১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণেই পদত্যাগ করেছি ॥ মারুফ মতিন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ হঠাৎ করেই দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওলায়িউল মারুফ মতিন। স্টক একচেঞ্জেটির আগামী পরিচালনা পর্ষদের সভাও পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পরিচালনা পর্ষদ। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ। সেটা আমি করতে পারছি না । এই মার্কেটের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করছে। অথচ তাদের কথা তেমন ভাবা হচ্ছে কই ? আপনারা জানেন সুশাসন রক্ষা করার জন্য ডিএসই ও সিএসইতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সুশাসন এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিনিযিাগকারীদের গাদা গাদা অভিযোগ জমে আছে যার কোন সুরাহা হচ্ছে না। পদত্যাগের দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে অযাচিত হস্তক্ষেপ। সেটা কোন শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ কখনওই মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতি ঘটনার পেছনে একটা কারণ থাকে। সে জন্য বলব না যে, কোন কারণ নেই। তবে হঠাৎ করেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি এটা ঠিক নয়। আমি এখানে যে ভাবে দায়িত্ব পালন করছি সেটা আসলে আর নিতে পারছিলাম না। মেধা কে যদি কাজে না লাগতে পারি তবে শুধু শুধু পদ ধরে রেখে লাভ কি ?

মারুফ মতিন আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদে বা এর বাইরে যারা রয়েছে আমি মনে করি তারাও ক্যাপিটাল মার্কেটের ভালো চায়। কিন্তু তার অর্থ এ হতে পারে না যে কিছু লোকের ইচ্ছে অন্যের কাধে চাপিয়ে দেবে। তাহলে তো বোর্ডের দরকার কি?

তিনি আরও বলেন, আমি একটা কথা পরিস্কার বলতে চাই আমি পুতুল হতে চায় না। একজন চাবি দিয়ে দেবে আর পুতুল নাচ চলবে এমন তো হতে পারে না। কে কি করছে সে বিষয়ে আমার কাছে কোন কথ্য নেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু বোর্ডে বসে সিদ্ধান্ত কি হবে তা যদি আগেই ঠিক থাকে বা মাইন্ড সেটআপ হয়ে যায় তবে এটা দুঃখজনক। বলতে দ্বিধা নেই এটা হচ্ছে।

শুধু পুঁজিবাজার নয় আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেই অযোগ্য লোকের অভাব নেই। তবে দেশে কিন্তু যোগ্য লোক অনেক রয়েছেন যাদের সঠিক জায়গায় বসানো হচ্ছে না। পুঁজিবাজার স্পর্শকাতর জায়গা। এখানে অবশ্যই অবশ্যই যোগ্য লোক বসাতে হবে। সব কিছু যেন নষ্টদের অধিকারে না চলে যায় সে দিকে খেয়াল রাখা দরকার।

মারুফ মতিন আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা এবং কমিটিগুলোর সঠিক সিদ্ধান্তই পুঁজিবাজারকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হতে হবে। পুঁজি তাদের সুতরাং তাকেই এর নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।