২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজনে বাফুফের তোড়জোড়

  • ভেন্যু হিসেবে ঢাকা নিশ্চিত অপরটি হবে সিলেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আগামী ৬-২০ জানুয়ারি (সম্ভাব্য) পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ।’ চতুর্থ এই আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ অংশ নেবে মোট ছয় দেশ। তবে এই আসর আয়োজন নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় আছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কেননা, ডিসেম্বরে (২৩ ডিসেম্বর-৩ জানুয়ারি) সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ফেব্রুয়ারিতে (৬-১৬) সাউথ এশিয়ান গেমস ফুটবলে অংশ নেবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ভারতের কেরালায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অংশ নিতে হবে মাত্র দুইদিন বিশ্রাম নিয়ে! অনেকেই বলেছেন, এর ফলে বাংলাদেশ দলের রেজাল্ট আশানুরূপ নাও হতে পারে। তবে এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলতে গেলে সবারই একই সমস্যা হবে, কাজেই এটা কোন সমস্যা হতে পারে না।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সর্বশেষ খবর কি? সোহাগ জানান, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে। সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, ওই সময়ে তাদের জাতীয় দলের আরেকটি টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। মিয়ানমারও একই কথা জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আফগানিস্তান জানতে চেয়েছে কোন্ কোন্ দল অংশ নিচ্ছে, সেটা তাদের জানাতে। তারা আরও বলেছে গত বছর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন ছিল বেশ প্রশংসনীয়, যদিও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে তাদের সেই দুঃখ কিছুটা কমেছে, যখন কদিন আগে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাবকাপ ফুটবল আসরে ওদের দেশের একটি ক্লাবকে (বাজান ডি স্পিন ঘার) খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে মোট কথা হচ্ছেÑ সব দেশই তাদের জাতীয় দল পাঠানোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।’ এই আসরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সবাই তাদের জাতীয় দল পাঠাবে বলেই আশা করছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক। যদিও গত আসরে অনেক দেশই তাদের সিনিয়র বা জাতীয় দলকে না পাঠিয়ে যুব দল বা অনুর্ধ-২৩ দলকে পাঠিয়েছিল। ওই টুর্নামেন্টটিকে ফিফা সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটাগরির টুর্নামেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলেই আশাবাদী সোহাগ।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সাফ অঞ্চলের মাত্র একটি দল কেন? ‘আমরা তো কদিন পরেই সাফ সুজুকি কাপ এবং এসএ গেমস ফুটবল খেলছিই। এ জন্য আমরা চাচ্ছি আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপারে প্রাধান্য দিতে। কোন কারণে যদি আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো খেলতে না পারে বা দল কমে যায়, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সাফ অঞ্চলের দেশগুলোকে বেছে নিতে হবে। যদিও এখন সাফ অঞ্চলের একটি দল খেলবে (শ্রীলঙ্কা)। আমরা চাচ্ছি সাফ অঞ্চলের চেয়ে আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোকে খেলাতে। কারণ ওই অঞ্চলের ফুটবল সাফ অঞ্চলের চেয়ে গুণমত মানে শ্রেয়তর। ফলে আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে খেললে বাংলাদেশ দলের খেলার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।’ সোহাগের ব্যাখ্যা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাছাড়া এখন প্রতিটি দেশই তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। সবারই টাইট সিডিউল আছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন করাটা রীতিমতো একটি চ্যালেঞ্জ।’

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের তৃতীয় আসর। ১৯৯৭ সালে প্রথম এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতির জনকের নামের এ টুর্নামেন্ট।

২০১৪ আসরে (২৯ জানুয়ারি-৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রুপিং অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’তে ছিল মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ ‘বি’তে ছিল বাহরাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড। মোট ৯টি খেলার ৫টি হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। আর ঢাকার বাইরে সিলেটে একটি সেমিফাইনাল ম্যাচসহ ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের খেলাগুলোর ভেন্যু হিসেবে ঢাকা নিশ্চিত। অপর ভেন্যুটি সিলেট হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি বলে জানান সোহাগ। গত আসরে অংশ নেয়া ছয় দলের মধ্যে চারটিই ছিল অনুর্ধ-২৩ দল। শুধু শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ জাতীয় দল অংশ নেয় ওই টুর্নামেন্টে। এখন দেখার বিষয় এবার কয়টি দেশ তাদের জাতীয় দলকে পাঠায়।