২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিভার ও কিডনি চিকিৎসা

দেশে নানা দুঃসংবাদের ভেতর একটি উল্লেখযোগ্য সুসংবাদ হলো- লিভার চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। আকৃতি ও অবস্থানের কারণে যাদের যকৃতের টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরানো সম্ভব নয়, তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিই বিশ্বে সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবার ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতি (‘লিভার টিউমার ও ক্যান্সার নিরাময়ে ট্রান্স-আরটারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন-টেইস পদ্ধতি) ব্যবহার করে ‘সফল’ হয়েছেন বাংলাদেশের একদল চিকিৎসক। তাদের অভিনন্দন। পদ্ধতিটি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজির আঙ্গিনায় প্রবেশ করল। আমাদের রোগীরা এখন থেকে দেশেই লিভার ক্যান্সারের এ চিকিৎসা পাবেন। তাদের খরচ পড়বে ভারতে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্ধেক। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর যত লোকের মৃত্যু হয়, তাদের মধ্যে যকৃতের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা তৃতীয়। নতুন পদ্ধতিতে রক্তনালীর মাধ্যমে সরাসরি টিউমারে কেমোথেরাপি দেয়া যাবে। ফলে যকৃত ক্যান্সারের রোগীদের মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এর আগে কিডনি প্রতিস্থাপনেও সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে বোনম্যারো (অস্থিমজ্জা) প্রতিস্থাপনে শতভাগ সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ। ফলে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যায় দেশ। জনগণের দোরগোড়ায় অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারী উদ্যোগের বহির্প্রকাশস্বরূপ বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে এই সাফল্য অর্জন বাস্তবিকই আশাপ্রদ দৃষ্টান্ত। এক সময় দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে রেডিওথেরাপি দেয়ার জন্য ভাল রেডিওথেরাপি মেশিন পর্যন্ত ছিল না। প্রতিবছর শত শত ক্যান্সার রোগীকে রে দেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেতে হতো। এখন আর সে সঙ্কট নেই। স্মরণযোগ্য দেশে এক বছর আগে কোন অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন সেন্টারও ছিল না, অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮টি। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট প্রতিষ্ঠার পর তা দেশের রক্ত ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসাব্যয়ও বহুলাংশে কমিয়ে এনেছে। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে ব্যয় হয় সিঙ্গাপুরে ১ কোটি টাকার ওপরে, ভারতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশে মাত্র ৫ লাখ টাকায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (অটোলোগাস) করা সম্ভব। তবে এ্যালোজেনিক বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের খরচ এর দ্বিগুণ।

কিডনি জটিলতায় ভুগছেন দেশের কোটি মানুষ। অথচ রোগের চিকিৎসার জন্য দেশে মাত্র ৩০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আবার ৭০ শতাংশই রাজধানীর বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে প্র্যাকটিস করে থাকেন। অর্থাৎ দেশের বৃহত্তর এলাকার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা নিতান্তই কম। রাজধানীতে যে কিডনি হাসপাতাল রয়েছে, তার শয্যাসংখ্যা মাত্র দেড় শ’। ওদিকে কিডনি চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই সেবা খুবই সীমিত দেশে। কিডনি রোগের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো দরকার।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশও চিকিৎসাসেবার অগ্রযাত্রার ধারায় রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য একেবারে কম নয়। বিশ্বখ্যাত জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট বলেছিল : ‘স্বাস্থ্যসেবায় কম বরাদ্দ, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ব্যাপক দারিদ্র্য সত্ত্বেও গত চার দশকে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অর্জন ব্যতিক্রমী।’ চিকিৎসাকে বাণিজ্যমুখী না করে আরও সেবামুখী করার মনোভাব নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গেলে বাংলাদেশের পক্ষে প্রভূত উন্নতি করা সম্ভব। দেশবাসীরও সেটাই প্রত্যাশা।