২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রক্ত আর কিডনিতে কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই

  • অসহিষ্ণুতার বাতাবরণেও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ডাক্তাররা বলেছেন, আর মাস তিনেকের বেশি কাজ করবে না ছেলের কিডনি। বাবা নিজে কিডনি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রক্তের গ্রুপ না মেলায় সে পথ বন্ধ। আবার এত অর্থ নেই যে কিডনি কিনবেন। এমন সময়ই দেখা হয় ভারতের ঝাড়খ-ের অনিল রজকের সঙ্গে। তার স্ত্রী ৩৭ বছরের সঙ্গীতা কুমারীও একই হাসপাতালে ভর্তি কিডনির সমস্যা নিয়ে। তারও রক্তের গ্রুপ না মেলায় তিনি নিজে স্ত্রীকে কিডনি দিতে পারছেন না। গল্পের শেষটা আন্দাজ করা এরপর খুব কঠিন নয়। কারণ বিহারের ছেলে ২৩ বছরের সামসাদ আলীর বাবার সঙ্গে মিলে যায় অনিলের স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ। আর ছেলেটির রক্তের গ্রুপ মিলে যায় অনিলের সঙ্গে। অনিল কিডনি দেন আলীকে। আর সঙ্গীতার দেহে এখন স্বচ্ছন্দে মিশে গেছে আলীর বাবার কিডনি। গত অক্টোবরে একই হাসপাতালে ভর্তি দুই রোগীকে ধর্মের বেড়া ভেঙ্গে মানবতার সূত্রে বেঁধে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে দেশজুড়ে চরম অসহিষ্ণুতার আবহে কলকাতার উপকণ্ঠের এই ঘটনা সম্প্রীতির অনন্য নজির হয়ে রইল বলে মনে করছেন অনেকেই। উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গোমাংস খাওয়ার গুজবের জেরে বহু দিনের প্রতিবেশী সংখ্যালঘু প্রৌঢ়কে পিটিয়ে মেরেছিল একদল গ্রামবাসী। আর কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসা দুই অচেনা পরিবারের মধ্যে আজ পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক। সঙ্গীতা এখন আলীর ‘দিদি’। ওই হাসপাতালে বসেই কথা বলছিলেন ভাই-বোন। সত্যিই কি ধর্মের কথাটা একেবারেই মাথায় আসেনি? আলী-সঙ্গীতা এক সুরে জানালেন, জীবন ফিরে পাওয়ার চেয়ে বড় আর কিছু নয়। পরিবারে একটু দ্বিধা হয়ত ছিল, ডাক্তাররাই তা কাটিয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসকরাও বলেন, প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এই ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব একটা বড় বাধা। ধর্মের বেড়া ভাঙাটা মাঝেমধ্যেই প্রবল সমস্যার হয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুজনেই ভিন্ন রাজ্যের। তাই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো থেকে অনুমোদন আসার জন্য কিছু দিন অপেক্ষা করতে হয়। সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দাতারা সম্পূর্ণ সুস্থ। আলী ও সঙ্গীতাও সেরে উঠছেন।- আনন্দবাজার পত্রিকা