২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাকির নায়েকের পিস স্কুলের নামে এগুলো কারা চালাচ্ছে

  • শিশুদের জঙ্গী বানানোর অভিযোগ অভিভাবকদের

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ ‘আমরা আপনাদের দলে নেই। জাতীয় সঙ্গীত ফাতীয় সঙ্গীত নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন না। এসব আমরা গাই না। এগুলো ইসলাম বিরোধী কাফেররা গায়, আমরা না। আর ইসলাম হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

এটি উগ্রবাদী জঙ্গী নেতাদের বক্তব্য বলে মনে হলেও আদতে তা নয়। অবিশ্বাস্য হলেও উগ্র ও ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে রীতিমতো আক্রমণাত্মকভাবে কথাগুলো বলছিল প্রথম শ্রেণীর একটি শিশু! শিশুটির সঙ্গে কথা হচ্ছিল লালমাটিয়ায় বি ব্লকে অবস্থিত তারই প্রতিষ্ঠান ‘পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’র সামনে দাঁড়িয়েই। এক পর্যায়ে সেখানে চলে আসে আরও কিছু শিক্ষার্থী। শিশু শ্রেণীর ছাত্র হলেও কালা চেহারা শিশুর মতো মনে হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল ভারতের ধর্মবিষয়ক উপস্থাপক ড. জাকির নায়েকের পিস স্কুলের নামের তকমা লাগিয়ে চলা উগ্র মৌলবাদী কর্মকা-ের চেহারা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ড. জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠানের এক সময় রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাদানের আড়ালে আসলে চলছে জামায়াত-শিবিরসহ উগ্র জঙ্গীবাদীদের তৎপরতা। অধিকাংশ শাখা সরাসরি পরিচালনা করছেন জামায়াত-শিবির নেতারা। কোন কোন এলাকায় নিজেদের চেহারা লুকাতে পরিচালনায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। তবে পিস স্কুলের নামে সক্রিয় কোন শাখার শিক্ষক-কর্মকর্তারাই দেখাতে পারছেন না ড. জাকির নায়েকের কোন অনুমোদন। ইতোমধ্যে পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং এর প্রতিষ্ঠাতাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত ‘পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজ’-এর নেপথ্যে ভারতের ধর্মবিষয়ক উপস্থাপক ডাঃ জাকির নায়েকের পিস স্কুল ও পিস টিভির কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বাংলাদেশে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কাজ করছে জামায়াত ও তার মদদপুষ্টরা। পাশাপাশি জামায়াত ঘরানার নেতাকর্মী, সমর্থকদের একটি অংশও জড়িত। এ কারণে বাংলাদেশে স্কুলটির শাখা, শিক্ষার্থী-সংখ্যা, আয়-ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে কাজ করছে সরকারের একাধিক সংস্থা। জানা গেছে, ঢাকা মহানগর জামায়াতের নেতারা অবশ্য দাবি করছেন, পিস স্কুলের সঙ্গে জামায়াতের সাংগঠনিক কোন যোগাযোগ নেই। তবে জামায়াত-সমর্থক অনেকে পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করছেন তারা।

ইনভাইট পিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাবেক শিবির সভাপতি ॥ প্রচার করা হয়, পিস স্কুল দেশের প্রথম ত্রিভাষিক চেন স্কুল। এই প্রতিষ্ঠানে আরবী, ইংরেজী ও বাংলার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। তবে জানা গেল, রাজধানীতে পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজ পরিচালিত হচ্ছে ইনভাইট পিস লিমিটেড নামক একটি কোম্পানির মাধ্যমে। এর চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ। তিনি ছাত্র শিবিরের ১১তম সভাপতি ছিলেন। যিনি ১৯৯১-৯২ সেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তাকে বিভিন্ন সময় ছাত্র শিবিরের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। ছাত্র শিবিরের মুখপত্র ছাত্র সংবাদেও নিয়মিত লেখেন ওবায়েদুল্লাহ।

জানা গেছে, এই ইনভাইট পিস লিমিটেড সারাদেশে অনেক শাখা স্কুল পরিচালনা করছে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, দিনাজপুর ও খুলনায়

প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে।

ঢাকায় রয়েছে বেশ কিছু শাখা। যার একটি উত্তরা ক্যাম্পাস (বাড়ি নং-৫৯, রোড, ৫, সেক্টর-১৩), একটি মিরপুর ক্যাম্পাস (প্লট নং-৫, রোড-২৮/ক, রূপনগর, সিএ, মিরপুর)। মিরপুর ক্যাম্পাসে রয়েছে ২০০ শিক্ষার্থী এবং চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। উত্তরা ক্যাম্পাসে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পাঠদান করা হয় বলে জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করলেন মিরপুর শাখার পরিচালক (এডমিশন) নাজমুল করীম। এ ছাড়া রাজধানীতে বৃহৎ আরও একটি শাখা রয়েছে মালিবাগে। মালিবাগের শাখাটি নুরুজ্জামান ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত পরিচালনা করেন বলে দাবি করলেন একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক হাসনাহেনা। নুরুজ্জামান ফিরোজ জানান, সারাদেশে তাদের পিস স্কুলের ১৪টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে মালিবাগ শাখাটিও একটি। তবে একই সঙ্গে অন্য শাখার তথ্য দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, অন্য শাখাগুলোর সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই।’ মালিবাগ ক্যাম্পাস ( ৪০০/বি, চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, আবুল হোটেলের উল্টোদিকে, আল মদিনা হোটেলের পাশে)। তিনি উত্তরা ক্যাম্পাসের ফাউন্ডার এবং নির্বাহী পরিচালক। নুরুজ্জামান ফিরোজ পিস স্কুল সঙ্গীতের রচয়িতা বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা। তবে বর্তমানে তিনি উত্তরা শাখা থেকে তার অংশীদারিত্ব উঠিয়ে নিয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। মালিবাগ শাখার তৃতীয় শ্রেণীর এক ‘ন’ আদ্যাক্ষরের শিক্ষার্থীর কাছে রবিবার তার ক্লাস শেষে স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল। তার সঙ্গে তার মাও উপস্থিত ছিলেন। মায়ের হাত ধরে শিশুটি বলছিল, স্যাররা আমাদের বলেছেন এখানে পড়লে আল্লাহ খুশি হবেন। ড. জাকির নায়েক আমাদের স্কুল দেখতে আসবেন। তিনিই এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে জাকির নায়েক ইস্যুতে কোন শিক্ষক আ অন্য কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

খিলগাঁও থেকে আসা সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রকে তাদের পড়ালেখা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেই এক বাক্যে উত্তর দিচ্ছিল, আমাদের স্কুল ভাল। স্যাররা বলেছে, ‘এখানে পড়লে নিজ ধর্মের জন্য কাজ করতে পরব।’ অন্য ধর্ম কেমন? এ প্রশ্নে তার উত্তর, ‘হিন্দুরা তো কাফের। অন্যরাও তাই। এ জন্যই তো এখন তাদের কতল করা হচ্ছে।’ জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ ছাত্রের উত্তর, না আমাদের এসব গাওয়া হয় না।

গত শনি ও রবিবার লালমাটিয়া শাখায় অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেল কিছু তথ্য। জানা গেল, এখানে জাতীয় সঙ্গীত যেমন নিষিদ্ধ তেমনি শেখানো হয় ‘জাতীয় সঙ্গীত‘ খারাপ। এটা গাওয়া হারাম। এসব ইসলামবিরোধীদের বিষয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে শেখানো হয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন আসলে কাফের। এদের সঙ্গে মেলামেশা যাবে না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মহপাপ। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তার দাবি অভিযোগ সব মিথ্যা। শিশুর রেকর্ড করা বক্তব্য দেখানো হলে অবশ্য চুপ হয়ে যান।

উত্তরা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন ড. মোঃ আব্দুর রহিম মুকুল। মিরপুর-রূপনগর ক্যাম্পাসের দায়িত্বে আছেন কর্নেল (অব) বাতেন নামে একজন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের দামপাড়ার এমএম আলী রোডে রয়েছে একটি শাখা আছে। রাজশাহীতেও রয়েছে একাধিক শাখা।

ড. জাকির নায়েকের পিস টিভির সঙ্গে সম্পর্ক নেই ॥ ইনভাইট পিস লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজের সঙ্গে জাকির নায়েকের পিস টিভি বা তার সঙ্গে কোন প্রমাণ দেখাতে না পারলেও মানুষকে বোকা বানাতে প্রতিটি শাখার বিজ্ঞাপনেই পিস টিভির লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুলের প্রধান গেটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে জাকির নায়েকের টিভির লোগো ব্যবহারেই বেশি মনোযোগ তাদের। এ নিয়ে স্পষ্ট কোন জবাব মেলেনি। কোন কোন উদ্যোক্তা বলেছেন, পিস টিভির সঙ্গে সম্পর্ক নেই। কেউ বলেছেন, আন-অফিসিয়াল কিছু রয়েছে। উত্তরা ক্যাম্পাসের প্রসপ্রেক্টাস থেকে জানা গেছে, ড. জাকির নায়েকের পিস টিভির মডেলে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ‘পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজ : আদর্শ শিক্ষার অনন্য পাঠশালা’ শীর্ষক একটি পরিচিতিমূলক লেখায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিভা বিকাশের সুবিধা : ডাঃ জাকির নায়েকের পিস টিভির শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠানের মতো বাংলা, ইংরেজী ও আরবীতে বক্তৃতা প্রদান তথা বক্তব্য উপস্থাপনের যোগ্যতা অর্জন করা।’

এমনকি আবৃত্তি, অভিনয় ও ইসলামী সঙ্গীতসহ সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকশিত করার সুব্যবস্থা এ স্কুলে রয়েছে ইত্যাদি। মিরপুর ক্যাম্পাসের পরিচালক (এডমিশন) নাজমুল করীম স্বীকার করলেন, পিস টিভির সঙ্গে অফিসিয়াল কোন সম্পর্ক নেই। এক্সট্রা কালিকুলামের অংশ হিসেবে পিস টিভিতে আমাদের শিশু-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে পিস টিভিতে। আমাদের দেশের বেসরকারী চ্যানেলগুলোর ইসলামী অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়ে থাকে শিশুরা।

দক্ষিণ বনশ্রী ডি ব্লকে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোঃ আলী হোসেনও স্বীকার করেছেন, না, এটা জাকির নায়েকের নয়। এটা ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু আন্তর্জাতিক কোন প্রতিষ্ঠানকে আপনার ফলো করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরেক পরিচালক জাকিরের নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে জাকিরের নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগ রাজশাহীতেও ॥ ইতোমধ্যেই আগে রাজশাহী পিস স্কুল এ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে জাকির নায়েকের নাম ব্যবহার ও পিস টিভির পরিচয় ব্যবহার করে স্কুল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আলাউদ্দীন দাবি করেন, তাদের সারাদেশে মোট শাখা ১২টি। তবে রাজশাহীর শিক্ষক নেতারা ইতোমধ্যেই বলেছেন, ভারতের ইসলামী চিন্তাবিদ জাকির নায়েকের নাম ভাঙিয়ে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। পিস টিভির আদলে স্কুলের নামকরণ ও লোগো বানিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এ বছর প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে স্কুলটি। এদিকে পিস স্কুলের এমন প্রতারণা নিয়ে কয়েক শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় স্কুলটির সঙ্গে জাকির নায়েক কিংবা পিস টিভির কোন সম্পর্ক নেই।

স্কুলের নির্বাহী তৌফিকুর রহমান জানান, এখানে তিন মাধ্যমেই ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করে। বাংলা, ইংরেজী ও আরবী তিন মাধ্যমকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। তবে যেহেতু ইসলামী নামে স্কুল সেহেতু আরবী শিক্ষার ওপর একটু বেশি নজরদারি করা হয়।

রাজশাহী শহর শোভা পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পোস্টার, ফেস্টুন। একই চিত্র চট্টগ্রামেও। রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠানটির পাশে বসবাসকারী এক অভিভাবক আকবর হোসেন বলছিলেন, আমি মনে করেছি এটা জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠান। সে রকমই লোগো। বাচ্চাকে ভর্তি করব বলে অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে ওনারাও জানান এটা জাকির নায়েকের বাংলাদেশী স্কুল। বাচ্চাকে প্লে­গ্রুপে ভর্তি করার ২ মাসের মাথায় জানতে পারে জাকির নায়েকের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। মিথ্যা কথা বলে প্রচার চালাচ্ছে মাত্র।

একই প্রতারণার কথা জানান, রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা সিকান্দার। তার অভিযোগ. স্কুলটিতে শিক্ষার আড়ালে মৌলবাদী কর্মকা- পরিচালনা করছে। কঠোর এ্যাকশন নিতে হবে। এরা ছোট ছোট শিশুকে জঙ্গী বানাচ্ছে। তার অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধেও। সরকারের দুর্বলতার কারণেই শিক্ষার আড়ালে মৌলবাদীরা এসব করতে পারে বলে অভিযোগ এ অভিভাবকের।