২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্যপ্রযুক্তি দুর্নীতি কমানোর হাতিয়ার হতে পারে ॥ অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দুর্নীতি কমানোর একটি হাতিয়ার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ১১তম গবর্মেন্ট ডিসকাশ ফোরাম ফর ইলেক্ট্রনিক আইডেনটিটি-২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও এশিয়া প্যাসিফিক স্মার্ট কার্ড এ্যাসোসিয়েশন (এপিএসসিএ) যৌথভাবে এ ফোরামের আয়োজন করেছে। দুই দিনের এই ফোরামে আটটি সেমিনার হবে। বাংলাদেশের জন্য দুটিসহ মোট ২৭টি টেকনিক্যাল সেশন হবে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিয়োগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, এপিএসসিএ চেয়ারম্যান গ্রেগ পোট প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমি একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে ছিলাম। অনেক শিক্ষার্থী আছে সেখানে। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন দিতে পারে না। এরপর ভর্তি প্রক্রিয়া ডিজিটাল করে দিলাম। ভর্তি বাবদ ওই প্রতিষ্ঠানের আয় ৮০ হাজার থেকে ৮ লাখে চলে গেল।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আইসিটি যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। আমাদের একটু দেরি হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল কার্যক্রমের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সফলতাও এসেছে। বিশেষ করে লেনদেন প্রক্রিয়া অনেক এগিয়েছে। ব্যাংকিং, মোবাইল ফিনানশিয়াল সার্ভিস, আয়কর পরিশোধ, রিটার্ন দাখিল, এ্যাডমিশন ফিস, টেন্ডার ফিস ইত্যাদিতে আমরা অনেক এগিয়েছি। এছাড়া অন্যান্য খাতেও অগ্রগতি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোন প্রেক্ষিতে কীভাবে স্মার্ট আইডি কার্ড ব্যবহার করছে ও নাগরিকদের সরকারী-বেসরকারী সেবা নিশ্চিত করছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে নাগরিকদের ওইসব সেবা দিতে পারেÑ সেসব বিষয়ে ধারণা নেয়া এবং আলোচনার লক্ষ্যে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে।

সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশের ৯ কোটি ৬২ লাখ জাতীয় পরিচয়পত্রকে স্মার্ট এনআইডিতে রূপান্তরের কাজ হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেÑ একথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমানোর পাশাপাশি দক্ষতাও বাড়াচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি। গত ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র করার কাজ হাতে নেয়া হয়। যেটাকে এখন স্মার্ট আইডি কার্ড করা হচ্ছে। এসব কার্ডে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি তথ্য থাকবে। এই কার্ড হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও কমপ্লায়েন্স। এতে নাগরিকদের সেবা দেয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি জবাবদিহিতা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।

মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন ঠিকভাবে না হওয়ায় অনেকে খারাপ কাজ করেছেÑ জানিয়ে পলক বলেন, এনআইডি নিয়েও জালিয়াতি হয়েছে। স্মার্ট কার্ড হয়ে গেলে এসব বন্ধ হয়ে যাবে।