২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছয় বছরেও জরিমানা দেননি সহকারী কমিশনার ভূমি

  • হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষিত

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চ থেকে সরকারী সম্পত্তি লিজ দেয়া বেআইনী। সরকারের এ আইন বলবত থাকলেও তা অমান্য করে ১৯৮১ সালে অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেন তৎকালীন শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিভিশন মামলায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমিকে অবৈধভাবে অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেয়ার দায়ে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ঐ লিজ অবৈধ ঘোষণা করে। এ আদেশের ৬ বছর পার হয়ে গেলেও জরিমানার টাকা পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র কৃষক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বা তার আগে যে সমস্ত নাগরিক দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে চলে গেছে এবং তারা আর দেশে প্রত্যাবর্তন না করায় রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। দেশ স্বাধীনের পর রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে এ সমস্ত সম্পত্তি রক্ষার্থে অধ্যাদেশ জারি হয়। এতে ১৯৭৪ সনের ২৩ মার্চের পর থেকে অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেয়ার বিধানকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ওই দিন থেকে অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেয়া বে-আইনী। কিন্তু এ আদেশকে উপেক্ষা করে জেলার শ্রীনগর থানার এসিল্যান্ড অর্পিত সম্পত্তি লীজ প্রদান করেন। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রূপ লিজ দেয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। জেলার শ্রীনগর থানার রুশদি গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে দরিদ্র কৃষক আলী মোড়ল রুশদি মৌজার তিনটি দাগে মোট ১৪০ শতাংশ ভুমি মহান মুক্তিযুদ্ধের আগেই খরিদ সূত্রে ভোগদখলে থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তার অজ্ঞতার কারণে তাদের নামে ওই সম্পত্তি নামজারি না হওয়ার সুযোগে তা অর্পিত তালিকায় চলে যায়। এক পর্যাযে বিগত ১৯৮১ সালে একই উপজেলার একই গ্রামের মৃত অশ্বিনী কুমার দাসের ছেলে কানাই লাল দাস কৌশলে ততকালীন এসিল্যান্ডকে দিয়ে বেআইনীভাবে লিজের মাধ্যমে ওই ১৪০ শতাংশ জমি বাগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ওই সম্পত্তিটি নিয়ে আলী দেওয়ানী আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় কানাই লালের কাছে হেরে যান কৃষক আলী। আলী হাইকোর্টে নং সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন। যার রায় হয় ২০০৯ সালের ২৩ জুন।