২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্তে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা

  • ইমিগ্রেশন ও রেলপথ পুনরায় চালু দাবি

তাহমিন হক ববি, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত থেকে ॥ এপার-ওপার দুই বাংলার লাখো মানুষের ঢল নেমেছে নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্তে। সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে এপার (বাংলাদেশ) এবং ওপারে (ভারত) বসবাসকারীদের মধ্যে চোখের দেখা আর কথা বলার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ কিমি সীমান্তজুড়ে আবালবৃদ্ধবনিতার আনন্দের অশ্রুধারা নামে এপার-ওপারের আত্মীয়স্বজনদের চোখে। এ সময় ভারতের হলদিবাড়ির মানুষজনের হাতে হাতে দেখা যায় পুনরায় ‘হলদিবাড়ি-চিলাহাটি আইসিপি (ইমিগ্রেশন) খুলতে হবে, পুনরায় হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথ চালু করতে হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন-ব্যানার। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে থাকা হলদিবাড়ির শমসের আলী সরকার বলেন, আমরা দুই বাংলার মানুষ ২০০৪ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ইমিগ্রেশন ব্যবহার করেছি। কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের সময় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি পুনরায় চালুর দাবি নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করছি।

দুই বাংলার মানুষের এই মিলনমেলা চলে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। ডোমারের ভোগডাবুড়ি গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ ধনির উদ্দিনের প্রায় ৪০ বছর পর দেখা হয় হলদিবাড়ির প্রধানপাড়ার বাসিন্দা ছোট বোন আম্বিয়ার সঙ্গে। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে বসে দুই ভাইবোনের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। ভাই ছোট বোনকে তিনটি ইলিশ মাছ দিতে পেরেছেন। অপরদিকে ছোট বোন ভাইকে দিয়েছেন লুঙ্গি। তবে ভাইবোনের মধ্যে কথা হলেও কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি।

কুড়ি বছর পর দেখা হলো, কথা হলো; কিন্তু কাঁটাতারের ব্যবধানে এপার ওপার দুই বাংলার দুই ভাই আব্দুল কাদের (৬৫) ও সাইদুল ইসলামের (৬০) হাত ছোঁয়া হলো না। অপরদিকে নানা-নানি নাতিকে ছুঁয়ে আদর করতে পারল না। একইভাবে নাতি স্কুলশিক্ষক তাসকিনুল সরকার (৪৫) পারলেন না নানা-নানির হাত ধরতে। তবে উপহার হিসেবে তারকাঁটার ওপর দিয়ে বিনিময় হলো ইলিশ মাছ, শাড়ি, কাপড়, কমলা, আপেল, বিস্কুট ও চানাচুর। এ সময় তারা কাটাতাঁরের এপারে দাঁড়িয়ে ওপারে স্বজনদের দেখা আর কথা বলার সুযোগ পেলেও কেউ পারেননি কাউকে ছুঁতে। এ মিলনমেলায় শুধু নীলফামারী জেলার মানুষ নয়, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, লালমনিরহাটের বাসিন্দারাও নীলফামারীর চিলাহাটি ডাঙ্গাপাড়া থেকে পূর্ব সীমান্ত হয়ে দক্ষিণ সীমান্তের গিড়িয়ারডাঙ্গা হিমকুমারী সীমান্ত পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে পড়েছিল।