২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ভাল অনুশীলন হচ্ছে’

  • বললেন সৌম্য সরকার

স্পোর্টস রিপোর্টার চট্টগ্রাম থেকে ॥ বিপিএলে টানা খেলা হচ্ছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও টানা খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। এরপরও যে জিনিসটি ভাল হচ্ছে সেটি হচ্ছে অনুশীলন ভালভাবেই হয়ে যাচ্ছে। চিটাগাং ভাইকিংসকে মঙ্গলবার ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারানোর পেছনে অপরাজিত ৫৮ রান করায় রংপুর রাইডার্সের সৌম্য সরকারের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই সৌম্যই বললেন এমন কথা, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য ভাল অনুশীলন হচ্ছে।’

জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টি২০ সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছিলেন তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মন, নাসির হোসেন। বোলারদের মধ্যে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, নাসির, আরাফাত সানি, জুবায়ের হোসেন লিখন, মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। এরমধ্যে সৌম্য ইনজুরির জন্য খেলতে পারেননি। আর রাব্বি খেলার সুযোগই পাননি।

তামিম ব্যাট হাতে বিপিএলের তৃতীয় আসরে এখন পর্যন্ত সেরার কাতারেই আছেন। ৬ ম্যাচে ৩২.৬৬ গড়ে ১৯৬ রান করে এক নম্বরে আছেন। সিলেট সুপার স্টারসের মুশফিকও ভাল অবস্থানে আছেন। ৫ ম্যাচে ৪৮.৩৩ গড়ে ১৪৫ রান করে তিন নম্বরে আছেন। সৌম্য অনেকদিন পর ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। তিনি ৬ ম্যাচে ২৫.০০ গড়ে ১২৫ রান করেছেন। বরিশাল বুলসের মাহমুদুল্লাহ ৪ ম্যাচে ২৯.৫০ গড়ে ১১৮ রান করেছেন। এ পর্যন্ত ঠিক আছে। জাতীয় দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের অবস্থা যাচ্ছেতাই। বল হাতে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক সাকিব আছেন সবার শীর্ষে। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় ৫ ম্যাচে ১২ উইকেট পেয়েছেন। ঢাকা ডায়নামাইটসে মুস্তাফিজ ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। বরিশাল বুলসের আল আমিনও ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন। বাকিদের অবস্থা খুব ভাল নয়। এমন পরিস্থিতিতে অনুশীলনটা আর ভাল হচ্ছে কোথায়?

চিটাগাংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সৌম্য জানালেন, ‘আসলে ম্যাচ জিনিসটাই অনুশীলন। অনেক বড় একটা ব্যাপার। যে যত ম্যাচ খেলব বা যদি ম্যাচ খেলি, আমাদের জন্যই ভাল হয়। মাঠের বাইরের অনুশীনের চেয়ে ম্যাচ অনুশীলন অনেক আলাদা। ম্যাচে ব্যাটিং আর নেটে ব্যাটিংয়ের অনেক পার্থক্য। এটা আমাদের জন্য, আমার জন্য, জাতীয় দলের সবার জন্য ভাল অনুশীলন হচ্ছে।’

বিপিএলের পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ বছরে আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। তবে সামনেই টি২০র দুনিয়ায় পুরোপুরি নেমে যেতে হবে। এশিয়া কাপ হবে ফেব্রুয়ারিতে। যেটি টি২০ ফরমেটে হবে। এরপর হবে টি২০ বিশ্বকাপ। মূল লক্ষ্যটাই সবার টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে। এ জন্য দলে ঢুকতে হলে বা দল থেকে ছিটকে পড়ার প্ল্যাটফর্মই বলা চলে বিপিএলকে। ব্যাটিংয়ে যেমন রংপুর রাইডার্সের মোহাম্মদ মিঠুন ভাল করছেন। ৬ ম্যাচে ৫ ইনিংসে ব্যাট করে ২৪.২০ গড়ে ১২১ রান করেছেন। চিটাগাংয়ের এনামুল হক বিজয়ও (২১.০০ গড়ে ১০৫ রান) আছেন সবার নজরেই। বল হাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আবু হায়দার রনি অনেক ভাল করছেন। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সিলেট সুপার স্টারসের মোহাম্মদ শহীদ ৫ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন। চিটাগাং ভাইকিংসের শফিউল ইসলাম ৬ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা শেষপর্যন্ত ব্যর্থই যদি থাকেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের স্থানে পারফর্মারদের নিয়ে ভাববে নির্বাচকরা। সৌম্য সেই জিনিসটিই ইঙ্গিত করলেন। বললেন, ‘লক্ষ্য সবসময় একটাই থাকবে, রান করব। এমন তো কেউ নেই যে জাতীয় দলের জন্য সেট। যে যেখানে ভাল করবে, সবার জন্যই ভাল হবে। নিজেদের প্রমাণ করার জন্য, সবক্ষেত্রেই সবার ভাল হচ্ছে।’