১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুদের হার কমলেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে

  • চার মাসে বিক্রি ৯ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ হাবিবুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা। ইচ্ছা ছিল পেনশনের টাকা ব্যাংকে রাখবেন। সেজন্য সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য ব্যাংকিং মেলায় গিয়েছিলেন সঞ্চয়ের মুনাফা জানতে। অনেক হিসাব-নিকাশ করে ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহী হলেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিলেন পাঁচ বছর মেয়াদী পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনবেন। মঙ্গলবার সকালে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু বিনিয়োগ করেন সঞ্চয়পত্রে। কিন্তু সঞ্চয়পত্র সুদের হার বর্তমানে কিছুটা কমতির দিকে। তারপরও কেন এ বিনিয়োগÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানি, এখন মাসে একটু কম টাকা পাওয়া যায়। তাতে কী, মাস শেষে তো নিশ্চিত টাকাটা পাওয়া যাবে। কোন ঝামেলা নেই। ব্যাংকে রাখলে তো আরও কম পেতাম। সুদের হার কমলেও প্রতিমাসেই বাড়ছে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি। পরিসংখ্যান বলছে, গেল চার মাসে ৯ হাজার ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি হয়েছে সঞ্চয়পত্র।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এ খাতে নিট বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি আসে ৯ হাজার ৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। গেল চার মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১ হাজার ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মূলত এই তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ অক্টোবর মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে ২ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ৩ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৯৬ কোটি টাকা বেশি।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ৬ হাজার ২২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫২৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জনকণ্ঠকে বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে। তবে মুনাফা কমায় সামনের দিনগুলোতে বিক্রি কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। এই গবেষকের মতে, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা এবং ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার কমানোয় নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছেন সবাই।

জানা গেছে, ২৩ মের আগ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনলে ১৩ দশমিক ৪৫ ও ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যেত। সুদের হার কমানোর পর এখন কেউ পাঁচ বছর মেয়াদী পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনলে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। আর পাঁচ বছর মেয়াদ পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদী ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে সুদ হার ঠিক করা হয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে তিন বছর মেয়াদী ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সুদ হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ করা হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।