১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজামীর আপীল শুনানি ॥ আজ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের আমির আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর আপীল আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ আবার আসামিপক্ষ তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। আজই আসামিপক্ষের তিন কার্যদিবসের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন। বেঞ্চে অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। এই দু’দিনে আইনজীবী এসএম শাহজাহান আসামি নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যের বিষয়ে সম্পূর্ণ এবং শেষটির বিষয়ে আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আজ বুধবার এসএম শাহজাহান সাক্ষ্যভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করার পর নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আইনী পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ্যাটর্নি জেনারেল। আগামী ৭ ডিসেম্বর একদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন রাষ্ট্রপক্ষ। ৮ ডিসেম্বর আসামিপক্ষের জবাবি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আপীল মামলার শুনানি। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত ছয় কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনালের রায়সহ মামলার নথিপত্র উপস্থাপন শেষ হয়। ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর নিজামীর পক্ষে এক নম্বর অভিযোগ উত্থাপন করেন এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। ১৭, ১৯, ২৩, ২৪ ও ২৫ নবেম্বর পরবর্তী পাঁচদিন শুনানি করেন এসএম শাহজাহান। সোমবার (৩০ নবেম্বর) থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন তিনি।

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আদালত সম্মত হয়েছে যে, তিনি যে মাত্রায় হত্যা, গণহত্যা ঘটিয়েছেন, তাতে সর্বোচ্চ সাজা না দিলে তা হবে ন্যায় বিচারের ব্যর্থতা।’

পরে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আপীল করা হয়। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেশ করে তাতে ১৬৮টি কারণ উল্লেখ্য করে দ- থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপীলটি দাখিল করেন। ১২১ পৃষ্ঠায় মূল আপীল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। মূল আপীলে ১৬৮টি গ্রাউন্ড পেশ করে দ- থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া ৫, ৯, ১০ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি (খালাস) দেয়া হয়।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (মূলত তার নাম মতিউর রহমান রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে পাবনা জেলার আটঘরিয়ার শিবপুর ইসলামীয়া মাদ্রাসায় পড়াকালীন ক্লাসের সহপাঠি বন্ধুগণ তাকে ‘নিজামী’ টাইটেল উপাধি দেয়। তখন থেকেই তিনি মতিউর রহমান নিজামী নামই ব্যবহার করে আসছেন)।

আসামি মতিউর রহমান নিজামী, পিতা মৃত- লুৎফর রহমান, মাতা মৃত- মোমেনা খাতুন, সাং- মনমথপুর, থানা- সাথিয়া, জেলা- পাবনা। বর্তমান ঠিকানা বাড়ি নং-৬০, রোড নং-১৮ম বানানী, থানা-গুলশান। তিনি ৩১-৩- ১৯৪৩ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বহিরাগত ছাত্র হিসেবে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজে এমএ কোর্সে ভর্তি হন। কিন্তু কোর্স সম্পন্ন করতে পারেননি। তিনি বিএনপি জামাযাত জোট সরকারের সময় মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন।

ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যদের নিযে গঠিত করা হয় আলবদর বাহিনী। যার প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। উক্ত বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য শান্তি কমিটি ও ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য যারা পরবর্তীতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আসামি মতিউির রহমান নিজামী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহ করেন।