১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দল-ক্রিকেটারদের ব্যর্থতায় হতাশ তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার চট্টগ্রাম থেকে ॥ পাঁচ ম্যাচের ৪টিতেই হার! বেহাল দশা দলের। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) তৃতীয় আসরে ফাইনালে খেলা দূরে থাক, লীগ পর্বই অতিক্রম করতে পারবে না চিটাগাং ভাইকিংস। ছিটকে পড়বে। এমন অবস্থায় চিটাগাংয়ের অধিনায়ক তামিম ইকবাল হতাশাতেই ভুগছেন। বলেই দিলেন, ‘আমি তো আর হাতে ধরে বুঝিয়ে দিতে পারব না।’ সেই সঙ্গে কষ্টের কথাও জানালেন, ‘সবার বোঝা উচিত কি কি করা দরকার।’

শুধু সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে জিতেছে চিটাগাং। রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ডায়নামাইটসের পর সোমবার বরিশাল বুলসের কাছেও হেরেছে চিটাগাং। টানা ৩ ম্যাচে হার হয়েছে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেটে হারের পর সিলেটকে হারায় চিটাগাং। তবে এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ৭ উইকেটে ও ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ৬ উইকেটে হারে চিটাগাং। সোমবার চট্টগ্রাম ধাপের প্রথম ম্যাচেও হার হল দলটির। বরিশালের কাছে ৩৩ রানে হারে।

কেন এমন হচ্ছে? বলতে গিয়ে তামিম হতাশার কথাই জানান। বলেন, ‘আমাদের শুরুটা (ফিল্ডিংয়ে) ছিল দারুণ। এরচেয়ে ভাল আশা করা যায় না। বিশেষ করে প্রথম ৬ ওভারে (২২ রানে ৩ উইকেট ছিল বরিশালের)। এরপর সেই পুরনো গল্প। ক্যাচ মিস, রান আউট মিস, এ সবই আমাদের অনেক ভুগিয়েছে। ২৫ রানে মাহমুদুল্লাহ’র সহজ রান আউট মিস করেছি আমরা। (সেকুগে) প্রসন্ন সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছে। আর এলটন (চিগুম্বুরা) ওই ওভারে (১৯তম ওভারে ২২ রান দেন) ওরা ম্যাচ আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে আমি মাহমুদুল্লাহ ও বরিশালের কাছ থেকে কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না।’

শুধু তামিমের একার নয়, সবারই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। না হলে কি ম্যাচ জেতা যাবে? তামিম যেন তাই বোঝাতে চাইলেন, ‘আমি তো আর হাতে ধরে বুঝিয়ে দিতে পারব না! এই লেবেলে সবাইকে বুঝতে হবে যে কি করা উচিত। আমার দলে এই ব্যাপারটিই মূল ঘাটতি। সবার বোঝা উচিত তাদের কি কি করা দরকার। কারণ আমি অধিনায়ক হতে পারি। কিন্তু সবসময় বলতে পারি না কোথায় বল করতে হবে বা কি করতে হবে। আমি ব্যাট করার সময় তো কারও দিকে তাকিয়ে থাকি না শোনার জন্য।’

বোলারদের শত বোঝানোর পরও কাজ হচ্ছে না বলেই তামিমের মুখ থেকে বের হয়েছে। যেমন জানালেন, ‘কেভন কুপার কভারের ওপর দিয়ে খেলতে, সোজা খেলতে পছন্দ করে। এলটন যখন বোলিংয়ে তখন স্কয়ার লেগ ও মিড উইকেটটা ছিল বড় সাইড। যদি কুপার ঐ জায়গায় মারে তাহলে আউট করার সম্ভাবনা থাকবে। কিংবা ১ রান হবে। চিগুম্বুরা বলছিল যে কোথায় বল করলে ভাল হবে। আমি যেটা চাইছিলাম, সেটা সে পারছিল না। তবে শুধু বোলারদের আমরা দায় দিতে পারি না। ক্রিকেটে এসব হতেই পারে। আমাদের অন্য ব্যাপারগুলোও ঠিক করা উচিত।’

কি সেই ব্যাপারগুলো? তামিম জানালেন, ‘শরীরী ভাষা আমাদের শুরুতে ভালই ছিল। ১১ ওভার পর্যন্ত ভাল ছিল। ক্যাচ মিস করা, রান আউট মিস করার পর থেকেই আমার কাছে মনে হল উই আর কামিং ডাউন, কামরান যেভাবে আউট হল, আমি শুধু বলতে পারি যে এটা ছিল স্কুল বয় এরর।’

শুধু ব্যাটসম্যান নন, বোলাররাও কিছুই করতে পারছেন না। তামিম সেটিও বোঝাতে চাইলেন, ‘আমার দলে একটাই বোলার, যাকে দেখে মনে হয় উইকেট নিতে পারে, সে মোহাম্মদ আমির। এছাড়া আর কাউকে দেখছি না। শফিউল অবশ্য ভাল করছে। এছাড়া উইকেট শিকারি বোলার নেই। এই জায়গায় একটু ঘাটতি আছে আমাদের। কিন্তু নামগুলো যদি দেখেন, নাম কিন্তু এটা বলে না। নাম যা বলে তারা করছে অন্য কিছু।’

তামিম যে হতাশ তা পুরোপুরি বোঝা গেল এই কথায়, ‘আমাদের জন্য কাজটা এখন অনেক কঠিন। পরের ৫ ম্যাচের অন্তত চারটা জিততে হবে। তবে ক্রিকেটে অসম্ভব কিছুই নয়। যে কোন কিছুই হতে পারে। একটি ভাল ম্যাচ দরকার, এরপর সেই মোমেন্টামকে বয়ে নিতে হবে। এই মোমেন্টাম আমরা পাচ্ছি না। আমরা স্টুপিড কাজ করছি। ওদের ব্যটিংয়ের সঙ্গে আমাদের ব্যাটিংয়ের তুলনা করলে ওরা ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইনিংস গড়ে তুলেছে। কিন্তু আমরা শুরুতে উইকেট হারানোর পর কেউ দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গড়ে তোলেনি। এভাবেই খেলতে হয়। ওপেনাররা সবদিন ভাল করবে না।’

কামরান, তিলকারতেœ দিলশানদের দায়িত্ব নিয়েও হতাশ তামিম, ‘সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। জানে কি করতে হবে। আমি নিশ্চিত সবাই ভাল করতে চায়। হ্যাঁ, আমি যা বললাম, এই ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে পারে সবাই। কামরান আকমলের আউট (ব্যাট প্লেস না করে রান আউট হয়েছেন) যেমন, সেটার কোন জবাব নেই আমার কাছে। দিলশান যে মানের ব্যাটসম্যান ও ব্যাটিং করে গেলে আমরা ভাল অবস্থায় থাকতাম। এই দায়িত্বের জায়গাটা বুঝতে হবে। ওদের ওপর আমাদের নির্ভরতা অনেক বেশি। এই ব্যাপারটা ওদের বুঝতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি তো ক্রিকেটার কেনে, পারফর্মেন্স কিনতে পারে না। ক্রিকেটে ভাল খারাপ হতেই পারে। এটা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নাই। কিন্তু আমি চাইব ওরা যেন দায়িত্ব নিয়ে খেলে। শুরুটা ভাল হলে সেটা যেন কন্টিনিউ করে।’

বীমারও হয় চিটাগাং ভাইকিংস-বরিশাল বুলস ম্যাচে। আর তাই খানিকটা সন্দেহও জাগে। তামিম বলেছেন, ‘সন্দেহজনক নয়। আমরা খারাপ খেলেছি। দল হিসেবে আমরা খারাপ করেছি আমিসহ। এ জন্য এমন হয়েছে। কিন্তু সন্দেহজনক এসব নিয়ে আমাদের চিন্তাও করা উচিত নয়। সবাই ভাল, ফেয়ার ক্রিকেট খেলছে। চার খেলায় প্রথম মনে হয় ফ্রি হিট দিয়েছি। এটা হয়ে গেছে। ওটা নিয়ে আমার কোন কমপ্লেন নেই। তবে ফিল্ডিং নিয়ে কথা আছে।

কিলিং যে জিনিসটা, দেখেন আমরা যদি রাইট মোমেন্টে রাইট ক্যাচগুলো অথবা যদি অপরচুনিটিগুলো ধরতাম তাহলে কিন্তু কিলিংই অবস্থা হত। তারা ৭৫/৫ ছিল। মাহমুদুল্লাহ যদি আউট হত ৭৬/৬ হত। যদি প্রসন্নর ক্যাচটি ধরতাম তাহলে ১০০ এর কিছুতে ৭ উইকেট পড়ত। সঠিক সময়ে আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছি।’ শুধু হতাশার কথাই বলে গেলেন তামিম। এখন যদি দল সেই হতাশা কাটাতে পারে।