২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লা লিগার শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার মেসির

লা লিগার শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার মেসির

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পুরস্কার পাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মাঝের একটা বছর (২০১৪ সাল) চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দাপটে খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন বার্সিলোনার আর্জেন্টাইন তারকা! অবশেষে আবারও কক্ষপথে ফিরেছেন সাবেক রেকর্ড টানা চারবারের ফিফা সেরা ফুটবলার। চলতি বছর বেশ কয়েকটি গৌরবময় পুরস্কার ইতোমধ্যে জিতেছেন। এবার জিতেছেন স্প্যানিশ লা লিগার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

২০১৪-১৫ মৌসুমে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বার্সিলোনাকে ঐতিহাসিক ট্রেবল জেতানোর পর লা লিগার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে মেসির হাতে। সোমবার স্পেনের বার্সিলোনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে এই পুরস্কার প্রবর্তন হওয়ার পর প্রথম চার মৌসুমেই লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ২৮ বছর বয়সী মেসি। মাঝখানে ২০১৩-১৪ মৌসুমে অবশ্য হারিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠত্ব। সেবার পুরস্কারটা উঠেছিল রোনাল্ডোর হাতে। তবে এক মৌসুম পরই আবারও হারানো শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করলেন মেসি। ২০১৫ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও মেসির হাতে উঠবে এমনটাই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। রোনাল্ডো ও নেইমারের সঙ্গে মেসিও আছেন ফিফার ঘোষিত তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। আগামী বছরের জানুয়ারিতের জানা যাবে এবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম। তবে তার আগে থেকেই যেন এ্যাওয়ার্ড নেয়াটা ফের অভ্যাসে পরিণত করছেন মেসি। শুধু বর্ষসেরা খেলোয়াড়ই নন, রোনাল্ডো, নেইমার ও সুয়ারেজকে পেছনে ফেলে বর্ষসেরা স্ট্রাইকারও হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এ নিয়ে ছয়বার বর্ষসেরা খেলোয়াড় ও স্ট্রাইকার এ দুটি পুরস্কারই নিজের করে নিলো মেসি। সেরা হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেসি বলেন, এত এত সেরা খেলোয়াড়ের মধ্যে বর্ষসেরা হওয়াটা অবশ্যই গর্বের। এ জন্য আমি খুব খুশি। এই পুরস্কারটি নির্দিষ্ট করে আমি আমার ছেলে থিয়াগোকে উৎসর্গ করছি। যদিও ও এর কিছুই বোঝে না। লা লিগার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জয় জয়কার ছিল বার্সিলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দেরই। একটি বাদে সবগুলো পুরস্কারই গেছে এই দুই ক্লাবের দখলে। রিয়াল-বার্সার দাপটের ভিড়ে একটা পুরস্কারই গেছে অন্য ক্লাবে। বর্ষসেরা আফ্রিকান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ভ্যালেন্সিয়ার সোফিয়ান ফেগুলি। মেসির পাশাপাশি বার্সিলোনার আরও দুই খেলোয়াড় জিতেছেন পুরস্কার। ২০১৪-১৫ মৌসুমে সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন বার্সার চিলিয়ান গোলরক্ষক ক্লডিও ব্রাভো। লা লিগার সেরা দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন নেইমার। সেরা কোচের পুরস্কারও উঠেছে বার্সিলোনার লুইস এনরিকের হাতে। মেসি ও নেইমার জিতলেও হাত খালি থেকেছে বার্সার আরেক তারকা লুইস সুয়ারেজের। কোন পুরস্কারই জোটেনি এই উরুগুইয়ানের। দুটি পুরস্কার গেছে বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে।

সেরা ডিফেন্ডার নির্বাচিত হয়েছেন রিয়ালের অধিনায়ক সার্জিও রামোস। সেরা মিডফিল্ডার হয়েছেন জেমস রড্রিগুয়েজ।

অবশ্য একেবারে খালি হাতে ফিরতে হয়নি এ সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনাল্ডোকে। দর্শকদের ভোটে ‘ফ্যানস ফাইভ স্টার প্লেয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন সি আর সেভেন। তবে এতে হয়ত মন ভরেনি পর্তুগিজ তারকার। এ কারণেই হয়ত অনুষ্ঠানে আসেননি রিয়াল তারকা। তার হয়ে পুরস্কার নিয়েছেন সতীর্থ রামোস। পুরস্কারের মঞ্চে এসে রামোসকে কথা বলতে হয়েছে রিয়ালের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে। তিনি বলেন, কঠিন একটা সপ্তাহ গেছে, অনেক বাজে ফল হয়েছে। এল ক্ল্যাসিকোতে যেভাবে হেরেছি তা নেয়া বেশ কঠিন। তবে এখন সব ভুলে গিয়ে নিশ্চিত করতে হবে আমরা যেন আর কোন পয়েন্ট না হারাই।