২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশ আল্লাহ চালাচ্ছেন ॥ কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের কোন কৃতিত্ব নেই মন্তব্য করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, দেশ চলছে আল্লাহর রহমতে। তিনি বলেন, দেশ যাতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমস্যায় না পড়ে সে জন্য আর বসে থাকার সময় নেই। এখন জাতিকে বিভক্ত না করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারাদেশের বহু জায়গায় ঘুরে তিনি দেখেছেন, মানুষ শান্তিতে নেই, দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন, দেশের ৯০ ভাগ মানুষের মধ্যে এই সরকারের প্রতি আস্থা নেই। তারপরও দেশ যে চলছে তা আল্লাহ চালাচ্ছেন। আর কিছুটা ভাল মানুষদের কল্যাণে। এখানে সরকারের কোন কৃতিত্ব নেই।

কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, দেশ যাতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমস্যায় না পড়ে সে জন্য আর বসে থাকার সময় নেই। এখন জাতিকে বিভক্ত না করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকে প্রধানমন্ত্রী ফিরে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কেউ কেউ এ দেশে আইএস আছে এটা প্রমাণের চেষ্টা করছে, যাতে বিদেশী শক্তি চাপ প্রয়োগ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি আমাদের অবস্থান কর্মসূচীর ফসল। তাই যার সঙ্গে আলোচনায় বসলে দেশে শান্তি আসবে তার সঙ্গেই আলোচনায় বসুন। আলোচনায় আপনাকে বসতেই হবে। ঘোমটা খুলুন। পরে কিন্তু আলোচনার সময় পাবেন না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন দেশে আইএস নেই। অথচ পুলিশ আইএস সদস্যদের গ্রেফতার করছে ও আদালতে বিচার চলছে। আইএস থাকুক বা না থাকুক, এটা এখন বিশ্বব্যাপী বড় সমস্যা।

একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া হলে দেশের ৮০ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এই নেতা। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পতনের আন্দোলনে গেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগে প্রাণহানির মধ্যে শান্তির জন্য ঢাকার রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচীতে যান কাদের সিদ্দিকী।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার এবং প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতি সঙ্কট নিরসনে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে ১৮ জানুয়ারি ওই কর্মসূচী শুরু করলেও দৃশ্যত কোন পক্ষেরই সাড়া পাননি তিনি। ওই কর্মসূচী শুরুর পর টানা ৩০৮ দিন ঘরের বাইরে থেকে শান্তির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন কাদের সিদ্দিকী। কর্মসূচীর অবসানের ঘোষণা দিতেই মতিঝিলে দলের কার্যালয়ে মঙ্গলবার এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

মতিঝিলে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, সরকারের পুলিশ বাহিনী আমার বসার জন্য তৈরি শামিয়ানা, শীতের পোশাক, এমনকি বদনাটা পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাকে ফুটপাথেও ভালভাবে থাকতে দেয়া হয়নি। আমার মনে হয় সরকারের মানবিক গুণাবলীর অভাব রয়েছে।

নাশকতা ও পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যা এখন বন্ধ হলেও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাসে আগুন দেয়া, জ্বালাও পোড়াও বন্ধ হলেও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হয়নি। দেশে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে, কবে জানি বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অর্জন করে? ফাঁসির আদেশ হলে দেশে শান্তি আছে মনে করার কিছু নেই। ফাঁসি দিলে মনে হয় দেশে অশান্তি বিরাজ করছে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব পাওয়া কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর প্রতিরোধে নেমেছিলেন। তাতে সফল না হয়ে পাড়ি জমান ভারতে। এরপর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন।

ফেরার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি। গত কয়েক বছরে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াত এবং তাদের জোট সঙ্গী বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তার ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার রাজাকার হওয়ার শখ জেগেছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অবরোধ হরতাল দিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুই পাননি। জনগণ তাকে অবরোধ প্রত্যাহার করার সুযোগও দেয়নি। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আগুন দিয়ে যারা মানুষ পুড়িয়েছে তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়।