২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরনো গাড়িতে শুল্ককর ইস্যুতে ত্রিমুখী সঙ্কট

  • কাল অর্থসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নতুন গাড়ির চেয়ে পুরনো গাড়ির শুল্ককর বেশি ধার্য করায় মংলাবন্দরে আটকে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর হচ্ছে না। এতে করে সরকার পাচ্ছে না রাজস্ব, গাড়ির জটে অচল হয়ে আছে মংলাবন্দর এবং পুঁজি হারাচ্ছেন আমদানিকারকরা। ফলে আটকে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে ত্রিমুখী সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে জরুরী বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শুল্কায়ন জটিলতা দূর করে দ্রুত গাড়িগুলো বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বন্দরে আটকে থাকা গাড়িগুলো খালাসের জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতা এবং নতুন গাড়ির চেয়ে পুরাতন গাড়ির শুল্ককর বেশি ধার্য করায় এ সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান হচ্ছে না। এ অবস্থায় আগামী ২ ডিসেম্বর বুধবার অর্থসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মংলাবন্দরে আটকে থাকা ২ হাজার ৭৯টি গাড়ি দ্রুত খালাসের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, শুল্কায়ন জটিলতায় আটকে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত এ সংক্রান্ত ফাইলপত্র নড়াচড়া শুরু হয়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সম্প্রতি বৈঠক করেছেন গাড়ি আমদানিকারকরা। ওই বৈঠক করার পর বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত গাড়িগুলো খালাস করে সরকারী কোষাগারে রাজস্ব প্রদান, আমদানিকারকদের পুঁজি রক্ষা এবং বন্দর খালি করার জন্য বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশস্থ জাপানিজ শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক এ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ উপদেষ্টা আবদুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, এই সঙ্কট দীর্ঘদিনের। নতুন গাড়ির পুরনো গাড়ির শুল্ক বেশি ধার্য করায় আমদানিকারকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, এই সঙ্কট দূর করে শুল্কহার সমন্বয় করা হোক। কোনভাবেই ২০০৬ সালের গাড়ির শুল্ক ২০১০ কিংবা ২০১৫ সালের গাড়ির চেয়ে বেশি হতে পারে না। এটা বড় ধরনের বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করে সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হোক।

শুধু তাই নয়, ২০০৬ ও ২০০৯ সালের ক্ষেত্রে একই শুল্কহার ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার্য্য থাকায় অপেক্ষাকৃত পুরাতনগাড়িগুলো বাজারজাত করা সম্ভব নয়, বিধায় এতদিন গাড়িগুলো বন্দর হতে খালাস করা হয়নি। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে মংলাবন্দরের কার্যক্রম বাড়াতে গত ২০০৯ সালে এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি শুরু হয়। কিন্তু পলিসি সহায়তা না পাওয়ায় গাড়িগুলো ছাড়করণ সম্ভব হয়নি। এছাড়া শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণে নির্বতনমূলক পদ্ধতি বিদ্যমান থাকায় স্বাভাবিকভাবেও গাড়িগুলো খালাস হতে পারেনি। এত কিছুর পরও সঙ্কট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। এ প্রসঙ্গে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি হামিদ শরীফ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আটকে থাকা গাড়িগুলো বন্দন হতে খালাসের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে গাড়িগুলো খালাসে তাঁরা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে কখনও পুরোনো গাড়ির শুল্কহার নতুন গাড়ির চেয়ে বেশি হতে পারে না। তাই অর্থসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, দ্রুত আটকে থাকা গাড়িগুলো খালাস করে এ শিল্পের আমদানিকারকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, আটকে থাকা গাড়িগুলো পুলিশী কাজে ব্যবহারের জন্য দেয়া হলে বিদেশীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এতে করে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এদেশে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এটা কোনপক্ষের জন্যই ভালো খবর নয়। বন্দরে আটকে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে নিউজিল্যান্ডের আইন-কানুন অনুসরণ করা যেতে পারে।।