২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকাররা আমার ভাইকে ধরে নির্যাতন করে, তিনি আজও নিখোঁজ

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;সাক্ষী বজলুরের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর এটিএম নাসির আহমেদ ও শামসুদ্দিন আহমেদসহ ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী মোঃ বজলুর রহমান ও ১৬তম সাক্ষী মোঃ মনুমিয়া জবানবন্দী প্রদান করেছেন। বজলুর রহমান তার জবানবন্দীতে বলেন, রাজাকাররা আমার ভাই ফজলুর রহমানকে ধরে নিয়ে ক্যাম্পে নির্যাতন করে। ভাইকে ছাড়াতে গেলে রাজাকাররা বলে তাকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে। কিন্ত আজ পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সাক্ষী মোঃ মনুমিয়া জবানবন্দীতে বলেছেন, রাজাকার শামসুদ্দিনসহ অন্যান্য রাজাকাররা আমার চাচাত ভাই গফুরকে গুলি করে হত্যা করেছে। জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর গ্রেফতারকৃত ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেযারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। পরে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান সাক্ষীদের জেরা শেষ করেন।

কিশোরগঞ্জের ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ বজলুর রহমান। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৬ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম-আতকাপাড়া, থানা-করিমগঞ্জ, জেলা-কিশোরগঞ্জ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১১ বছর। আমরা ৫ ভাই ও ৮ বোন ছিলাম। আমার বড় ভাইয়ের নাম মোঃ ফজলুর রহমান। তিনি ১৯৭০ সালে গুণধর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তিনি ১৯৭১ সালে সিএসপি পরীক্ষায় পাস করেন।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, একাত্তরের ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার সময় আমার বড় ভাই মোঃ ফজলুর রহমান আমাকে নিয়ে করিমগঞ্জ বাজারে দর্জির দোকানে যান এবং একটি শার্ট কিনে গোদারা ঘাটে আসেন। তখন আসামি মোঃ আজহারুল ইসলাম, এটিএম নাসির, শামসুদ্দিন আহমেদ, মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও আসামি গাজী মোঃ আব্দুল মান্নানসহ আরও কয়েকজন রাজাকার আমার ভাই ফজলুর রহমানের শরীর তল্লাশি করে তাকে অপহরণ করে। পরে তাকে করিমগঞ্জ ডাকবাংলোয় নিয়ে যাওয়া হয়। আমি ও আমার ভাই রাজাকারদের পিছু পিছু করিমগঞ্জ ক্যাম্পে যাই। ক্যাম্পের ভেতরে আমার ভাইকে আসামি মোঃ আজহারুল নির্যাতন করে তা আমি দেখি। আমি আমার ভাইয়ের নির্যাতনের ঘটনা দেখে বাড়িতে গিয়ে আমার বাবা ও বড় ভাই মাহাতাব উদ্দিনকে জানাই। তারপর আমার বাবা ও বড় ভাই মাহাতাব উদ্দিন আমার ভাইয়ের খোঁজে করিমগঞ্জ ডাকবাংলোয় আসে।

আমার বড় ভাই ফজলুর রহমান অন্য ভাই মাহাতাব উদ্দিনকে করিমগঞ্জ রাজাকার ক্যাম্প থেকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে বলেÑ রাজাকার আজহারুল ইসলাম তোমাকে তারা ধরে ফেলবে, তুমি তাড়াতাড়ি চলে যাও। তারপর আমার ভাই মাহাতাব সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর আমার বাবা ও বাড়িতে চলে আসে। এরপর আমার বাবা ও ভাই মাহাতাব বড় ভাই ফজলুর রহমানকে ছাড়ানোর জন্য আসামি আজহারুল ইসলামের বাবা রহিম মৌলভীর বাড়ি হাইধনখালীতে যায়। রহিম মৌলভী আমার বাবাকে জানিয়েছিল তোমার ছেলেকে ছাড়িয়ে দিতে অনেক টাকা লাগবে। এই কথা শুনে আমার বাবা ও ভাই বাড়িতে চলে আসে। তারপর আমার বাবা, ভাই ও চাচারা মিলে জমি বিক্রি করে রহিম মৌলভীর কথা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। পরের দিন ২৪ আগস্ট আমার বাবা ও ভাই মাহাতাব উদ্দিন ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ভাই মোঃ ফজলুর রহমানকে ছাড়ানোর জন্য রহিম মৌলভীর কাছে যায়। রহিম মৌলভী টাকা নিয়ে ভাইকে ছাড়ানোর জন্য কিশোরগঞ্জ শান্তি কমিটির সভাপতি মুসলেহ উদ্দিনের কাছে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রহিম মৌলভী এসে জানায় তোমার ভাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে আমি ও বাবা বাড়িতে এসে দেখি ভাই ফজলুর রহমান আসেনি। তখন বাবা আবার রহিম মৌলভীর কাছে যায়। তখন রহিম মৌলভী বলে ফজলুর রহমানকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে। তারপর বাবা কোর্টে আমার ভাইকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ পর্যন্ত তাকে আর পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালীর ৫ রাজাকার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালীর গ্রেফতারকৃত ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন।