২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর প্রার্থী চূড়ান্ত

পৌর প্রার্থী চূড়ান্ত
  • কাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দান

শাহীন রহমান ॥ পৌরসভা নির্বাচনে দলগুলো প্রার্থী মনোনয়নে সময় পাচ্ছে আর মাত্র একদিন। আজ অথবা কালকের মধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় শেষ হচ্ছে। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে ঘোষিত তফসিলের কোন সিডিউল পেছানোর সম্ভবনা নেই। ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

রাজনৈতিক দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের প্রার্থীদের তালিকা ইতোমধ্যে বাছাই করা সম্পন্ন হয়েছে। এ তালিকা ধরেই প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমাদানের জন্য প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। বিএনপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে পৌরসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও দেশে প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিক পৌরসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে ২৩৬টি পৌরসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে অর্পণ করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে দলের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। চূড়ান্ত এ তালিকা ধরেই প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমা দেয়ার জন্য প্রত্যায়নপত্র দেয়া হবে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করলে মঙ্গলবার রাত থেকে প্রার্থীদের দলীয় প্রত্যয়নপত্র দেয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি অনেক প্রার্থীই ঢাকায় এসেই নিজের প্রার্থিতার পক্ষে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে গেছেন। আর যারা ঢাকায় আসতে পারেনি তাদের ফ্যাক্সযোগে প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে জানা গেছে বিএনপির তালিকায় থাকা কোন প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হতে পারে।

একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমাদানের সুযোগ থাকায় ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে কৌশলে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমাদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দলের পক্ষে একজনের প্রত্যয়ন করা হলেও স্বতন্ত্র হিসেবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাছাইয়ে দলের কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলে সেক্ষেত্রে দলের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেয়া হবে। আর যদি দলের কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল না হয় তাহলে শেষ মুহূর্তে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নেবে।

আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়বেন। এক্ষত্রে দলীয় প্রার্থী প্রতীক এবার নির্দিষ্ট করা থাকছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধিত প্রতীকে তারা অংশগ্রহণ করবেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ইসির বরাদ্দকৃত প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ইসির বরাদ্দকৃত প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। তবে ইসির আচরণ বিধিমালায় দলীয় সভাপতিসহ সংগঠনের নেতা কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারের অংশ নেয়ার সুযোগ থাকলেও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পাটি, জাসদসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা এ সুযোগ ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ থাকলেও একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এ সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দলীয় সভানেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারের অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা তা বিধানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা মন্ত্রী থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের যাদের এমপি পদ রয়েছে তারাও এ সুযোগ পাচ্ছে না।

সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও বঞ্চিত হচ্ছেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের অংশ নেয়ায়। দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকায় তিনিও দলের পক্ষে প্রচারের অংশ নিতে পারবে না। দলের অন্য নেতারাও যারা সংসদ সদস্য তারা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের জোটের শরীক জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বঞ্চিত হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া থেকে। অপর দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন একই সঙ্গে মন্ত্রী ও সংসদের সদস্যপদ থাকায় তিনি দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের অংশ নিতে পারবেন না।

তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রচারের অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে আচরণ বিধি অনুযায়ী। এমনকি বিএনপি চেয়ারপার্সন নির্বাচনী প্রচারের যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। পৌরসভা নির্বাচনী আরচণ বিধি ১৩’র খ ধারায় বলা হয়েছে নির্বাচনী প্রচার কার্যে হেলিকপ্টার বা অন্য কোন আকাশ যান ব্যবহার করতে পারবে না। তবে দলীয় প্রধানের যাতায়াতের জন্য তা ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যাতায়াতের সময় হেলিকপ্টার হতে লিফলেট, ব্যানার বা অন্য কোন প্রচার সামগ্রী প্রদর্শন বা বিতরণ করতে পারবে না।

ইসির উপ-সচিব সামসুল আলম জানিয়েছেন রাজনৈতিক দল, দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আচরণবিধি অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের একটি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। নতুন আইন-বিধি পাঠানো হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও। কমিশন জানিয়েছে দলীয় প্রধানসহ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সুযোগ রাখা হলেও পৌরসভা নির্বাচনে কোন জনসভা করার বিধান রাখা হয়নি। এমনকি পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে হলে ২৪ ঘণ্টার আগে তার স্থান ও সময় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।

বিএনপি অভিযোগ অসত্য ইসি ॥ নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেছেন কারও নির্দেশে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। কারও নির্দেশে তাড়াহুড়ো করে তফসিল ঘোষণা করা হয়নি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার ইসি কার্যালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন। এখন কেউ যদি বলে কমিশন তাড়াহুড়ো করে তফসিল দিয়েছে, কারও নির্দেশে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, অসত্য কথা। কমিশন আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশনের এ নিয়ে করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ জাবেদ আলী। তিনি বলেন, এসব ফৌজদারি বিষয়, এতে নির্বাচন কমিশনের করার কিছুই নেই। আমাদের কাজ প্রার্থী নিয়ে। ফৌজদারি বিষয়ে কেউ গ্রেফতার হলে কমিশন কিছু করতে পারে না।

এদিকে কমিশন জানিয়েছে, আদালতের আদেশে বাগেরহাটের মংলাপোর্ট পৌরসভার ভোট স্থগিত হচ্ছে। ফলে ৩০ ডিসেম্বর ২৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসির উপ-সচিব মহসিনুল হক জানান, ১৮ নবেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের এক আদেশে মংলাপোর্ট পৌরসভার তফসিল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।