির সামনে নরসুন্ধা নদীতে আমি মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। নদীতে মাছ ধরার সময় দেখতে পাই আসামি শামসুদ্দিন আহম্মেদ তার সঙ্গীয় অন্য দুই রাজাকার নিয়ে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছে। তিন জন ছাড়া তাদের একজনের মাথায় একটি বাক্স নিয়ে যাচ্ছে। তারা পরেশের বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। পরেশকে আসামি শামসুদ্দিন আহম্মেদের তার নিকট যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। আসামি শামসুদ্দিন আহম্মেদ পরেশকে তার নাম জিজ্ঞাসা করে। বলে এই তোর নাম কি? পরেশ তখন শামসুদ্দিন আহম্মেদকে বলে, আপনি কি আমার নাম জানেন না? তখন আসামি শামসুদ্দিন আহম্মেদ বলে, এই মালাউনের বাচ্চা আমি কি তোর নাম মুখস্থ করে বসে আছি। এরপর একটা গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনি। তারপর দেখি রাজাকাররা পূর্ব দিকে চলে যাচ্ছে। রাজাকাররা চলে যাবার পর আমি পরেশের কাছে যাই তখনও পরেশ জীবিত ছিল। আহত অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়।

ছালামত উল্লাহর জামিন শুনানি ২৭ ডিসেম্বর ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০ রাজাকারের মধ্যে মামলার অন্যতম আসামি ছালামত উল্লাহ খানের জামিন শুনানি করেননি ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে এই শুনানি করবেন না বলে আইনজীবীকে জানিয়ে দেন।