২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাণিজ্য সহজীকরণে ৪ বাধা

  • ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৪টি বিষয় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব হলো নীতিগত সমস্যা, বাস্তবায়নে সমস্যা, এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সব অংশীদার এ সম্পর্কে অবগত না থাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ‘বাণিজ্য সহজীকরণ ॥ টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রমে ইউএসএআইডির উপ-প্রধান কর্মকর্তা ড. মোঃ খায়রুজ্জামান মজুমদার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী। মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান এনবিআর, বদলে যাওয়া এনবিআর। যার বয়স মাত্র ১১ মাস। এখন এনবিআরে বাণিজ্য সহজীকরণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তবে আরও পরিবর্তন দরকার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন পণ্য খালাসে মাত্র সাড়ে ৮ ঘণ্টা সময় নেয়া হয়।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। তবে এজন্য উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে যে সাহায্য পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রথমেই টেকসই উন্নয়ন দরকার। আর টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুত পাচ্ছি না। তিনি বলেন, এখনও সামান্য কারণে রফতানি পণ্য বা মূলধনী যন্ত্রপাতি বন্দরে মাসের পর মাস আটকে থাকে। ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ৪ ধরনের সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নীতিগত সমস্যা, বাস্তবায়নের সমস্যা, সমন্বয়হীনতা ও এ সম্পর্কে স্টেকহোল্ডারগণ অবগত না থাকা। অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ কোন জটিল বিষয় নয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। এতে এ, বি ও সি তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। বাস্তবায়নের আগে নিশ্চিত করতে হবে আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি। এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থবিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, যে কোন কাজে সময় নষ্ট করার মানে হলো অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ানো। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বন্দরের পণ্য খালাসে ১১ দিন সময় লাগে। এ ধরনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের নীতিতে বিশাল পরিবর্তন দরকার। প্রসঙ্গত, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, কাস্টমস নীতিমালা সহজ ও দ্রুততর করা, সীমান্তে পণ্য চলাচলে দেরির কারণে বাড়তি খরচ কমানো, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করা, যা বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে। বাণিজ্য খরচ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমবে।