২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং দেশটির সার্ক সদস্যপদ বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন হওয়ার পর পাকিস্তানের এই বিবৃতি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। এরপর পাকিস্তানীদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোন সুযোগ নেই। তাই অবিলম্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের কোন সম্পর্ক নেই ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি পাকিস্তানে যাবে না। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তিনি।

‘যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ শিরোনামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এই শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর সেখানে মুক্তির গান, বিজয়ের গান এবং দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বেলুন উড়িয়ে এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ কামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী-কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা এই বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এ সময় উপাচার্য আরও বলেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বিশ্ব সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং বিজয় অর্জিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানীরা বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অত্যাচারে লিপ্ত ছিল। তারা ঠা-া মাথায় অত্যন্ত নির্মমভাবে এদেশের বুদ্ধিজীবীসহ সাধারণ মানুষদের হত্যা করেছে। আজ তারা নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে। অথচ পাকিস্তান কর্তৃক গঠিত হামিদুর রহমান কমিশনেই গণহত্যার দালিলিক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

সার্ক থেকে পাকিস্তানের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জাতিসংঘ সদস্যপদ বহিষ্কারের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়া উচিত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায় সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সত্যের জন্য সংগ্রাম করেছেন। দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসাই তাঁর আদর্শ। দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদেরও দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ