১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানকে ‘দাঁত ভাঙা’ জবাব দেওয়ার আহ্বান গণজাগরণ মঞ্চের

অনলাইন রিপোর্টার ॥ পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে গণহত্যায় পাকিস্তানের দায় অস্বীকার’ করার তীব্র সমালোচনা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। সরকারকে এর ‘দাঁত ভাঙা’ জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “গণজাগরণ মঞ্চ বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে, একাত্তরে গণহত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে দেওয়া হোক।”

একই দাবিতে বুধবার বিকেলে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা এ মঞ্চ। দুই যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপে’ ঢাকা ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানানোর এক সপ্তাহ পর সোমবার পাকিস্তানে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে ইসলামাবাদ।

এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের সাজা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসবের প্রতিক্রিয়ায় ২৩ নভেম্বর পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে তলব করে এবং কড়া ভাষায় লেখা প্রতিবাদলিপি তুলে দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে জানানো হয়েছে, “২৩ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে দেওয়া প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ সরকারের ভিত্তিহীন ও ধারণাপ্রসূত দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।”

মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পাকিস্তানের এ ধৃষ্টতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানকে এই ধৃষ্টতার কড়া জবাব দেওয়া না হলে তা হবে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের প্রতি অপমান।” এতে বলা হয়, “পাকিস্তান সরকারের মধ্যে সভ্যতার লেশমাত্র থাকলে তারা ১৯৭১ এ তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতো আর তাদের ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতো। “অথচ পাকিস্তান বারবার তার নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ উপমাটিকে সত্য প্রমাণ করে পাকিস্তান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ একটি ‘প্রতিবাদপত্র’ প্রদান করেছে।”

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের ধৃষ্টতার প্রতিবাদে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার দাবিতে বুধবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সন্ধ্যায় প্রজন্ম চত্বর থেকে মশাল মিছিল করবে গণজাগরণ মঞ্চ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে এই প্রতিবাদে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।