২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেয়ার্নস নির্দোষ, খুশি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একটা কালিমা লেপ্টে গিয়েছিল। কলঙ্কের আঁচড়টা লেগেছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটেও (এনজেডসি)। সাবেক অলরাউন্ডার ক্রিস কেয়ানসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং, মিথ্যা সাক্ষী দেয়ার অভিযোগ। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলামও জড়িত এমন অভিযোগ করেছিলেন নিজের মামলা চলার সময়। সবমিলিয়ে দারুণ এক অস্বস্তির মধ্যে ছিল এনজেডসি। তবে সবকিছু থেকেই মুক্তি পেয়েছে কিউই বোর্ড। কারণ ইংল্যান্ডে চলমান ৯ সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার শেষে লন্ডন আদালত সোমবার কেয়ার্নসকে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি থেকে যেন বিশাল এক মুক্তি মিলেছে। তাই দারুণ সন্তুষ্ট এনজেডসি। এক বিবৃতিতে বোর্ড থেকে বলা হয়েছে ‘অপ্রীতিকর ও অসম্ভব কঠিন’ মামলায় কোন বিজয়ী নেই। তবে কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে ম্যাককুলাম ম্যাচ ফিক্সিং করেছেন এমন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এখন কেয়ার্নস খারিজ পেয়ে যাওয়ার পর ম্যাককুলাম যদি কোন ধরনের ঝামেলায় জড়িয়ে যান সেক্ষেত্রে এনজেডসি তার পাশে থাকবে এমনটাই জানানো হয়েছে বোর্ড থেকে।

ভারতীয় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ (আইপিএল) নিয়ে একটি ঝামেলা তো ছিলই। এর মধ্যে আবার ম্যাককুলাম আদালতে জানিয়েছিলেন কেয়ার্নস ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত। তবে সেসব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ম্যাককুলাম। তবে এখন মামলা শেষে যে রায় হয়েছে তাতে সন্তোষ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। এনজেডসি থেকে বলা হয় যে কোন ইস্যুতে ক্রিকেটাররা যে একসঙ্গে কথা বলেছে এ বিষয়টাই বেশ ভাল। এনজেডসি চেয়ারম্যান স্টুয়ার্ট হিল তার বোর্ডকে ‘ঐশ্বরিক ও খুব ভাল নৈতিক অবস্থা’ আছে বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এর ফলে আমাদের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমি গর্বিত যে এই বিষয়টি নিয়ে মানুষজন সামনে এগিয়ে এসেছে।’ সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, আন্দ্রে এডামস ও কাইল মিলস। এ বিষয়ে হিল বলেন, ‘এটা সবার জন্যই খুব অস্বস্তিকর সময় ছিল। কেয়ার্নসের পরিবার, পুরো ক্রিকেট পরিবার, সমর্থকদের জন্য। কিন্তু এখন কেউ জয়ী নয়।’

কেয়ার্নসের বিষয়টি প্রথম উঠে এসেছিল ২০১০ সালে। সে সময় আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদী এক টুইটারে লিখেছিলেন কেয়ার্নস ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত। এরপর ২০১২ সালে মোদীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন কেয়ার্নস। তবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের যে অভিযোগ আছে সেটা নিয়ে তিন সাবেক কিউই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করার। এখন সবকিছুরই সমাপ্তি ঘটলো। সব দায় থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন কেয়ার্নস। তবে ম্যাককুলাম তার বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেটার কি হবে? এ বিষয়ে যদি এখন কিউই অধিনায়কের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয় সেক্ষেত্রে এনজেডসি তার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন হিল। তিনি বলেন, ‘ব্রেন্ডন আমাদের একজন নিয়োজিত কর্মকর্তা। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখা এবং নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা। তাকে আমরা সব ধরনের অবমাননা কিংবা বিরক্তি থেকে মুক্ত রাখতে চাই।

আমরা আশা করছি সে পর্যন্ত বিষয়টি গড়াবে না। কিন্তু অবশ্যই আমরা ব্রেন্ডনকে সমর্থন দেব। কারণ তিনি এখন আমাদের অধিনায়ক এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নিয়োগপ্রাপ্ত। দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাকে আমাদের প্রয়োজন।’

নির্বাচিত সংবাদ